স্বপ্নের পদ্মা সেতু ঝালকাঠিকে ফিরিয়ে দেবে হারানো ঐতিহ্য- এ্যাড. খান সাইফুল্লাহ পনির

ঝালকাঠি প্রতিনিধি: স্বপ্নের পদ্মা সেতু উদ্বোধনের দিনক্ষণ গণনা শেষ পর্যায়ে। আর মাত্র কয়েকদিন পরই উদ্বোধন হতে যাচ্ছে দেশের প্রথম দ্বিতল সেতু পদ্মা বহুমুখী সেতু। দ্বিতীয় কলকাতা খ্যাত ঝালকাঠিকে আবার তার হারানো ঐতিহ্য ফিরিয়ে দেবে স্বপ্নের পদ্মা সেতু। এমন ভাবনায় জেলার রাজনৈতিক নেতৃবন্দসহ সর্বস্তরের মানুষ নতুন-নতুন স্বপ্নের জাল বোনা শুরু করেছেন।

ঝালকাঠি জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব খান সাইফুল্লাহ পনির বলেন, স্বপ্নের পদ্মা সেতু: ঝালকাঠিকে আবার ফিরিয়ে দেবে তার হারানো ঐতিহ্য।

ঝালকাঠি জেলা সদর থেকে লঞ্চ বা বাসযোগে ঢাকা পৌছাতে সময় লাগতো ১২ থেকে ১৬ঘন্টা। আবার কখনও ফেরিঘাটে যানজটের কারনে সময় লেগে যেত ১৮ থেকে ২০ ঘন্টা। উদ্বোধনের পরে পদ্মা সেতুর ওপর দিয়ে বাসযোগে পদ্মা সেতু পাড়ি দিয়ে সাড়ে তিন থেকে চার ঘন্টায় পৌঁছানো যাবে ঢাকা। ঝালকাঠির অন্যতম কৃষিপণ্য পেয়ারা ও আমড়া মাত্র চার ঘন্টায় সতেজ অবস্থায় পৌঁছে যাবে ঢাকা ও এর আশপাশের জেলায়। পেয়ারা ও আমড়া চাষিরা পাবে তাদের শ্রমের ন্যায্যমূল্য। তাই এখন সেতুর উদ্বোধনকে কেন্দ্র করে শুধু পেয়ারা-আমড়া চাষিরা খুশি নয়, খুশী লেবু ও কলা চাষিরাও। যারা শ্রম বিক্রি করে পেট চালান তারাও স্বপ্ন দেখছেন পদ্মা সেতু চালুর পরই জেলায় গড়ে উঠবে নানা ধরণের ক্ষুদ্র মাঝারি শিল্প কল কারখানা। তাদের আর শ্রম বিক্রি করতে ঢাকায় যেতে হবে না। পদ্মা সেতু উদ্বোধন এবং এর ওপর থেকে যানবাহন চলাচল শুরু হলে ঝালকাঠি জেলার মানুষ কিভাবে উপকৃত হবে সেই স্বপ্নের কথা জানিয়েছেন ঝালকাঠি জেলার রাজনৈতিক দলের নেতারা।

ঝালকাঠি জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট খান সাইফুল্লাহ পনির এক বিবৃতিতে বলেন- পদ্মা সেতু শুধু একটি সেতু নয়, এটি হচ্ছে ১৬ কোটি মানুষের স্বপ্নের বাস্তবায়ন। আর এ স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। নানা ষড়যন্ত্র মোকাবেলা করে তিনি এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছেন। শেখ হাসিনা যদি পদ্মা সেতু বাস্তাবায়ন না করতেন তাহলে আগামী ৫০ বছরেও এ সেতু বাস্তবে রূপ পেত না। পদ্মা সেতুর কারনে দক্ষিণের জেলা ঝালকাঠির ৭ লাখ মানুষ নানাভাবে উপকৃত হবে। ঝালকাঠির ব্যবসায়ীরা উপকৃত হবে সবচেয়ে বেশী। আমাদের ঝালকাঠিতে রড, সিমেন্ট ও টিনের ব্যবসার মোকাম রয়েছে।

এ মোকামে এখন অতি সহজে কম সময়ে সড়কপথে ঢাকা-চট্রগ্রাম থেকে মালামাল আসতে পারবে। যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজ হওয়ায় দূরত্ব কমে যাওয়ায় পরিবহন খরচ কমবে, যার ফলে সাধারণ মানুষ কিছুটা কমমূল্যে বা ন্যায্যমূল্যে রড, সিমেন্ট, টিন কিনতে পারবে। এতদিন এসব পণ্য বেশীরভাগ নদী পথে জাহাজে বা কার্গোতে আসতো। ধারণ ক্ষমতা বেশী হওয়ার কারণে এসব কার্গো-জাহাজকে মালামালে পরিপূর্ণ হয়ে আসতে অপেক্ষা করতে হতো। ব্যবসায়ীদের পাশাপাশি আমরা যারা রাজনীতির সঙ্গে জড়িত তারাও সরসারি পদ্মা সেতুর কারনে উপকৃত হবো। আগে ঢাকাতে কোন মিটিং থাকলে আমাদের একদিন আগে গিয়ে হোটেলে অবস্থান করতে হতো।

এখন পদ্মা সেতুর কারনে সকালে গিয়ে মিটিং শেষ করে আবার রাতের বেলা নিজ বাসায় ফিরে আসতে পারবো। পদ্মা সেতু আমাদের জন্য একটা মস্ত বড় আর্শিবাদ। বাংলাদেশ যতদিন থাকবে পদ্মা সেতুর কারনে এ দেশের মানুষের সঙ্গে ঝালকাঠি জেলার মানুষও সারাজীবন শেখ হাসিনাকে মনে রাখবেন। পদ্মা সেতুর কারনে এক সময়ের দ্বিতীয় কোলকাতা খ্যাত ঝালকাঠি জেলা তার হারানো ঐতিহ্য আবার ফিরে পাবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *