সাইফুল ইসলাম মুকুল, রংপুর ব্যুরো: বিয়ের দাবিতে প্রেমিকের বাড়িতে দুই দিন ধরে অনশন করছে নবম শ্রেণিতে পড়ুয়া এক কিশোরী। ঘটনাটি ঘটেছে রংপুর নগরীর ৩১নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা হেলাল উদ্দিনের ছেলের বাড়িতে। অনশনকারী প্রেমিকা স্কুল পড়ুয়া ছাত্রী একই এলাকার।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, একই স্কুলে পড়াশোনার সুবাদে একই সাথে যাতায়াত করে আসছিল তারা। সেই সূত্র ধরেই উভয়ের মধ্যে গত দুই বছর ধরে প্রেম ভালোবাসা চলছিল।
গত কয়েক দিন ধরে তারা নিজেরা পরিবারের অজান্তেই বিয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছিল। কিন্তু বিষয়টি জানাজানি হলে প্রেমিকাকে নিয়ে নিজ বাড়িতে উঠে প্রেমিক।
ছেলের অভিভাবকরা বিষয়টি দেখে ফেলায় মেয়েকে মারধর ও গালমন্দ করে তাড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন। অনেক চেষ্টা করেও ঘর থেকে বের করতে পারেননি। এক পর্যায়ে কাউন্সিলর, এলাকার বিভিন্ন গণ্যমান্য ব্যক্তিরা পুলিশের সহায়তা চাইলে উভয় পরিবারকে পুলিশ থানায় বুধবার সন্ধ্যায় ডেকে নেয়।
ছেলে ও মেয়ের বয়স কম হওয়ায় তাদের উভয় পরিবারের মাঝে সমঝোতা করে একটি লিখিত আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের জন্য রসিক প্যানেল মেয়র সামছুল ইসলামকে দায়িত্ব দেন। কিন্তু ছেলেপক্ষ রাগারাগি করে সেই সমঝোতা মেনে না নিয়ে চলে যান।
পরবর্তী সময়ে স্কুলছাত্রী আবারও ছেলের বাড়ির প্রধান ফটকে গিয়ে অনশনে শুরু করে। এসময় তাকে বেশ ক’জন মহিলা ও পুরুষ মিলে অকথ্য গালিগালাজ ও মারধর করে তাড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন। আহত অবস্থায়ও সে অনড় থাকে। তবে স্কুলছাত্রী অনশন শুরু করার পর প্রেমিক উধাও হয়ে গেছে।
এ বিষয়ে প্যানেল মেয়র সামছুল ইসলাম বলেন, আমি বিষয়টি সমঝোতার চেষ্টা করলেও ছেলেপক্ষ কোনো সাড়া দেয়নি। যেহেতু নারী ও শিশুর বিষয় এজন্য আমি আইনের লোকের সহায়তা চাই।
অন্যদিকে, মেয়ের বাবা অটোচালক বলেন, আমি গরিব মানুষ। আর ছেলেপক্ষ প্রভাবশালী। আমি আইন ও স্থানীয় গণ্যমান্যসহ অনেকের সহায়তায় বিষয়টি সুরাহার কামনা করেছি। এতেও যদি কোনো কিনারা না আমি মামলায় যাবো।
এদিকে ছেলেপক্ষের কেউই সাংবাদিকদের সাথে কথা বলতে নারাজ।
তাজহাট মেট্রো থানার ওসি নাজমুল কাদের জানান, আমি কোনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। মৌখিকভাবে শুনেছি। কেউ অভিযোগ বা এজাহার করলে তদন্তসাপেক্ষে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
