ধর্ষণের মামলা তুলে নিতে ‘যৌন হয়রানি’, সাবেক ছাত্রলীগ নেতাসহ গ্রেফতার ২

ভূঞাপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি: টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে স্বামীকে হত্যার হুমকি দেয়াসহ ধর্ষণ মামলা তুলে নেয়ার জন্য রাস্তা অবরোধ করে যৌন হয়রানি করার অভিযোগে সাবেক ছাত্রলীগ নেতাসহ দুইজনকে গ্রেফতার করেছে থানা পুলিশ।

গ্রেফতাররা হলেন- পৌর এলাকার ছাব্বিশা গ্রামের কামরুজ্জামান মন্ডলের ছেলে ইবরাহীম খাঁ সরকারি কলেজ ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি আসিফুজ্জামান হৃদয় মণ্ডল (২৫) ও বীরহাটি গ্রামের মিন্টু সরকারের ছেলে রাব্বী সরকার (২১)।

গত ১৩ জুন ভুক্তভোগী কলেজছাত্রীর অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে রোববার (১৯ জুন) রাতে অভিযান চালিয়ে পৌর শহরের বাসস্ট্যান্ড চত্বরের মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবনের সামনে থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়।

সোমবার (২০ জুন) বিকালে ভূঞাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মুহাম্মদ ফরিদুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এ ব্যাপারে ওসি মুহাম্মদ ফরিদুল ইসলাম জানান, ২০২০ সালে এক কলেজছাত্রী অভিযুক্ত আসামি হৃদয়ের বিরুদ্ধে ধর্ষণের মামলা করেন। ওই মামলায় কয়েক মাস কারাভোগের পর জামিনে আসেন আসামি হৃদয়। এরপর থেকেই বিভিন্ন সময়ে বাদী কলেজছাত্রীকে তার বিরুদ্ধে ধষর্ণের মামলা তুলে নেয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করে আসছিল বলে অভিযোগ করেন তিনি।

এরই ধারাবাহিকতায় গত ১৩ জুন বিকেলে কলেজের পুকুরপাড় দিয়ে ওই কলেজছাত্রী বাড়ি যাওয়ার সময় তাকে রাস্তায় একা পেয়ে ধর্ষণের মামলা তুলে নেয়ার জন্য পথরোধ করে যৌন হয়রানি করে। গত রোববার (১৯ জুন) এ বিষয়ে থানায় অভিযোগ করেন ওই কলেজছাত্রী।

অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে হৃদয় এবং তার বন্ধু রাব্বীকে গ্রেফতার করা হয়। সোমবার দুপুরে তাদের টাঙ্গাইল আদালতে পাঠানো হয়েছে।

অভিযোগে জানা যায়, ২০২০ সালে কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি হৃদয় ওই কলেজছাত্রীকে নানা সময়ে কুপ্রস্তাব দিতো। তার প্রস্তাবে রাজি না হলে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে তাকে কলেজে আসা-যাওয়া বন্ধ করে দেয় এবং তার স্বামীকে হত্যা করবে বলে হুমকি দিয়ে বিভিন্ন সময় ধর্ষণ করত। এতে ওই কলেজছাত্রী মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েন।

একপর্যায়ে ধর্ষণের কথা প্রকাশ করে চিরকুট লিখে ওই কলেজছাত্রী আত্মহত্যার সিদ্ধান্ত নেন। স্বামী চিরকুটটি দেখে ফেলায় তার কাছে ঘটনা খুলে বলেন।

এরপর ওই ভুক্তভোগী কলেজছাত্রী কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি হৃদয়ের বিরুদ্ধে অপহরণ ও ধর্ষণের অভিযোগে থানায় মামলা দায়ের করেন। পরে ৩ জানুয়ারি হৃদয়কে গ্রেপ্তার করে ৪ জানুয়ারি টাঙ্গাইল আদালতে প্রেরণ করে থানা পুলিশ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *