Home দেশের খবর ঢাকা আর পারলাম না ভাই, আমাকে মাফ করে দিস্

আর পারলাম না ভাই, আমাকে মাফ করে দিস্

0
277

মো.রকিবুল হাসান, ঘাটাইল (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি: আর পারলাম না ভাই, আমাকে মাফ করে দিস; ভাই আমার জীবন আর চালাই নিতে পারছি নারে ভাই। প্রতিটি মুহূর্ত যন্ত্রণার। মাহমুদ, অনেক ভালোবাসি ভাই তোকে। আমাকে মাফ করে দিস।

আমার সংসারটা শিলার বাবা, মা আর ওর ভাই নাহিদ নষ্ট করে দিছে। আমার কলিজার টুকরাকেও নিয়ে গেছে ওরা। ভাই, প্রতিদিনের এই যন্ত্রণা কষ্ট থেকে এটা ছাড়া উপায় ছিল না। ভাই, আমার অসহায়ত্ব আর চোখের পানিও ওদের কাছে হাসি-তামাশার মনে হয়েছে। ভাই, বাবুকে দেখে রাখিস। আর পারলাম না ভাই। একটু একটু করে মরার চেয়ে একেবারেই মরে যাওয়া ভালো। তা-ও যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পাব। আমার আব্বা-মাকে মাফ করে দিতে বইলো ভাই।

উপরি-উক্ত এই সুইসাইড নোট তাঁর ছোট ভাই মাহমুদের কাছে লিখে আত্মহত্যা করেছেন বড় ভাই আল আমীন (৪০)। আর সেই সুইসাইড নোটটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে নিজের আইডি থেকে পোস্ট করেছেন মাহমুদ। সুইসাইড নোটের সত্যতা স্বীকার করেন মাহমুদের চাচা আবুল খায়ের খান। আল আমীন টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার দিঘলকান্দি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ইকবাল খানের বড় ছেলে। তিনি ঢাকার একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইন বিষয়ে স্নাতক ছিলেন।

নিহতের পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার দেওপাড়া ইউনিয়নের তালতলা গ্রামের ইউসুফ আলীর মেয়ে শিলাকে বিয়ে করেন তিনি। সম্প্রতি তাঁদের বিবাহবিচ্ছেদ হয়েছে। আশরাফুল নামে তাঁদের দুই বছরের এক ছেলে রয়েছে। বিবাহবিচ্ছেদের পর নিজ সন্তানকে কাছে রাখতে না পারার হতাশায় ভুগছিলেন তিনি। ওই অবস্থায় ১৭ ফেব্রুয়ারি ভাইয়ের কাছে সুইসাইড নোট লিখে ১৮ ফেব্রুয়ারি বিষপান করেন।

গুরুতর অবস্থায় তাঁকে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে তাঁর অবস্থার আরো অবনতি হলে ১৮ ফেব্রুয়ারি রাতেই তিনি
টাঙ্গাইলের কুমুদিনী হাসপাতালে মারা যান। আজ শনিবার ময়নাতদন্ত শেষে বাদ আসর তাঁকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।

ঘাটাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজহারুল ইসলাম সরকার বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে এটি একটি আত্মহত্যা। লাশ ময়নাতদন্তের পর পরিবারের কাছে হস্তাস্তর করা হয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here