৫০০ মিটার ভাঙা সড়কে দুর্ভোগে ১৮ গ্রামের মানুষ

সাইফুল ইসলাম মুকুল, রংপুর ব্যুরো: রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলার ইকরচালী ইউনিয়নের বরাতিবাজার থেকে হাড়িয়ারকুঠি ইউনিয়নের কালুরঘাট পর্যন্ত দীর্ঘ ১২ কিলোমিটার কাঁচা সড়ক ৩০ বছরেও পাকা হয়নি। উপজেলা পরিষদ, এলজিইডি কিংবা প্রকল্প বাস্তবায়ন বিভাগ কেউই সড়কটি মেরামতের উদ্যোগ নেয়নি। ফলে ভাঙা সড়ক দিয়ে যাতায়াতে দুর্ভোগ পোহাচ্ছে ১৮ গ্রামের প্রায় ২৫-৩০ হাজার মানুষ।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সাত মাস আগে সড়কের ১২৫ মিটার যমুনেশ্বরী নদীতে বিলীন হয়ে যায়। এরপর থেকে এলাকাবাসী চাঁদা তুলে বাঁশের সাঁকো তৈরি করে কোনোরকমে যাতায়াত করছেন। তবে ভেঙে যাওয়া সড়ক দিয়ে রিকশা-ভ্যান, ট্রাক-ট্রলি ও মাইক্রোবাস চলাচল বন্ধ রয়েছে। ১৮ গ্রামের মানুষকে এখন ১৫ কিলোমিটার ঘুরে যাতায়াত করতে হয়।

এলাকাবাসী জানিয়েছেন, গত ৩০ থেকে ৩৫ বছর ধরে স্থানীয় এমপি, চেয়ারম্যান ও উপজলা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের কাছে অনুরোধ করেও কোনও প্রতিকার পাচ্ছেন না। এবার ভোটের আগে রাস্তা নির্মাণ না করলে ভোটকেন্দ্রে যাবেন না তারা।

বরাতিবাজার থেকে হাড়িয়ারকুঠি ইউনিয়নের কালুরঘাট পর্যন্ত ঘুরে এলাকাবাসী ও জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ইকরচালী ইউনিয়নের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন এলাকা থেকে বদরগঞ্জ উপজেলার মধুপুর পর্যন্ত প্রায় ২০ কিলোমিটার সড়কটির অবস্থা বেহাল। কোনোভাবেই হেঁটে যাতায়াত করা যায় না। বেশিরভাগ স্থানে কাঁধে সাইকেল নিয়ে রাস্তা পার হতে হয়। পাশাপাশি গত বর্ষা মৌসুমে ঘটিয়াল গ্রামের প্রায় ৫০০ মিটার এলাকা যমুনেশ্বরী নদীতে বিলীন হয়ে গেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা সালাহ উদ্দিন, আনোয়ারুল ইসলাম ও ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীর হোসেনসহ অনেকেই জানিয়েছেন, নদীতে যে ৫০০ মিটার এলাকা বিলীন হয়ে গেছে, তা মেরামতের জন্য বহুবার মানববন্ধন করেছে এলাকাবাসী। এরপরও কোনও কাজ হয়নি।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বরাতিবাজার থেকে কালুরঘাট সড়ক দিয়ে ইকরচালী ও হাড়িয়ারকুঠি এই দুই ইউনিয়নের নারায়ণজন, পালপাড়া, তাঁতীপাড়া, জুম্মাপাড়া, ঘাটিয়ালপাড়া, বাইরাকুঠি, কালারঘাট, উজিয়াল, বরাতি, বানিয়াপাড়া, শেখপাড়া, শাহপাড়া, কাংলাচড়া, চারআনি, দোলাপাড়া, বুড়িরহাট, চিলাপাক ও চাকলা গ্রামের ২৫-৩০ হাজার মানুষ যাতায়াত করে। গত বর্ষা মৌসুমে ঘটিয়াল গ্রামের প্রায় ৫০০ মিটার এলাকা যমুনেশ্বরী নদীতে বিলীন হয়ে যাওয়ায় কৃষকরা ফসল নিয়ে ঘরে যেতে পারছেন না। এখন ১৫ কিলোমিটার ঘুরে যাতায়াত করতে হয়। একইভাবে ইকরচালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে যে সড়কটি বদরগঞ্জের মধুপুরে গেছে, সেখানেও কৃষকরা উৎপাদিত পণ্য বিক্রির জন্য বাজারে যেতে পারছেন না। তাদের পাশাপাশি দুর্ভোগ পোহাতে হয় শিক্ষার্থীদের।

ওই এলাকার শিক্ষার্থী আবেদা সুলতানা, সাকিব, রহমান ও আব্দুর রহিম জানায়, সড়ক মেরামত না করায় স্কুল ও মাদ্রসায় যেতে কষ্ট হয় তাদের। অনেক পথ ঘুরে বিদ্যালয়ে যেতে হয়। সড়কটি দ্রুত মেরামতের দাবি জানিয়েছে তারা।

কাশিয়াবাড়ি বাজারের ধান ব্যবসায়ী সাহেব আলী বলেন, সরকারের লোকজন এসে ভাঙা সড়কটি অনেকবার দেখে গেছেন। কিন্তু কোনও কাজ হয়নি। সড়কটি কবে যে মেরামত হবে, তা কেউ জানে না।

হাড়িয়ারকুঠি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কুমারেশ রায় বলেন, আমি চার বারের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি। সড়কটি নির্মাণের জন্য অনেকবার প্রশাসনের বিভিন্ন দফতরে গেছি। অনুরোধ জানিয়েছি। কাজের কাজ কিছুই হয়নি। এখন সড়কের একটি অংশ নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। রিকাশা-ভ্যানসহ যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে।

এ ব্যাপারে তারাগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আনিছুর রহমান লিটন বলেন, এবার বর্ষা মৌসুম শুরুর আগে সড়কটি মেরামতের কাজ শুরু হবে বলে আশা করছি।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) আলতাফ হোসেন বলেন, আশা করছি দ্রুত সময়ের মধ্যে সড়কটি নির্মাণ হবে। তবে কবে নাগাদ কাজ শুরু হবে, তা আমার জানা নেই।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *