রাজিব মজুমদার, মীরসরাই (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি: জাতীয় পর্যায়ে গৌরবোজ্জ্বল ও কৃতিত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ৯ বিশিষ্ট ব্যক্তি ও ২ প্রতিষ্ঠানের হাতে দেশের সর্বোচ্চ জাতীয় বেসামরিক সম্মাননা ‘স্বাধীনতা পুরস্কার-২০২২ তুলে দিয়েছেন।
প্রধানমন্ত্রী বৃহস্পতিবার (২৪ মার্চ) সকালে তাঁর তেজগাঁওস্থ কার্যালয়ে এক অনুষ্ঠানে সশরীরে উপস্থিত থেকে এ পুরস্কার বিতরণ করেন।
চিকিৎসাবিদ্যায় অবদানের জন্য দেশের সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় বেসামরিক স্বাধীনতা পুরস্কার পান মীরসরাইয়ের কৃতি সন্তান বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য প্রফেসর ডা. কনক কান্তি বড়ুয়া।
চিকিৎসাবিদ্যায় স্বাধীনতা পুরস্কার পাওয়া প্রফেসর ডা. কনক কান্তি বড়ুয়া ১৯৫৩ সালে মীরসরাই উপজেলার ১৪নং হাইতকান্দি ইউনিয়নের দমদমা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ১৯৭৭ সালে ঢাকা মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস পাশ করেন। ১৯৯০ সালে এফসিপিএস, ২০০৩ সালে এমএস (নিউরো সার্জারি), ২০০৪ সালে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন।
তিনি বাংলাদেশ কলেজ অব ফিজিশিয়ানস এন্ড সার্জনস থেকে এফসিপিএস অর্জন করেন। ডা. কনক বড়–য়া বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নায়ুশল্যবিদ্যা বিভাগের (নিউরোসার্জারি) সভাপতি এবং শল্যবিদ্যা অনুষদের ডিনের দায়িত্বপালন করেন।
তিনি ২০১৭ সালে বাংলাদেশ কলেজ অব ফিজিশিয়ানস এন্ড সার্জনস এর সভাপতি নির্বাচিত হন। ২০১৮ সালে তিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
ডা. কনক বড়ুয়া সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক সাবেক শিল্পমন্ত্রী দিলীপ বড়ুয়ার ভাই।
এবার স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের ক্ষেত্রে পদক পেয়েছেন বীর মুক্তিযোদ্ধা ইলিয়াস আহমেদ চৌধুরী, শহীদ কর্নেল খন্দকার নাজমুল হুদা (বীর বিক্রম), আবদুল জলিল, সিরাজ উদ্দীন আহমেদ, মরহুম মোহাম্মদ ছহিউদ্দিন বিশ্বাস ও মরহুম সিরাজুল হক।
চিকিৎসাবিদ্যায় অধ্যাপক মো. কামরুল ইসলাম এবার স্বাধীনতা পুরস্কার পেয়েছেন। স্থাপত্যে মরহুম স্থপতি সৈয়দ মাইনুল হোসেন। এবার প্রতিষ্ঠান হিসেবে গবেষণা ও প্রশিক্ষণে অবদান রাখায় বাংলাদেশ গম ও ভুট্টা গবেষণা ইনস্টিটিউটকে (বিডবিøউএমআরআই) দেয়া হয় স্বাধীনতা পুরস্কার।
নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে এসে ডা. কনক বড়ুয়া বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর সময়োপযোগী ও তড়িৎ সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা এবং অসাধারণ ব্যবস্থাপনার কারণে দেশ করোনা মহামারির হাত থেকে রক্ষা পেয়েছে।’
উন্নয়নের মহাসড়কে যাত্রা অব্যাহত রেখে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ অবশ্যই সুখী ও সমৃদ্ধশালী দেশে পরিণত হবে বলেও মন্তব্য করেন এ চিকিৎসক।
সরকার ১৯৭৭ সাল থেকে প্রতিবছর স্বাধীনতা দিবসের প্রাক্কালে এ পুরস্কার দিয়ে আসছে। স্বাধীনতা পুরস্কারের ক্ষেত্রে পুরস্কারপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে ৫ লাখ টাকা, ১৮ ক্যারেট মানের ৫০ গ্রামের স্বর্ণপদক, পদকের একটি রেপ্লিকা ও একটি সম্মাননাপত্র দেওয়া হয়।
