লেখক ভট্টাচার্যকে নিজ উপজেলায় অবাঞ্ছিত ঘোষণা

বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্যকে যশোরের মণিরামপুরে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেছে উপজেলা ছাত্রলীগের ১৯ শাখার নেতৃবৃন্দ।

ফেসবুকে বিজ্ঞপ্তি প্রচারের মাধ্যমে অযোগ্যদের দিয়ে উপজেলা ছাত্রলীগের কমিটি ঘোষণা করায় শনিবার (৩০ এপ্রিল) বিকালে যশোর প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ঘোষিত নতুন কমিটিকে প্রত্যাখ্যান করে এ ঘোষণা দেন তারা।

মণিরামপুর উপজেলাধীন সরকারি কলেজ, পৌর ও ১৭টি ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি ও সম্পাদকরা এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন। ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য যশোরের মণিরামপুরের সন্তান।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, গত ২৯ এপ্রিল জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি সালাউদ্দিন কবির পিয়াস ও সাধারণ সম্পাদক তানজীব নওশাদ পল্লবের স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে মণিরামপুর উপজেলা ছাত্রলীগের কমিটি বিলুপ্ত করা হয়। একই সঙ্গে পাঁচ সদস্য বিশিষ্ট আংশিক কমিটি ঘোষণা করা হয়। কমিটির সভাপতি করা হয় মাহমুদুল হাসান রকি ও সাধারণ সম্পাদক করা হয় রমেশ দেবনাথকে। এ কমিটিতে একজন সহ-সভাপতি, এক জন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও একজনকে সাংগঠনিক সম্পাদক করা হয়েছে।

ঘোষিত উপজেলা কমিটিতে অনভিজ্ঞ, বিতর্কিত, রাজনৈতিক ভারসাম্যহীন এবং সদ্য এসএসসি পাস করা শিক্ষার্থীকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে বলেও সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।

ঘোষিত উপজেলা ছাত্রলীগের কমিটিকে ‘একটি শিশু কমিটি’ আখ্যা দিয়ে খেদাপাড়া ইউনিয়ন ছাত্রলীগের আহ্বায়ক হাদিউজ্জামান বলেন, ঘোষিত কমিটির সভাপতি মণিরামপুর বাজারে একটি ফাস্টফুড ব্যবসায়ী এবং তার শিক্ষাগত যোগ্যতা এইচএসসি পর্যন্ত। এমনকি উপজেলায় ছাত্র সমাজের কাছে তিনি বিবাহিত ও ডিভোর্সি হিসেবে সমালোচিত।

তিনি আরও বলেন, সাধারণ সম্পাদক রমেশ দেবনাথের ছাত্রত্বের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এস এম বাপ্পী হুসাইনর ইউনিয়ন বা ওয়ার্ড শাখায় কোনো সাধারণ সদস্য পদ নেই। সাংগঠনিক সম্পাদক সাইফুর রহমান অভি এসএসসি পাস এবং তাকে ছাত্রলীগের কর্মকাণ্ডের দেখা যায়নি। এরা সবাই মণিরামপুর উপজেলা ছাত্রলীগের অপরিচিত মুখ। আমরা দীর্ঘদিন উপজেলা রাজনীতি সক্রীয় থেকেও পদ পদবি না পেয়ে হতাশ।

অর্থের বিনিময়ে বিতর্কিত ও অযোগ্যদের পদ দেওয়া হয়েছে দাবি করে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্যকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা হয়। একই সঙ্গে উপজেলার ১৭টি ইউনিয়নের সক্রিয় সভাপতি-সম্পাদক এবং আহ্বায়করা গণপদত্যাগের ঘোষণাও দেন।

সংবাদ সম্মেলনে ছাত্রলীগ নেতা হাদিউজ্জামান বলেন, ছাত্রলীগের কমিটিতে বিতর্কিত নেতাদের বিষয়ে সংবাদ সম্মেলন করতে এসে প্রেস ক্লাব সামনে সন্ত্রাসীদের কাছে হামলার শিকার হয়েছি। এ ঘটনায় ১০ জন ছাত্রলীগ নেতা আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে মণিরামপুর সরকারি কলেজের আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান ও ভোজগাতি ইউনিয়নের আহ্বায়ক হারুন অর রশিদের অবস্থা গুরুতর। তারা শহরের একটি বাড়িতে সন্ত্রাসীদের ভয়ে আত্মগোপনে চিকিৎসা নিচ্ছেন। তবে কারা এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত সংবাদ সম্মেলনে তাদের নাম প্রকাশ করেননি তিনি।

এ বিষয়ে যশোর জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক তানজীব নওশাদ পল্লব বলেন, মণিরামপুরে একটি সুন্দর কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। সেখানে আরও কয়েকজন ত্যাগী নেতার নাম অন্তর্ভুক্ত করতে কেন্দ্রে নাম প্রস্তাবনা করা হয়েছে। পদবঞ্চিতদের ওপর যারা হামলা চালিয়েছে তারা কেউ ছাত্রলীগ নেতা নন। এরপরও এমন হামলার ঘটনার সঙ্গে যদি কোনো ছাত্রলীগ নেতা জড়িত থাকে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *