প্রশংসিত হচ্ছে লাফজের সোশ্যাল এক্সপেরিমেন্টাল ভিডিও

রাজধানীর সিগন্যালে আটকে পড়া গাড়িগুলোর জানালায় উঁকি দিয়ে দিয়ে ফুল বিক্রির চেষ্টা করছে খেটে খাওয়া এক কিশোরী। তবে সাড়া মিলছে না খুব সহজে বিক্রি হচ্ছে না ফুল চড়া রোদে চোখেমুখে এক জীবনের ক্লান্তি আর হতাশা নিয়ে এক সময় মেয়েটি বসে পড়ল ফুটপাতের আইল্যান্ডে। এ পর্যন্ত খুব সাদা মাটাই লাগছিলো ভিডিওটি।

কিন্ত পুরো গল্প বদলে গেল! হঠাৎ এক তরুণ যখন আইল্যান্ডে তার পাশে বসার অনুমতি নিয়ে তার কাছে ফুল চাইল। মেয়েটিকে বলল-আজ তার প্রিয় মানুষের জন্মদিন। তার জন্য ফুল নিতে হবে। কিন্ত পকেটে একবোরেই টাকা নেই। এক পর্যায়ে মেয়েটির কাছে বিনে টাকায় ফুল চেয়েই বসল যুবকটি। সেদিন ফুল বেঁচতে না পারলেও যুবকের আবদারে সাড়া এক মুহুর্ত দেরি করেনি ফুলের মত মন নিয়ে জন্ম নেয়া দ্ররিদ্র পরিবারের দায়িত্ববান ওই মেয়েটি। অচেনা-ছেলেটি কে বিনে টাকাতেই ফুল দিয়ে দিলো।

অভাবগ্রস্ত জীবনেও অচেনা মানুষের ইচ্ছে পূরণের এই উদার এবং অসাধারণ মানসিকতা খুব সহজেই নাড়া দেবে যে কাউকেই। এই গল্প গতানুগতিক আর দশটা সোশ্যাল এক্সপেরিমেন্টাল ভিডিও থেকে থেকে একবারেই আলাদা।

রমজানে সিংগাপুর ভিত্তিক লাইফ স্টাইল কোম্পানী বিলিভ প্রাইভেট লিমিটেডের জনপ্রিয় ব্র্যান্ড লাফজ নির্মিত সোস্যাল এক্সপেরিমেন্টাল এই ভিডিওটি হৃদয় ছুঁয়ে যাওয়া গল্পের প্রভাবেই নজর কেড়েছে মানুষের। সমাজের বিত্তবান মানুষ দরিদ্র মানুষের সহায়তায় এগিয়ে আসে এবং আসবে এটা আমাদের সামাজিক রীতি। কিন্ত দরিদ্রমানুষ যে তার সামান্য সামর্থ্যের মধ্যে মানুষকে সহযোগিতা করার মানসিকতা নিয়ে নিয়ে জন্ম নেয়। তারই বাস্তব রূপ এই ভিডিও চিত্র।

দরিদ্রতা, প্রয়োজন, লোভ, লালসা এবং বৈষয়িক প্রতিযোগিতায় যান্ত্রিক জীবনে সময়ের ব্যবধান আমাদের বদলে দিলেও মানুষ যে মানুষেরই জন্য এই বাস্তবতা থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই কারো। লাফজ’এর ‘রিয়েল পিপল রিয়েল স্টোরি’তে ফুল বিক্রেতা মেয়েটি মহত্ত্ব আমাদের তাই যেন তাই মনে করিয়ে দিলো আরেকবার।

ফুলগুলো বিক্রি হলেই দু’মুঠো ভাতের নিশ্চয়তা দিয়ে পরিবারে অপেক্ষমাণ মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে পারবে ভাগ্য বঞ্চিত মেয়েটি। এমন সংকটেও নিজের কষ্টের কথা ভুলে যুবকের আবদার পূরণ করে মেয়েটি মনে করিয়ে দেয় মানুষের সহায়তা মানুষের এগিয়ে আসতে মনের সক্ষমতাই সবচেয়ে বড়। ১০৪ সেকেন্ডের এই ভিডিওটির গল্প খুব সহজে ভুলে যাওয়ার নয়।

মানুষের বিবেকবোধ জাগ্রত করতে লাফজের এই উদ্যোগ আমাদের সমাজ জীবনে ব্যাপক প্রভাব ফেলবে এমনটাই মন্তব্য করেছেন অনেকেই। বাংলাদেশের এই সত্যিকারের সামর্থ খুঁজে বের করার জন্য ধন্যবাদ লাফজকে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *