ভালোবেসে বিয়ে, কয়েক ঘণ্টা পরই নবদম্পতির আত্মহত্যা

বগুড়ার শিবগঞ্জে ভালোবেসে বিয়ে করার পর পরিবার মেনে না নেওয়ায় বিয়ের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই স্বামী-স্ত্রী দুজনেই আত্মহত্যা করেছেন।

সোমবার (২১ মার্চ) রাতে শিবগঞ্জ উপজেলার মাঝিহট্ট ইউনিয়নের দামগারা কারিগর পাড়া ও মাসিমপুর চালুঞ্জা তালুকদার পাড়ায় আত্মহত্যার ঘটনা ঘটে।

নিহত প্রেমিক দামগাড়া কারিগর পাড়া গ্রামের মৃত জলিলের ছেলে দিনমজুর শ্রমিক সবুজ (২২)। আর প্রেমিকা মাসিমপুর চালুঞ্জা তালুকদারপাড়া গ্রামের রাজ্জাকের মেয়ে মার্জিয়া জান্নাত (২০)।

পুলিশ মঙ্গলবার সকালে দু’জনের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাপসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে। মার্জিয়া জান্নাত বগুড়ার নামুজা ডিগ্রী কলেজের ছাত্রী ছিলেন।

স্থানীয়দের বরাতে শিবগঞ্জ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) হাসমত উল্লাহ জানান, সবুজ ও জান্নাত পাশাপাশি গ্রামের বাসিন্দা। তাদের দীর্ঘদিনের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। সবুজ হাফেজিয়া মাদ্রাসায় পড়াশোনা করতেন, তার পরিবার দরিদ্র। তাই তিনিও দিনমজুরের কাজ করতেন। এসব কারণে জান্নাতের পরিবার ওই সম্পর্ক মেনে নেয়নি।

কিন্তু পরিবার না মানলেও প্রায় ছয় মাস আগে সবুজ ও জান্নাত লুকিয়ে বিয়ে করেন। তবে জান্নাতের পরিবার ঘটনাটি জানার পরপরই তাদের বিয়ে বিচ্ছেদ করাতে বাধ্য করে।

পুলিশ পরিদর্শক আরও জানান, চলতি মাসের প্রায় ১৫ থেকে ২০ দিন আগে জান্নাতের বাবা মালয়েশিয়া থেকে তার পরিচিত এক ছেলের সঙ্গে মুঠোফোনে জোরপূর্বক তার (জান্নাতের) বিয়ে দেন। এ ঘটনার পর গত সোমবার বিকালে জান্নাত ও সবুজ আবারও পালিয়ে বিয়ে করেন। বিয়ের পর তারা সবুজের বাড়িতে ওঠেন। কিন্তু বিষয়টি জানতে পেরে সন্ধ্যার দিকে জান্নাতকে নিয়ে যান তার পরিবার।

এর পরপরই সন্ধ্যা ৭টার দিকে সবুজকে মুঠোফোনে রেখে জান্নাত কীটনাশক পান করেন। জান্নাতের বিষপানে মৃত্যুর বিষয়টি বুঝতে পেরে সবুজও নিজ ঘরের সিলিং ফ্যানের সঙ্গে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন।

বগুড়া শিবগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দীপক কুমার দাস জানান, পরিবার থেকে তাদের সম্পর্ক মেনে না নেওয়ায় তারা নিজ নিজ বাড়িতে আত্মহত্যা করে থাকতে পারে। দুজনের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এখনও থানায় কেউ অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ দিলে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *