সাইফুল ইসলাম মুকুল, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট: শারীরিক সমস্যা থেকে চিরমুক্তির জন্য কবিরাজের পরামর্শে ৭ বছরের শিশুকে ধর্ষন করেছে মেজবাহুল হক ঘুটু নামে এক যুবক। ঘটনাটি ঘটেছে রংপুর গঙাচড়া উপজেলার দক্ষিণ খলেয়া কাহারটারী গ্রামে। এ ঘটনায় মামলার মুল আসামীসহ ৩ জনকে গ্রেফতার করেছে র্যাব।
শনিবার দুপুরে সংবাদ সম্মেলনে র্যাব- ১৩ অধিনায়ক রেজা আহমেদ ফেরদৌস জানিয়েছেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে, আসামী মেজবাহুল স্বীকার করেছে।
কবিরাজের পরামর্শ অনুযায়ী গত ২ জুন স্কুল থেকে ফেরার পথে ভুক্তভোগি ৭ বছরের শিশুকে পূর্ব পরিকল্পিতভাবে টাকার প্রলোভন দেখিয়ে বাড়িতে ডেকে নেয় ধর্ষণে সহায়তা করে তার আত্মীয় সুর্যিনা বেগম। এরপর মোবাইলে গেম ও অশ্লীল সিনেমা দেখানোর পর জোরপূর্বক ধর্ষণ করে তাকে।
ভুক্তভোগি শিশু চিৎকার করলেও সুর্যিনা বেগম ও আজহারুল ইসলাম খদর কোন প্রকার এগিয়েও আসেননি বরং কেউ যাতে জানতে পারে সেই ব্যবস্থাই করেন। পরবর্তিতে ধর্ষক ভুক্তভোগীকে বুঝিয়ে এবং হুমকি দিয়ে বাড়িতে পাঠিয়ে দেন। পরে ভুক্তভোগী শিশু অসুস্থ্য হয়ে পরলে অভিভাবক রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করান। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী শিশুর বাবা বাদী হয়ে ৪ জুন গংগাচড়া থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন।
এদিকে ঘটনাটি চাঞ্চল্যকর হওয়ায় এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমে আসলে র্যাব ছায়া তদন্ত শুরু করে। তদন্তের এক পর্যায়ে শনিবার গাইবান্ধা জেলার গোবিন্ধগঞ্জ পৌর এলাকা থেকে ধর্ষক মেজবাহুল হক ঘুটু এবং ধর্ষণে সহায়তাকারী আজহারুল ইসলাম খদের (৫০) সুর্যিনা বেগমকে গ্রেফতার করে।
গ্রেফতারকৃতদের সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হবে বলেও জানান র্যাব ১৩ অধিনায়ক। সেই সাথে সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে ঐ কবিরাজের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে তাকেও আইনের আওতায় নেয়া হবে।
