প্রধানমন্ত্রীর শুভেচ্ছা কার্ডে ছবি এঁকে ১ লাখ টাকা পেল ফারহান

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ‘বাংলা নববর্ষ’ ও ‘ঈদুল আজহার শুভেচ্ছা’ কার্ডের ছবি এঁকে এক লাখ টাকা পুরস্কার পেল বাগেরহাটের বুদ্ধি প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মো. ফারহান খান (১৯)।

‘প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ ও কল্যাণ তহবিল’ থেকে তাকে এ সম্মানী দেওয়া হবে।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অ্যাসাইনমেন্ট অফিসার আফরোজা বিনতে মনসুর গাজী লিপি স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে এই সম্মানীর কথা জানানো হয়।

ফারহানের এমন সফলতায় আনন্দে ভাসছেন মা-বাবা ও স্বজনরা। শিক্ষকদের দাবি উপযুক্ত প্রশিক্ষণ ও সঠিক গাইডলাইন পেলে বিশ্বমানের শিল্পী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে তার।

ফারহানের সহপাঠী বুদ্ধি প্রতিবন্ধী সজিব চক্রবর্তী বলেন, ফারহান ভাই অনেক ভাল। সব সময় আমাদের সঙ্গে মিলেমিশে থাকে। কখনও রাগ করে না। ভাই পুরস্কার পাওয়ায় আমরা খুব খুশি হয়েছি।

শুধু সজিব নয়, বাগেরহাট বুদ্ধি প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়ের অন্যান্য শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও কর্মচারী সবাই খুশি ফারহানের সাফল্যে।

বুদ্ধি প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক দিপান্বিতা পাল বলেন, ফারহান অনেক শান্তশিষ্ট একটি ছেলে। ইশারার মাধ্যমে সে সবকিছু বলে। শেখার জন্য নিজে নিজে অনেক চেষ্টা করে। ওর পুরস্কার পাওয়ায় আমরা সবাই অনেক খুশি হয়েছি।

ফারহানের মা রেক্সোনা বলেন, আমার ছেলে ফারহান জন্মের পর থেকেই বাক ও শ্রবণ প্রতিবন্ধী। অনেক ডাক্তার দেখানো হয়েছে, কোনো কাজ হয়নি। ছোটবেলা থেকে ও ছবি আঁকত। মাটি ও চক দিয়ে ছবি এঁকে অনেক দেওয়াল নষ্ট করেছে সে। তারপরও আমি তাকে উৎসাহ দিয়েছি। এবার আল্লাহর ইচ্ছায় জাতীয় পর্যায়ে ‘বাংলা নববর্ষ ১৪২৯’ এবং ‘পবিত্র ঈদুল ফিতর ২০২২’ এর শুভেচ্ছা কার্ডে ফারহানের ছবি ছাপা হয়েছে। আমি অনেক খুশি হয়েছি।

রেক্সোনা আরও বলেন, সংসারে অনেক অভাব। অসুস্থ থাকার পরও স্বামী একটি কোম্পানিতে চাকরি করে। আর বড় ছেলে বাসার সামনে একটি দোকান দিয়েছে। ফারহানকে ছবি আঁকা শেখাতে একজন ভালো শিক্ষক দেওয়ার মতো সামর্থ্য আমাদের নেই। সরকারিভাবে কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা বিভাগে আমার ফারহানকে চিত্রাঙ্কন শেখালে আমার মনে হয় ও জগৎখ্যাত শিল্পী হতে পারতো।

বাগেরহাট-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি অ্যাড. মীর শওকত আলী বাদশা বলেন, প্রতিবন্ধীরা কখনও বোঝা নয়। সঠিক পরামর্শ ও উপযুক্ত পরিবেশ পেলে এরাও অনেক ভাল কিছু করতে পারে। আমাদের শিক্ষার্থী ফারহান খান এর জ্বলন্ত প্রমাণ। এর আগেও আমাদের এই বিদ্যালয় থেকে দুইজন শিক্ষার্থী অস্ট্রেলিয়ায় অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক অলিম্পিকে অংশগ্রহণ করে স্বর্ণপদক জিতেছিল। আমাদের শিক্ষার্থীদের নিয়ে আমরা গর্ব করি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *