নজর২৪ ডেস্ক: অনেক মানুষের দোয়ার প্রতিফলন ঘটিয়ে সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার নরিনা ইউনিয়নের এনজিওর ঋণের টাকা হারিয়ে ফেলে রাস্তায় ক্রন্দন করা নুরজাহান বেগম। শুক্রবার বিকালে নুরজাহানকে বেগমকে ঘর, টিউবওয়েল, টয়লেট, চৌকি, লেপ তোশক ও পরিবারের সবার জন্য নতুন পোশাক হস্তান্তর করা হয়।
শুক্রবার (৪ মার্চ) বিকালে উপজেলার নরিনা ইউনিয়নের নারায়নদহ গ্রামে নুরজাহান বেগমের বাড়িতে গিয়ে ঘর ও অন্যান্য জিনিসপত্র হস্তান্তর করেন, ব্যাবসায়ী শাহবাজ খান সানি, সাংবাদিক রাজিব আহমেদ রাসেল, সাংবাদিক সেলিম তালুকদার ও সাংবাদিক সাহেব আলী প্রমূখ।
এসময় নুরজাহান বেগম, তার স্বামী শফি মোল্লা, শশুর গোলাম মোস্তফা ও শাশুরীকে নতুন পোশাক উপহার হিসেবে হস্তান্তর করা হয়।
উল্লেখ্য, নরিনা ইউনিয়নের নারায়নদহ গ্রামের ভ্যানচালক শফি মোল্লা তার স্ত্রী ও ৬ মেয়েকে একটি ভাঙা কুড়ে ঘরে বসবাস করতেন। পরে ঘর তৈরি করার জন্য তার স্ত্রী নুরজাহান বেগম এনজিও থেকে ৪৫ হাজার টাকা ঋণ উত্তোলন করে বাড়িতে যাওয়ার পথে টাকা হারিয়ে টাকা হারিয়ে আর্তনাদ করতে থাকেন।
পরে বিষয়টি নজর২৪ এর স্টাফ রিপোর্টার রাজিব আহমেদ রাসেল এর নজরে আসলে তিনি নুরজাহান বেগমের বাড়িতে গিয়ে থাকার অযোগ্য একটি ভাঙা কুড়ে ঘর দেখতে পান এবং প্রতিবেশীদের কাছে খোঁজ নিলে তার প্রতিবেশীরাও তাদের বিষয়ে কষ্টদায়ক দারিদ্রতার বেশকিছু তথ্য প্রদান করেন।
জানতে পারেন শফি মোল্লা ও নুরজাহান বেগম অনেক কষ্টে সংসার চালান। সংসার চালাতে গিয়ে আজ পর্যন্ত তারা একটি ঘর নির্মাণ করতে পারেননি।
ভাঙা কুড়ে ঘরের এমন অবস্থা যে প্রায় প্রতিটি বাঁশের খুটি নষ্ট হয়ে গেছে এবং ঘরের বেড়াগুলো এমন ভাবে ভেঙে নষ্ট হয়ে গেছে যে বাইরে থেকে ঘরের ভেতরের সবকিছু দেখা যায়। তাই প্রতিটি বেড়া বাইরে থেকে চট দিয়ে ঢেকে রাখা হয়েছে।
বিষয়টি নিয়ে নজর২৪ এ সাংবাদিক রাজিব আহমেদ রাসেল একটি একটি ফান্ড গঠন করে সংবাদ প্রকাশ করেন। সংবাদ প্রকাশের পর রোববার হাউজ অব নার্গিস মান্নান চ্যারিটেবল ট্রাষ্টের চেয়ারম্যান নার্গিস মান্নানের ছোটভাই ব্যাবসায়ী শাহবাজ খান সানি নুরজাহান বেগমকে নতুন ঘর ও টয়লেট নির্মাণ করে দেওয়ার ঘোষণা দেন।
তিনি রোববার (২০ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে উপজেলার নরিনা ইউনিয়নের নারায়নদহ গ্রামে নুরজাহান বেগমের বাড়িতে গিয়ে তাদের পরিস্থিতি সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করে একটি নতুন ঘর ও টয়লেট তৈরি করে দেওয়ার আশ্বাস দেন। তার আশ্বাসে নুরজাহান বেগম, তার স্বামী ও ৬ কন্যা আনন্দে উচ্ছাসিত ও আত্মহারা হয়ে ওঠেন।
এরই মধে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বেশ কয়েকজন মানবিক মানুষ নুরজাহান বেগমের নতুন ঘরের জন্য বিকাশের মাধ্যমে কিছু টাকা পাঠান।
শাহবাজ খান সানি জানান, আমার আপা নার্গিস মান্নান ইতিমধ্যেই বেশ কিছু সামাজিক কাজে অর্থায়নের মাধ্যমে দরিদ্র জনগোষ্ঠির মাঝে সহায়তা প্রদান করেছেন। এখন পর্যন্ত তার অর্থায়নে ৮টি দরিদ্র পরিবারকে ঘর তৈরি করে দেওয়া হয়েছে। আগামী ২/১ দিনের মধ্যে নুরজাহান বেগমের নতুন ঘর তৈরি শুরু হবে।
তিনি সময়ের নজর২৪ কে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, নজর২৪ ও তাদের স্থানীয় প্রতিনিধির মানবিক প্রচারণার মাধ্যমে আমি এই অসহায় পরিবারের খবর জানতে পেরেছি। তারা এরকম মানবিক কাজ অব্যাহত রাখবে এটাই আমার প্রত্যাশা।
নুরজাহান বেগম বলেন, ভাঙা কুড়ে ঘরে ৬ মেয়েকে নিয়ে বসবাস করতাম। ঘরের খুটি নষ্ট হয়ে যাওয়ায় বাশ দিয়ে বাইরে থেকে পেলা দেওয়া হয়েছিল, বেড়া গুলো সম্পুর্ণ নষ্ট হয়ে যাওয়ায় বাইরে থেকে ঘরের ভেতরে দেখা যায় তাই চট দিয়ে চতুর্দিক ঢেকে রেখেছিলাম। আমাদের ঘরের চেয়ে গুরুর গোয়ালও ভালো ছিল, আমাদের সামর্থ্য ছিলনা যে নতুন ঘর দেবো।
মেয়েদের নিয়ে একটি নতুন ঘরে থাকবো দীর্ঘদিনের এমন লাতিত স্বপ্ন পুরণের আশায় এনজিও থেকে ৪৫ হাজার টাকা ঋণ নিয়েছিলাম। কিন্তু টাকা নিয়ে যাওয়ার সময় পথেই টাকা গুলো হারিয়ে আমি সহ পুরো পরিবার দিশেহারা হয়ে গেছিলাম। কারণ আমাদের মতো গরিব মানুষের পক্ষে পুনরায় এতো টাকা গোছানো বা একত্রিত করা সম্ভব না।
তিনি আরও বলেন, সানি ভাই ও তার নার্গিস আপা সহ আপনাদের সবাইকে ধন্যবাদ আমাদের সহযোগীতা করার জন্য। নতুন ঘর পেলে মেয়েদের নিয়ে একটু ভালো থাকতে পারবো এবং আশা করছি বড় দুই মেয়েকে এখন ভালো বিয়ে দিতে পারবো।
এই বিষয়ে নরিনা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবু শামীম বলেন, শাহবাজ খান সানিকে ধন্যবাদ এরকম একটি দরিদ্র পরিবারের সহায়তায় এগিয়ে আসার জন্য সেই সাথে নজর২৪ পত্রিকার সংশ্লিষ্ট সকলকে ধন্যবাদ জানাই।
