আয়াতুল হোসেন জাহিদ, রাজারহাট (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধ: কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ মুহাম্মদ আসাদুজ্জামান জুয়েলের দুর্নীতির প্রাথমিক তদন্ত শুরু করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
৭ই মার্চ দুর্নীতি দমন কমিশন সমন্বিত জেলা কার্যালয় রংপুর এর সহকারী পরিচালক নজরুল ইসলামের নেতৃত্বে ৪ সদস্যের একটি টিম রাজারহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বিভিন্ন কর্মকর্তা-কর্মচারী সহ স্থানীয় জনসাধারনের সাথে কথা বলেছেন এবং ডাঃ আসাদুজ্জামান জুয়েলের কর্মকালীন সময়ের বিভিন্ন কর্মকান্ডের বিল-ভাউচার ও ফাইলপত্রের ছায়ালিপি সহ কাগজপত্র সংগ্রহ করেছেন।
দুর্নীতি দমন কমিশন সমন্বিত জেলা কার্যালয় রংপুর এর সহকারী পরিচালক নজরুল ইসলাম জানান, সংবাদ মাধ্যমে রাজারহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তার দুর্নীতি সংক্রান্ত প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনের আলোকে প্রাথমিক তদন্ত শুরু করা হয়েছে।
দুর্নীতি দমন কমিশন সমন্বিত জেলা কার্যালয় রংপুর এর উপ-পরিচালক আবু হেনা আশিকুর রহমান তদন্তের সত্যতা স্বীকার করে বলেন, প্রাথমিক তদন্তে দুর্নীতির সত্যতা পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।
উল্লেখ্য এরআগে দৈনিক সমকালে রাজারহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডাঃ মুহাম্মদ আসাদুজ্জামান জুয়েল এর বিরুদ্ধে নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করে বিগত ২০২০-২০২১ এবং চলতি ২০২১-২০২২ অর্থ বছরে কোভিড-১৯ টিকাদান কার্যক্রম এবং ২৯টি কমিউনিটি ক্লিনিকে মাদার সাপোর্ট গ্রুপের ওরিয়েন্টেশন ও ভিটামিন এ প্লাস ক্যাম্পেইন-২১ সহ বিভিন্ন কর্মসূচীর আপ্যায়ন ও স্টেশনারী ক্রয়, ভ্যাকসিন ও লজিষ্টিকস পরিবহন ব্যয়, ভ্রমন ব্যয়, অনিয়মিত শ্রমিকের মজুরী, মালামাল পরিবহন, স্যানিটাইজার ক্রয়, পোর্টারের মজুরী বিল, সমন্বিত পুষ্টি প্রতিষ্ঠানের ষ্টেশনারী মালামাল ক্রয়, পাবলিক এ্যাড্রেস সিস্টেম, শিশু বান্ধব হাসপাতাল প্রশিক্ষানাথীদের ভাতা, সার্টিফিকেট ব্যানার তৈরী, ভূয়া স্বাক্ষরে স্বেচ্ছাসেবক, মাঠকর্মী ও সাপোর্ট স্টাফগণের ভাতা, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বজ্য অপসারণ সহ বিভিন্ন খাতে, সভা, কর্মশালা সহ বিভিন্ন খাতে ভূয়া ভাউচারে কয়েকগুন বাড়িয়ে প্রায় অর্ধকোটি টাকার অসামঞ্জস্যপূর্ণ বিল উত্তোলন এবং অধিকাংশ টাকা আত্মসাতের সংবাদ প্রকাশিত হয়।
সরকারী নীতিমালা অনুযায়ী পঞ্চাশ হাজার টাকার উপরে কোন সামগ্রী ক্রয় কোটেশনের মাধ্যমে ক্রয় করার বাধ্যবাধকতা থাকলেও হ্যান্ড স্যানিটাইজার সহ বিভিন্ন কেনাকাটায় কোটেশন করা হয়নি। বিভিন্ন কর্মসূচীর ব্যয় ভাউচারগুলোতে ষ্টক রেজিষ্ট্রারের লিপিবদ্ধ করারও কোন তথ্য নেই। এমনকি এসব বিলের বেশিরভাগেই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের হিসাব শাখার কর্মকর্তাদের বাদ দিয়ে অন্যের স্বাক্ষরে করা হয়েছিল।
এদিকে ২০২১ সালে রাজারহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. আসাদুজ্জামান জুয়েল তার গ্রামের বাড়ি চাঁদপুরের নিকট আত্মীয়ের লাইসেন্স এবং মহাখালি ঢাকার চাচাতো ভাইয়ের একটি লাইসেন্সে এমএসআরের কাজ বাগিয়ে নেয়ার চেস্টা করলেও অন্যান্য ঠিকাদার এবং সাংবাদিকরা জেনে ফেলায় তা তিনি করতে পারেননি। এর সাথে স্থানীয় একটি দালালচক্র জড়িত ছিল। রাজারহাটের সিনিয়র সাংবাদিক আসাদুজ্জামান আসাদ এর কারণে টেন্ডারটি নিজের লোককে দিতে পারেনি ওই কর্মকর্তা। এতে দালালদের পকেটে টান পড়েছে। একারনে ওই স্বাস্থ্য কর্মকর্তা সহ পিছনে থাকা দালালরা আর্থিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত হওয়ায় উঠে পড়ে লেগেছেন সাংবাদিক আসাদুজ্জামান আসাদের বিরুদ্ধে।
