সিরাজগঞ্জে ধর্ষণের অভিযোগে র‌্যাব সদস্য কারাগারে

রাজিব আহমেদ রাসেল, স্টাফ রিপোর্টার: বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণের অভিযোগে দায়ের হওয়া একটি মামলায় এক র‌্যাব সদস্যকে জেলহাজতে প্রেরণ করেছেন করেছেন আদালত।

বুধবার দুপুরে সিরাজগঞ্জ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের (২) বিচারক আব্দুল্লাহ আল মামুন এ আদেশ দেন বলে আসামীপক্ষের আইনজীবি এ্যাড: আবুল কালাম আজাদ জানান।

র‌্যাব সদস্য আবুল হাসনাত (২৬) সিরাজগঞ্জের সলঙ্গা থানার চড়িয়া কালিবাড়িতে অবস্থিত র‌্যাব-১২ এর প্রধান কার্যালয়ে কনষ্টেবল পদে কর্মরত রয়েছেন। তিনি ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট উপজেলার চাঁদশ্রী গ্রামের সাইফুল ইসলামের ছেলে।

আর মামলার বাদী সুরভী আক্তার প্রীতি (২১) কুমিল্লা সদর দক্ষিণের গোয়ালমখন রাজাপাড়ার মৃত স্বপন মিয়ার মেয়ে।

আইনজীবি এ্যাড: আবুল কালাম আজাদ বলেন, ধর্ষণ মামলায় গ্রেপ্তারী পরোয়ানা জারি হওয়ায় পর র‌্যাবের কনষ্টেবল আবুল হাসনাত স্বেচ্ছায় আদালতে হাজির হয়ে জামিন আবেদন করেন। আদালত শুনানী শেষে তাকে জেলহাজতে প্রেরণের নির্দেশ দেন।

মামলার নথি থেকে জানা যায়, আসামী বিবাহিত আবুল হাসনাত কুমিল্লার কোতয়ালী থানায় কনষ্টেবল পদে চাকুরীরত অবস্থায় মামলার বাদীর সাথে তার পরিচয় হয়। বিবাহিত প্রীতি তার স্বামীর বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করলে আইনী সহায়তা পাইয়ে দিতে আসামী আবুল হাসনাত তাকে আশ্বস্ত করেন। এ অবস্থায় উভয়ের মধ্যে প্রেমের সর্ম্পক গড়ে উঠে। একপর্যায়ে ২০১৯ সালের ১৫ জুলাই সিলেটের এক অজ্ঞাত মাওলানার মাধ্যমে তাদের বিবাহ হয়।

তবে সরকারীভাবে রেজিষ্ট্রিভুক্ত করা হয়নি। এ অবস্থায় তারা স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে গাজিপুর পুলিশ লাইনের কোয়াটারে ১৮ মাস ঘর-সংসার করেন। একপর্যায়ে কনষ্টেবল হাসনাতের সিরাজগঞ্জের র‌্যাব-১২ প্রধান কার্যালয়ে বদলী হয়। এরপর ২০২১ সালের ১ অক্টোবর সে সিরাজগঞ্জের সলঙ্গা থানার হাটিকুমরুল মোড় এলাকার আল আমিনের ভাড়া বাসায় বাদীকে নিয়ে আসেন। সেখানেও তারা স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে বসবাস করতে থাকেন। কিছুদিন পর কনষ্টেবল হাসনাত বিয়ের বিষয়টি অস্বীকার করে প্রীতিকে এড়িয়ে চলতে থাকে।

এ অবস্থায় ২০২১ সালের ৭ ডিসেম্বর ভুক্তভোগী প্রীতি বাদী হয়ে সিরাজগঞ্জ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল (২) আদালতে কনষ্টেবল হাসনাতের বিরেুদ্ধে ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে সিরাজগঞ্জ পিবিআইকে তদন্তপূর্বক প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন। পিবিআইয়ের পুলিশ পরিদর্শক মো: সোহেল রানা মামলার তদন্ত শেষে ২০২২ সালের ১০ মার্চ আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করেন। ধর্ষণের অপরাধ প্রাথমিকভাবে সত্য বলে প্রতীয়মান হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। এরপর আদালত প্রতিবেদনটি আমলে নিয়ে ৮ মে কনষ্টেবল আবুল হাসনাতের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারী পরোয়ানা জারি করলে বুধবার সে আদালতে আত্মসমার্পন করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *