মোঃ দেলোয়ার হোসেন, কালিয়াকৈর (গাজীপুর) প্রতিনিধি: গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার কৃষকরা চালের উৎপাদন বাড়াতে নিরলষভাবে কাজ করে যাচ্ছে। চলতি মওসুমে উপজেলায় ৯টি ইউনিয়নে ১০ হাজার ১৭৫ হেক্টর জমিতে বোরো ইরি চাষাবাদের লক্ষ্য মাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। কৃষকরা বোরো ফসলের সর্বোচ্চ ফলন পেতে বিস্তীর্ণ মাঠে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ধানের চারা পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পাড় করছেন ।
উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, বোরো জমিতে অধিক ফলনের আশায় কৃষকরা মাঠে কেউ রাসায়নিক সার ও কীটনাশক ছিটাচ্ছে, কেউ পানি দিচ্ছে, আবার কেউ দ্বিতীয় বার ক্ষেতে নিরানী দিয়ে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছে। কোন কোন জমিতে ধানের শীষ দেখা গেছে। প্রাকৃতিক কোন দূর্যোগ না হলে এবছর ধান উৎপাদনের লক্ষ্য মাত্রা অনুযায়ী কৃষকরা গোলায় ধান তোলার আশাবাদ ব্যাক্ত করেছেন।
কৃষি বিভাগ সুত্র জানায়, উপজেলার ৯টি ইউনিয়নে এবছর লক্ষ্য মাত্রা অনুযায়ী বোরো ইরি চাষাবাদ হয়েছে। কৃষকরা বিভিন্ন সময়ে অধিক ফলনের ব্যাপারে, ধান গাছে রোগ বালাই ও পোঁকা মাকড় দমনে আগাম সতর্কতামূলক পরামর্শ নিয়েছেন। এসব এলাকায় অধিক ফলনশীল ধান যেমন, ব্রী ২৮ (বি,আর,আর, আই), বিরি ২৯ ও বিরি ৮৯, বিরি ৯২ ধানের জাত রোপণ করা হয়েছে ।
সূত্রপুর ইউনিয়নের ভাউমান গ্রামের কৃষক জয়নাল আবেদিন (৬০) জানান, এখন পর্যন্ত জমিতে ধানের গোছা ভাল আছে। কোন পোকার আক্রমন বা সমস্যা হয়নি। প্রতিবছর প্রাকৃতিক দূর্যোগ ও শিলা বৃষ্টিতে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়নি। তবে কোন প্রাকৃতিক দূর্যোগ না হলে এবছর ভালো ফসল ঘরে তুলতে পাববো।
ঢালজোড়া এলাকার কৃষক কছিম উদ্দিন (৫৫) বলেন, জমিতে আবাদ ভাল হয়েছে। ধানের বীজ, সার, কীটনাশক, সেচ খরচ ও শ্রমিক খরচ অনেক বেশী পড়েছে। ভালভাবে গোলায় ধান তুলতে পারলে এবং উৎপাদিত ধানের মূল্য বেশী না হলে আমরা খুবই ক্ষতির সম্মুখীন হবো।
উপজেলা কৃষি অফিসার সাইফুল ইসলাম জানান, এবছর কালিয়াকৈর উপজেলায় ১০ হাজার ১৭৫ হেক্টর জমিতে বোরো ইরি চাষাবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। উৎসবমুখর পরিবেশে কৃষকরা লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী ধানের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন। কৃষি বিভাগ থেকে আগাম সতর্কতামূলক পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। প্রকৃতিক দূর্যোগ না হলে এবছর লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সহ রেকর্ড পরিমাণ ধান উৎপাদন হবে বলে আশা করছি।
