রাজিব আহমেদ রাসেল, স্টাফ রিপোর্টার: সিরাজগঞ্জে এক পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে ‘বিয়ের প্রলোভনে’ ধর্ষণের মামলা হয়েছে। কাজিপুর উপজেলার চালিতাডাঙ্গা গ্রামের এক নারী (৪৩) বাদী হয়ে বৃহস্পতিবার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মামলাটি দায়ের করেন।
আসামি জিয়াউর রহমান জিয়া (৪৫) বর্তমানে চৌহালী থানায় কনস্টেবল হিসেবে কর্মরত রয়েছেন।
বাদীর আইনজীবী এস এম ফেরদৌস ওয়াহিদ সুমন মঙ্গলবার বলেন, আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে সিআইডিকে তদন্ত পূর্বক প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন।
এর আগে এই নারী সিরাজগঞ্জ এসপি বরাবর একই অভিযোগ করেছিলেন; এবং তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তাকে পদাবনতি দিয়ে ‘এএসআই’ থেকে ‘কনস্টেবল’ করা হয়।
মামলার নথি থেকে জানা যায়, স্বামীর বিরুদ্ধে নির্যাতনের মামলা দায়ের করার পর কাজিপুর থানায় কর্মরত থাকা অবস্থায় পুলিশ সদস্য জিয়াউর রহমান জিয়ার সঙ্গে বাদীর পরিচয় হয়। এক পর্যায়ে বিয়ের প্রলোভনে ২০২০ সালের ২৫ অক্টোবর বাদীকে প্রথম ধর্ষণ করেন এই পুলিশ সদস্য। এরপর বিয়ে ছাড়াই তারা বেশ কয়েকটি স্থানে বাসা ভাড়া নিয়ে একসঙ্গে বসবাস করেছেন।
এছাড়া আসামি নিজ জেলা রাজশাহীতে ৫ শতক জমি কিনে দেওয়ার কথা বলে সাবেক এনজিওকর্মী বাদীর কাছ থেকে ১০ লাখ টাকা নেন বলেও মামলায় অভিযোগ করা হয়।
অবৈধ মেলামেশায় বাদীর সন্তানসম্ভবা হলে ‘আসামির পরামর্শে’ সেটি নষ্ট করা হয় এবং এসব জানাজানি হওয়ায় বাদীকে তার স্বামী তালাক দিয়েছে বলেও বাদীর অভিযোগ।
“কিন্তু পরবর্তীতে আসামি পুলিশ সদস্য বাদীকে আর বিয়ে করেননি এবং জায়গাও ক্রয় করে দেননি।”
এসব অভিযোগে ২০২০ সালের ৩১ ডিসেম্বর বাদী সিরাজগঞ্জ পুলিশ সুপার বরাবর লিখিত অভিযোগ দেন বলে বাদীর আইনজীবী ফেরদৌস ওয়াহিদ সুমন জানান।
মামলার এজাহারের সঙ্গে অভিযোগের প্রমাণ হিসেবে ভিডিওর দুইটি সিডি আদালতে দাখিল করা হয়েছে বলেও আইনজীবী জানান।
এ বিষয়ে সিরাজগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নুর আলম সিদ্দিকী বলেন, ওই নারীর অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশ সদস্য জিয়াউর রহমান জিয়াকে সাময়িক বরখাস্ত করে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছিল। এরপর বিভাগীয় তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তাকে এএসআই পদ থেকে পদাবনতি দিয়ে কনস্টেবল পদে রাখা হয়েছে।
মামলার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সিআইডির তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে আবার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
অভিযোগ অস্বীকার করে চৌহালী থানার কনস্টেবল জিয়াউর রহমান জিয়া বলেন, ঘটনা সত্য নয়। তার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা করা হয়েছে।
