রাজিব মজুমদার, মীরসরাই (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি- মীরসরাইয়ের বড়তাকিয়ায় কুড়িয়ে পাওয়া ৮ মাস বয়সী ছেলে শিশুটির পরিচয় মিলেছে। ৫ দিন পর রোববার (২০ ফেব্রুয়ারি) রাতে শিশুটিকে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করেছেন মীরসরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মজিবুর রহমান পিপিএম।
এর আগে গত বৃহস্পতিবার মানসিক ভারসাম্যহীন এক নারী শিশুটিকে বড়তাকিয়া হযরত শাহ জাহেদ (রাঃ) মাজারের সামনে রেখে চলে যায়। পরে মীরসরাই থানা পুলিশের ফেসবুক পেজে শিশুটির প্রকৃত অভিভাবকের পরিচয় চেয়ে একটি ছবি পোস্ট করেন।
অনলাইনসহ বিভিন্ন পত্রিকায় ‘কুড়িয়ে পাওয়া শিশুর পরিচয় খুঁজছে মীরসরাই থানা পুলিশ’ শিরোনামে একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়। রিটন ভূঁইয়া তার সন্তান দাবী করে মীরসরাই থানায় যোগাযোগ করেন। পরে মীরসরাই থানায় পুলিশ উপযুক্ত প্রমাণ সাপেক্ষে শিশুটিকে ওই এলাকার স্থানীয় মেম্বার ও পরিবারের সদস্যদের উপস্থিতিতে শিশুটির পিতার কাছে হস্তান্তর করেন।
শিশুটির পিতার পৈত্রিক নিবাস নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ এলাকায়। তারা সীতাকুন্ড উপজেলার ভাটিয়ারীর ৯ নম্বর ওয়ার্ডে পরিবার নিয়ে ভাড়ায় থাকতেন।
এ ব্যাপারে শিশুটির পিতা রিটন ভূঁইয়া বলেন, আমার স্ত্রী মানসিক ভারসাম্যহীন। সকলের অগোচরে বাসা থেকে আমার শিশুপুত্রকে নিয়ে নিরুদ্দেশ হয়ে যায়। পরে অনেক খোঁজাখুঁজির পরও শিশুসহ স্ত্রীর খোঁজ মিলছিল না। তখন আমি সীতাকুন্ড থানায় একটি সাধারণ ডায়েরী করি। পরে বিভিন্ন গণমাধ্যম ও ফেসবুকের মাধ্যমে জানতে পারি আমার শিশুপুত্র মীরসরাই থানা পুলিশের তত্ত্বাবধানে রয়েছে। মীরসরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মজিবুর রহমান স্যারের সাথে যোগাযোগ করার পর তিনি উপযুক্ত প্রমাণ সাপেক্ষে আমার শিশু পুত্রকে হস্তান্তর করেন। আমি পুত্রকে পেয়ে খুবই আনন্দিত।
মীরসরাই থানার অফিসার ইনচার্জ মজিবুর রহমান জানান, কুড়িয়ে পাওয়া শিশুটিকে প্রকৃত অভিভাবকের কাছে হস্তান্তর করতে পেরে ভালো লাগছে। শিশুটির মা মানসিক ভারসাম্য হওয়ায় শিশুটিকে ফেলে চলে যায়। শিশুটিকের হস্তান্তরের সময় মায়ের খোঁজ পাওয়া যায়নি।
