অন্তু দাস হৃদয়, স্টাফ রিপোর্টার: টাঙ্গাইলে কালিহাতী উপজেলায় বারবার এতিম বলায় ক্ষোভে স্কুলছাত্র রাহাতকে (১৫) হত্যা করা হয় বলে র্যাবের কাছে স্বীকারোক্তি দিয়েছে বিপ্লব।
শুক্রবার (২৫ মার্চ) রাতে এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে নিহত স্কুলছাত্রের বন্ধু বিপ্লব র্যাবের হাতে আটক হওয়ার পর হত্যাকান্ডের রহস্য উদঘাটন করা হয়।
এর আগে বুধবার উপজেলার কোকডহরা ইউনিয়নের কাগুজিপাড়া এলাকা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
নিহত ব্যক্তি উপজেলার বানিয়ারা গ্রামের শাহাদত হোসেনের ছেলে রাহাত। তিনি বল্লা করোনেশন উচ্চ বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির ছাত্র ছিলেন। আটককৃত ব্যক্তি উপজেলার বানিয়ারা গ্রামের নুরু মিয়ার ছেলে বিপ্লব।
র্যাব-১২,সিপিসি-৩ এর কোম্পানি কমান্ডার এরশাদুর রহমান শনিবার (২৬ মার্চ) দুপুরে জানান, রাহাত-বিপ্লবের বাড়ি পাশাপাশি। গত মঙ্গলবার রাতে বিপ্লব ও রাহাত কালিহাতীর কোকডহরা ইউনিয়নের কাগুজিপাড়া বাজারে বসে লুডু খেলছিল।
এ সময় বিপ্লব কে কয়েকবার রাহাত এতিম বলে সম্বোধন করে। এ কারণে বিপ্লব ক্ষিপ্ত হয় রাহাতকে হত্যা করার সিদ্ধান্ত নেয়। পরে বিপ্লব বাজারের একটি দোকান থেকে ব্রেড ও সিগারেট কেনে। এরপর বিপ্লব সিগারেট খাওয়ার কথা বলে রাহাতকে কাগুজিপাড়া এলাকার একটি পুকুরের ধারে নিয়ে যায়।
তিনি আরও জানান, সেখানে বিপ্লব ব্রেড দিয়ে রাহাতের গলায় পোঁচ দেয়। এ সময় রাহাত চিৎকার করলে বিপ্লব মুখ চেপে ধরে আরও কয়েকবার পোঁচ দেয়। পরে মৃত্যু নিশ্চিত করতে কাদার মধ্যে রাহাতের মুখ চেপে ধরে। রাহাতের মৃত্যুর পর মরদেহ পুকুরে ফেলে দিয়ে তার মোবাইল নিয়ে বাড়িতে চলে যায় বিপ্লব।
এরপর নিজের রক্তমাখা জামা কাপড় ধুয়ে ফেলে। বিপ্লবের ঘর থেকে রাহাতের মোবাইল উদ্ধার করা হয়েছে। তাকে পুলিশের কাছে দেওয়া হবে।
