চিকিৎক নার্স না থাকায় তালাবন্দী মিনি হাসপাতাল

সাইফুল ইসলাম মুকুল, স্টাফ রির্পোটার: কমতি নেই চিকিৎসার প্রয়োজনীয় সঞ্জামের। কিন্তু একজন চিকিৎক ও নার্স না থাকায় এভাবেই তালাবন্দি হয়ে আছে মিনি হাসপাতালটি। বলছি রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের গ্যারাজে থাকা অ্যাম্বুলেন্সটির কথা।

অ্যাম্বুলেন্সের ভেতরে পোর্টেবল ভেন্টিলেটর, জরুরি ওষুধ সেবা, অক্সিজেন সিলিন্ডার, সাকশন মেশিনসক অনেক কিছুই আছে। কিন্তু প্রয়োজনীয় চিকিৎক আর নার্স নেই।

আইসিইউ সুবিধা সংবলিত অত্যাধুনিক একটি কার্ডিয়াক অ্যাম্বুলেন্স। তবে সেটার চাকা একবারও সড়কে গড়ায়নি। ‘মিনি হাসপাতাল’ হিসেবে পরিচিত এ অ্যাম্বুলেন্স এক বছরের বেশি সময় ধরে পড়ে আছে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালকে।

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীন ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তর ২০২১ সালের জানুয়ারিতে দেড় কোটি টাকার এ ইতালিয়ান অ্যাম্বুলেন্সটি সরবরাহ করে। জনবল সংকট দেখিয়ে অ্যাম্বুলেন্সটি হাসপাতালের গ্যারাজেই ফেলে রাখা হয়েছে।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দাবি, জনবল চেয়ে এক বছর আগে দপ্তরে চিঠি দেয়া হলেও সমাধান মেলেনি। দপ্তর থেকে সমাধান না মিললেও কীভাবে এটি চালু করা যায়, কে ডিউটি করবে, এসব বিষয় ঠিক করতে সম্প্রতি হাসপাতালের উপপরিচালক মোকাদ্দম হোসেনকে আহবায়ক করে পাঁচ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।

হাসপাতাল সূত্র জানিয়েছে, সেখানে সিসিইউ ও আইসিইউ বেড রয়েছে ৪৮টি। ভর্তি হওয়া সংকটাপন্ন রোগীদের উন্নত চিকিৎসার জন্য প্রায়ই ঢাকায় পাঠানো হয়। তখন প্রয়োজন হয় এয়ার অ্যাম্বুলেন্সের। যাদের এ সামর্থ্য নেই, তারাই অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া করেন। তাই বিশেষায়িত অ্যাম্বুলেন্সটি চালু হলে সুবিধা হবে, হয়তো বেঁচে যাবেন অনেক সংকটাপন্ন রোগী।

হাসপাতালের আইসিইউ ইনচার্জ জামাল উদ্দিন মিন্টু জানান, আইসিইউ অ্যাম্বুলেন্সটিতে পোর্টেবল ভেন্টিলেটর, জরুরি ওষুধ সেবা, অক্সিজেন সিলিন্ডার, স্টক রোগীদের জন্য সাকশন মেশিন, নেবুলাইজার, ক্যাথেটার, বিপি স্টেথো, পালস অক্সিমিটার, ইসিজি মেশিন, লাইফ সাপোর্ট, হার্ট কন্ট্রোলিং মেশিন, প্যাথলজি, ডায়াবেটিস টেস্ট মেশিনসহ অনেক কিছুই রয়েছে।

তিনি জানান, এ ধরনের অ্যাম্বুলেন্সকে ‘মিনি হাসপাতাল’ বলা হয়ে থাকে। এটি চালাতে একজন অভিজ্ঞ চিকিৎসক, একজন নার্স ও ওয়ার্ডবয় প্রয়োজন।

তিনি বলেন, ‘আমিসহ সাত জন প্রশিক্ষণ নিয়েছি। তবে নিজ উদ্যাগে। মূলত যারা আইসিইউ চালায়, তারাই এখানে ডিউটি করতে পারবেন।

আইসিউতে চিকিৎসা নিচ্ছেন এমন এক রোগীর স্বজন নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ডাক্তার অনেক আগে আমাদের রোগী ঢাকায় নিতে বলছে। কিন্তু নরমাল অ্যাম্বুলেন্সে নেয়া ঝুঁকিপূর্ণ, সেটাও বলেছে। তাকে নিতে হলে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে নিতে হবে। কিন্তু আমাদের সেই সামর্থ্য নেই। তাই ঢাকায় না নিয়ে আল্লাহর উপর ভরসা করে এখানে চিকিৎসা করাচ্ছি।

রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের অ্যাম্বুলেন্স শাখার ইনচার্জ মোরশেদ আলম বলেন, অ্যাম্বুলেন্সেটি সচল রাখতে এক-দুই দিন পরপর হাসপাতালের ক্যাম্পাসে সেটি চালানো হয়। এর বাইরে নেয়ার অনুমতি নাই। আমরা প্রায় প্রতিদিনই গাড়িটি স্টার্ট দিয়ে চালু রাখি।

তিনি আরও বলেন, আমাদের আরও চারটি সাধারণ অ্যাম্বুলেন্স আছে। চালক আছি পাঁচ জন। অ্যাম্বুলেন্সেটি চালু হলে আমরা প্রস্তুত আছি।
জনস্বাস্থ্য অধিকার আন্দোলন নামে একটি সংগঠনের আহবায়ক বেলার আহমেদ বলেন, কর্তৃপক্ষের অবহেলার কারণে জনগুরুত্বপূর্ণ অত্যাধুনিক অ্যাম্বুলেন্সেটি অকেজো হওয়ার পথে। এটি চালু হলে অনেক রোগীও ঢাকায় উন্নত চিকিৎসা নিতে পারবেন। কী কারণে এটা চালু হচ্ছে না, তা আমরা বুঝতে পারছি না। আমরা দ্রুত এটির চালুর দাবি করছি।

রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক রেজাউর করিম বলেন,অ্যাম্বুলেন্সের ভিতরে ডাক্তার, নার্স, ওয়ার্ডবয় প্রয়োজন। এ জন্য জনবল চেয়ে চিঠি দিয়েছি, কিন্তু কোনো সমাধান হয়নি। তাই একটা কমিটি গঠন করে দিয়েছি। কমিটির রিপোর্ট অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *