চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে বিএম কনটেইনার ডিপোতে ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনায় এখনও নিখোঁজ রয়েছেন শফিউল ইসলাম (২২) নামের এক ফায়ার সার্ভিস কর্মী। ঘরে তার পাঁচ অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী দিন পার করছে আতঙ্ক আর অনিশ্চয়তায়। মাত্র এক বছর হয়েছে তাদের বিয়ের। এদিকে পরিবারের একমাত্র উপার্জন সক্ষম মানুষটির হদিস না পেয়ে দিশেহারার মতো ছুটছে শফিউলের বাবা। সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া থেকে ছেলের খোঁজ জানতে ঢাকায় ফায়ার সার্ভিসের হেড কোয়াটারে বসে রয়েছেন তিনি।
নিখোঁজ ফায়ার সার্ভিস কর্মী শফিউল ইসলাম (২২) দীর্ঘ দুই বছর ধরে কুমিরা ফায়ার ষ্টেশনে ফায়ার ফাইটার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তিনি উল্লাপাড়া উপজেলার সদর ইউনিয়নের নাগরৌহা গ্রামের আব্দুল মান্নান হোসেনের ছেলে।
উল্লাপাড়া ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় সুত্রে জানা যায়, চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে বিএম কনটেইনার ডিপোতে ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনায় কুমিরা ফায়ার ষ্টেশন কর্মীদের সাথে শফিউল ইসলাম ও উদ্ধার অভিযানে অংশ নেয়। পরে অবস্থার আরো বেগতিক হলে ফায়ার সার্ভিসের ২৫ টি ইউনিট উদ্ধার অভিযানে অংশ নেয়। এ ঘটনায় মোট মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়ে ৪৯ জনে। তবে এখন পর্যন্ত শফিউল ইসলাম নিখোঁজ রয়েছে। উল্লাপাড়ার বাসিন্দা নিখোঁজ শফিউল ইসলামের পরিবার এ ঘটনা শোনার পর ঢাকা ফায়ার সার্ভিসের হেড কোয়ার্টার সহ চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ ও সীতাকুণ্ডে শফিউল ইসলামকে খোঁজার জন্য অবস্থান করছে।
এবিষয়ে নিখোঁজ শফিউল ইসলামের বাবা আব্দুল মান্নানের সাথে মুঠোফোন কথা বলে জানা যায়,তার ছেলের সন্ধানে তিনি বর্তমানে ফায়ার সার্ভিসের ঢাকা হেড কোয়ার্টার অফিসে অবস্থান করছে। পরিবারে দুটি সন্তানের মধ্যে শফিউল ইসলাম বড় এবং পরিবারের উপার্জনের একমাত্র হাতিয়ার। গত এক বছর আগে শফিউল ইসলাম বিবাহ বন্ধনে আবব্ধ হন। বর্তমানে তার স্ত্রী পাঁচ মাসের অন্তঃসত্ত্বা।
শফিউল ইসলামের বাবা আব্দুল মান্নান বলেন, এই সময় যদি শফিউলের কোন কিছু হয়ে যায় তাহলে আমরা একেবারে নিঃশ্ব হয়ে যাবো। তখন বেঁচে থাকার চেয়ে মরে যাওয়া ভালো। নিখোঁজ শফিউল ইসলামের বাবা আব্দুল মান্নান তাঁতের কাজ করতেন। বর্তমানে অসুস্থতায় ভুগছেন বলেও জানান তিনি।
এ বিষয়ে উল্লাপাড়া ফায়ার সার্ভিসের সহকারী ষ্টেশন অফিসার জালাল উদ্দিন বলেন,নিখোঁজের খবর পেয়ে উল্লাপাড়া ফায়ার সার্ভিসের পক্ষথেকে তার বাসায় খোঁজ খবর নেওয়ার জন্য যাওয়া হয়েছিল। শফিউলের পারিবারিক অবস্থা বেশি ভালো না। শফিউলের নিখোঁজে তার পরিবার দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।
