Home দেশের খবর কুশিয়ারায় বাড়ছে পানি উৎকণ্ঠায় মানুষ, পরিদর্শনে জেলা প্রশাসক

কুশিয়ারায় বাড়ছে পানি উৎকণ্ঠায় মানুষ, পরিদর্শনে জেলা প্রশাসক

0
156

এম এ মুহিত, নবীগঞ্জ (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি: বাড়ছে কুশিয়ারা নদীর পানি বাড়ছে নদীর তীরবর্তী মানুষের আতংক উৎকণ্ঠা। যেকোনো সময় লোকালয়ে পানি প্রবেশ করলে তলিয়ে যাবে ভিটেমাটি। হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলার দীঘলবাক ইউনিয়নে রাত জেঁগে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ পাহাড়া দিচ্ছেন বেশ কয়েকটি গ্রামের মানুষ।

এ বিষয়ে ইতিমধ্যে প্রশাসন নিয়মতি মনিটরিং করছে। বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের ঝুঁকিপূর্ণস্থান পরিদর্শন করেছেন হবিগঞ্জের জেলা প্রশাসক।

জানা যায়- টানা বৃষ্টি ও উজানের পাহাড়ি ঢলে কুশিয়ারাসহ অন্যান্য নদ-নদীর পানি ব্যাপক ভাবে বৃদ্ধি পায়। ফলে আতংক-উৎকণ্ঠা দেখা দেয় কুশিয়ারার তীরবর্তী দীঘলবাক ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামের মানুষের মাঝে। নদীর পানি ক্রমাগত বৃদ্ধি পাওয়ায় তৎপর হয় প্রশাসন। বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ মেরামতে ইতিমধ্যে ফেলা হচ্ছে বালিবর্তী ব্যাগ। রাত জেগে বাঁধ পাহাড়া দিচ্ছেন এলাকাবাসী। এদিকে কুশিয়ারা নদী ঘেঁষা দীঘলবাক ইউনিয়নের মাধবপুর ও গালিমপুর বন্যার পানিতে প্লাবিত হওয়ায় পানিবন্দি রয়েছেন ওই এলাকার কয়েক শতাধিক পরিবার। ইতিমধ্যে বাড়িঘর ছেড়ে তারা অবস্থান নিয়েছেন আশ্রয় কেন্দ্রে।

রবিবার (২২ মে) দুপুরে হবিগঞ্জের জেলা প্রশাসক ইশরাত জাহান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মিন্টু চৌধুরী, জেলা প্রকৌশলী আব্দুল বাতির, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ মহিউদ্দিন, উপজেলা প্রকৌশলী সাব্বীর আহমেদ, হবিগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মিনহাজ আহমেদ শোভন, দীঘলবাক ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ছালিক মিয়া, নবীগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি রাকিল হোসেন, সহ-সভাপতি এম এ মুহিত প্রমুখ।

রাধাপুর গ্রামের আব্দুল হামিদ জানান- চারিদিকে বন্যা, হঠাৎ নদীর পানি বাড়ায় আমরা ভয়ে আছি, সময় যত যাচ্ছে পানিও বাড়তেছে, গত বছর বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ মেরামত করায় এখনো বাড়িঘরে পানি ওঠেনি।

ফাদুল্লা এলাকার রহিম মিয়া জানান- বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের কিছু অংশ দেবে গেছে, পানি একেবারে বাঁধের সঙ্গে লেভেল হয়ে আছে, পানি আরও ১-২ ফুট বৃদ্ধি হলে ফাদুল্লাহসহ আশাপাশের গ্রাম প্লাবিত হতে পারে।

এ প্রসঙ্গে হবিগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মিনহাজ আহমেদ শোভন বলেন- কুশিয়ারা নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ার ধারাবাহিকতায় রবিবার সকাল ৯টা পর্যন্ত পানি ১ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়েছে, রবিবার দুপুর পর্যন্ত পানি বিপদসীমার ৫৫সেন্টিমিটার নিচে প্রবাহিত হচ্ছে। বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ মেরামতে বালিবর্তী ব্যাগ ফেলা হচ্ছে।

এ প্রসঙ্গে নবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ মহিউদ্দিন বলেন- আমরা সতর্ক অবস্থানে রয়েছি, নিয়মিত আমাদের গ্রামপুলিশসহ জনপ্রতিনিধি ও এলাকাবাসী বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ রাত জেগে পাহাড়া দিচ্ছেন।

জেলা প্রশাসক ইশরাত জাহান বলেন, বন্যা প্রতিরোধে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ রক্ষায় প্রয়োজনীয় প্রদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। কোথাও বাঁধ ভেঙে গেলে ও নিম্নাঞ্চলে পানি প্রবেশ করলে সাথে সাথে প্রশাসনকে জানানোর জন্য এলাকাবাসীর প্রতি আহবান জানান তিনি। তিনি বলেন, দীঘলবাকের মাধবপুর গালিমপুরে কিছু অংশে পানি উঠেছে, ইতিমধ্যে ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সহায়তা প্রদান করা হয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here