আন্তর্জাতিক ডেস্ক- বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অবস্থানরত ১০১ জন প্রবাসী আলেম এক যুক্ত বিবৃতিতে কট্টর ইসলামবিদ্বেষী রাষ্ট্র ফ্রান্স কর্তৃক রাষ্ট্রীয় মদদে বিশ্ব নবী সা. এর ব্যাঙ্গচিত্র প্রদর্শন করার মতো ঘৃণ্য কাজের কঠোর নিন্দা জানিয়েছেন।
আলেমগণ বলেন, কোন ধর্ম ও ধর্মের নবীকে ব্যঙ্গ করা বাকস্বাধীনতা হতে পারে না। বাক স্বাধীনতার দোহাই দিয়ে বিভিন্ন সময় বিভিন্নভাবে ইসলাম এবং মুসলমানদেরকে এবং মুসলমানদের প্রাণের স্পন্দন বিশ্ব নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকেই ব্যঙ্গ করার জন্য টার্গেটে পরিণত করা হয়। এটা শুধুমাত্র ইসলাম ও মুসলিম বিদ্বেষ ছাড়া আর কিছুই নয়। কোনোভাবেই এগুলো বাক স্বাধীনতার মধ্যে পড়ে না। বাকস্বাধীনতা অর্থ ঘৃণা ও বিদ্বেষ চর্চা নয়।
আলেমগণ বলেন, এমন ঘৃণ্য ব্যাঙ্গচিত্র প্রদর্শন করে ফ্রান্স বিশ্বের একশত ষাট কোটির অধিক মুসলমানদের হৃদয়ে সরাসরি আঘাত করেছে, আগুন জ্বালিয়ে দিয়েছে সকল মুসলমানের অন্তরে। এই ঘৃণ্য ও গর্হিত কাজের জন্য ফ্রান্সকে চরম মূল্য দিতে হবে। ফ্রান্সসহ পশ্চিমা বিশ্ব মুখে গণতন্ত্র ও মানবাধিকার ও ধর্মীয় স্বাধীনতার বুলি আওড়ায় ঠিকই, কিন্তু তাদের দেশে বসবাসকারী সংখ্যালঘু মুসলিমদের ধর্মীয় স্বাধীনতার উপর নানান অজুহাতে চরম ঘৃণ্য হস্তক্ষেপ সবসময়ই করে চলে। মুসলিম মেয়েদের হিজাব পরতে না দেয়া, মসজিদ বন্ধ করে দেয়া সহ এমন বিদ্বেষ ও জঘন্য হস্তক্ষেপের মাধ্যমে তারা মুসলমানদের দাবিয়ে রাখতে চায়। কিন্তু তারা জানে না, আল্লাহর দ্বীনকে কখনো কেউ দমিয়ে রাখতে পারেনি এবং পারবেও না। আল্লাহর হাবিবের অসম্মান আল্লাহ তাআলা সহ্য করবেন না, অচিরেই ফ্রান্সকে এই উগ্র ও জঘন্য ধৃষ্টতার ফল ভোগ করতে হবে।
আলেমগণ আরও বলেন, রাষ্ট্র ও রাষ্ট্রপ্রধানের কাজ হলো দেশের সকল ধর্মের সম্মান অক্ষুন্ন রাখা ও সব ধর্মের অনুসারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সবার সাথে ন্যায় আচরণের মাধ্যমে। কিন্তু ফ্রান্সের উগ্র প্রেসিডেন্ট ঠিক তার উল্টোটাই করেছেন ধর্মীয় বিদ্বেষ উস্কে দিয়ে এবং রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় বিশ্বনবীর সা. এর ব্যঙ্গচিত্র কার্টুন প্রদর্শনের মাধ্যমে। সরকার প্রধান এমন নীতিহীন উগ্র ও অসুস্থ জঘন্য মানসিকতার হতে পারে তা ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোকে না দেখলে বিশ্বাস হতো না।
আমরা ফ্রান্স সরকারকে তাদের এমন জঘন্য উগ্র অসুস্থ মুসলিম বিদ্বেষ চর্চা থেকে ফিরে এসে বিশ্বের একশত ষাট কোটি মুসলমানের নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করে ধর্মীয় সহিষ্ণুতা বজায় রাখার জন্য আহবান করছি।
বিবৃতিদাতাদের মধ্যে রয়েছেন:
শায়েখ সালাউদ্দীন জাহাঙ্গীর, লন্ডন। শায়েখ আব্দুল্লাহ আল হারুন, কুয়েত। মাও. সৈয়দ হাবিব উল্লাহ বেলালী, সৌদিআরব। শায়েখ তৈয়ব উল্লাহ নাসিম, সৌদিআরব। মাও. মীর আহমাদ মিরু, ওমান। মাও. মিজানুর রহমান, ওমান। মাও. তৈয়ব, সৌদিআরব। মুফতী জহিরুল ইসলাম, সৌদিআরব। শাযে়খ হাফেজ আইয়ুব, কুয়েত। শায়েখ আব্দুর রহমান জামী, কুয়েত। শায়েখ নুরুল ইসলাম, কুয়েত। মাও. সৈয়দ জামাল উদ্দিন, কুয়েত। মাও. গোলাম সারোয়ার সিরাজী, কুয়েত। শায়েখ এমদাদ উল্লাহ হেলালী, কুয়েত।
মাও. কাজী শফি আবেদীন, কুয়েত। মাও. আব্দুল মুমিন, কুয়েত। মাও. মুফতী আমিরুল ইসলাম, মালয়েশিয়া। মাও. মাসউদ উর রাহমান, মালয়েশিয়া। মুফতি মঞ্জুরুল ইসলাম, মালয়েশিয়া হাফেজ মাও. ভিপি বশির ইবনে জাফর, মালয়েশিয়া। মাও. সিরাজুল ইসলাম, মালয়েশিয়া।
মাও. নূর উদ্দীন বীন আদিব, ওমান। মাও. ছাবের আহমাদ, ওমান। মাও. মোহাম্মদ হোছাইন, ওমান। মাও. আবুল হাসেম ফারুকী, ওমান।
মাও. ইবরাহীম, ওমান। মাও. মো. তৈয়ব, ওমান। মাও. এরফানুল হক চৌধুরী, ওমান। মাও. ওবায়দুল করিম, ওমান। মাও. শাহাদাত হোসাইন, ওমান। মাও. আজগর সালেহী, ওমান। মাও. সিরাজুল ইসলাম সিরাজী, ওমান। মাও. জাহাঙ্গীর আলম, ওমান।মাও. আবদুর রহীম, ওমান। মাও. আইয়ুব,ওমান। মাও. ইব্রাহীম খলিল, সৌদিআরব।
মাও.মিজানুর রহমান, পাকিস্তান। মাও. ইউনুস নোমানি, পাকিস্তান। মাও. অাবদুল মান্নান, পাকিস্তান। মাও. নুরুল আলম, নোমানী, পাকিস্তান। মাও. নিজাম উদ্দীন, পাকিস্তান। মাও. আব্দুল কুদ্দুস, বাহরাইন। মাও.মুজিবুল হক ভূঁইয়া, সৌদিআরব। মাও. মোজম্মেল হক, সৌদিআরব। মাও. মাহমুদুল হাসান, সৌদিআরব। মাও. আব্দুল কাইয়ুম ভূঁইয়া, ইটালি। মাও. আব্দুল মান্নান, আবুধাবি। মাও. আব্দুল হাই, সৌদিআরব। এইচ এম শহীদ উল্লাহ সৌদিআরব। মাও. সাইফুল ইসলাম, আরব আমিরাত মাও. জুলফিকার আলি, আরব আমিরাত। মাও. নেয়ামত উল্লাহ আশরাফী, আরব আমিরাত।
মাও. জুবায়ের, আরব আমিরাত। মুফতি কামাল বিন সৈয়দ, আরব আমিরাত। মাও. মুবীনুল্লাহ,আরব আমিরাত। মাও. নুরুল্লাহ, আরব আমিরাত। হাফেজ আবুল খায়ের, আরব আমিরাত। মাও. মুহিব্বুল্লাহ আমিনী,আরব আমিরাত। মাও. কাছেম ওসমানী,আরব আমিরাত। মাও. ইব্রহীম, সৌদিআরব।মাও.নজরুল ইসলাম।মাও. রুহুল আমিন, যুক্তরাষ্ট্র। মাও. মাজারুল ইসলাম, দক্ষিণ আফ্রিকা প্রমুখ।
উল্লেখ্য, ফ্রান্সে স্যামুয়েল প্যাটি নামের এক ইতিহাস শিক্ষক ক্লাসে বাকস্বাধীনতা বিষয়ে পাঠদানের সময় নবী মুহাম্মদ (সা.)-এর কার্টুন দেখান। যার জেরে গত ১৬ অক্টোবর চেচেন বংশোদ্ভূত এক ব্যক্তি ছুরি হাতে ওই শিক্ষককে আক্রমণ করে এবং তার শিরশ্ছেদ করে। চেচনিয়া মুসলমান অধ্যুষিত দেশ।
এ ঘটনা ফ্রান্সে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি করে। অনেক ফরাসি ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানান। দেশটির প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁ এ হত্যাকাণ্ডের নিন্দা জানিয়ে ধর্মনিরপেক্ষ ফরাসি মূল্যবোধ সুরক্ষিত রাখা এবং ইসলামি মৌলবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের অঙ্গীকার করেন। ম্যাক্রোঁর এ বক্তব্য পছন্দ হয়নি তুরস্কের।
তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তায়িপ এরদোয়ান ম্যাক্রোঁর ‘মানসিক স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা দরকার’ বলে মন্তব্য করেন। যার ফলে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়, ফ্রান্স তুরস্কে নিযুক্ত রাষ্ট্রদূতকে ফিরিয়ে নেয়। যার জাবাবে এরদোয়ান তুর্কিদের ফরাসি পণ্য বর্জনের ডাক দেন।
এরদোয়ানের পর পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানও ম্যাক্রোঁ কঠোর সমালোচনা করে বলেন, নবী মুহাম্মদের (সা.) ব্যাঙ্গচিত্র প্রদর্শনকে উৎসাহিত করে ম্যাক্রোঁ ‘ইসলামকে আক্রমণ’ করছেন। ইরানও এ ঘটনায় ক্ষুদ্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে।
সৌদি আরব মুহাম্মদ (সা.) এর ব্যাঙ্গচিত্র আঁকা নিয়ে সমালোচনা করেছে। যদিও তারা ফরাসি পণ্য বর্জনের ডাক দেওয়ার পক্ষে নয়।
