ব্যাংকে পড়ে আছে সাড়ে ৩৭ কোটি টাকা, খোঁজ নেই মালিকের

ব্যাংক হিসাব ও টাকা আছে। কিন্তু খোঁজ নেই অ্যাকাউন্টধারীর। কমপক্ষে ১০ বছর লেনদেন হয় না এমন ব্যাংক হিসাব থেকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে অর্থ স্থানান্তরের ঘটনা বাড়ছে প্রতি বছর। ২০১৭ সালে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোতে গ্রাহকের অদাবিকৃত আমানত ছিল ১৫ কোটি ২১ লাখ টাকা। ৫ বছরের ব্যবধানে ২০২১ সালে দ্বিগুণের বেশি বেড়ে সে সংখ্যা ছাড়িয়েছে ৩৭ কোটি ৩৮ লাখ টাকা।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হিসাব অনুযায়ী, ২০২০ সালে গ্রাহকের দাবি না করা ৩৪ কোটি ৪৫ লাখ টাকার বেশি জমা দিয়েছে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো।

এমটিবি ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ মাহবুবুর রহমান বলেন, অনেকের হয়তো মনে নেই। অনেকে দেশের বাইরে চলে গেছেন। আবার অনেকে হয়তো মারা গেছেন- এরকমও আছে। আবার হয়তো কিছু কালো টাকাও আছে। হয়তো নিতে গেলে নমিনীর দায়ভার নিতে হবে।

ব্যাংক আইন অনুযায়ী, নির্ধারিত সময়ের পর গ্রাহকের অদাবিকৃত অর্থ কেন্দ্রীয় ব্যাংক ব্যবহার করতে পারে। যদিও গ্রাহকের দাবির প্রেক্ষিতে যেকোনো সময় আমানতের টাকা ফেরত দিতে হবে বলে জানান বিশ্লেষকরা।

পিআরআই’র নির্বাহী পরিচালক আহসান এইচ মনসুর বলেন, বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এই টাকা হয়তো কেউ দাবি করবে না। আবার কেউ দাবি করতেও পারে। আর টাকাটা বাংলাদেশ ব্যাংক সরকারি কোষাগারে দিয়ে দেবে।

মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ মাহবুবুর রহমান বলেন, গ্রাহকের কাগজপত্র যদি সঠিক থাকে তাহলে গ্রাহক অবশ্যই তার টাকা ফেরত পাবেন।

দাবিবিহীন আমানত ও মূল্যবান সামগ্রী জমা দেওয়ার বিস্তারিত তথ্য জানাতে বাংলাদেশ ব্যাংকের যে নির্দেশনা রয়েছে তাতে বলা হয়েছে, ব্যাংক থেকে বাংলাদেশ ব্যাংকে অর্থ জমা দেওয়ার পরও দুই বছরের মধ্যে দাবিদার এলে টাকা ফেরত দেওয়া হবে।

আর এ জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকে হস্তান্তরিত অদাবিকৃত আমানত ও মূল্যবান সামগ্রীর তালিকা সংশ্নিষ্ট ব্যাংক তাদের ওয়েবসাইটে এবং সরকারি গেজেট ও অন্যূন দুটি পত্রিকায় প্রতি তিন মাসে একবার করে এক বছর ধরে প্রকাশ করবে। বাংলাদেশ ব্যাংকের ওয়েবসাইটেও এক বছর ধরে এ-সংক্রান্ত তথ্য প্রদর্শন করা হবে। এর পরও দুই বছরের মধ্যে কোনো দাবি উত্থাপিত না হলে বাকি অর্থ বা সামগ্রীর ওপর আর কোনো দাবি থাকবে না। পরবর্তী সময়ে তা সরকারের সম্পত্তি হিসেবে গণ্য হবে এবং সরকারের কাছে ন্যস্ত করা হবে।

ব্যাংকগুলো অদাবিকৃত আমানত ও মূল্যবান সামগ্রীর তথ্য বাংলাদেশ ব্যাংকে জমার পরও গ্রাহকের অ্যাকাউন্টে স্বাক্ষরের দলিল ও অন্যান্য দলিল সংরক্ষণ করতে হবে। শুধু কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনার পর আর তথ্য সংরক্ষণ করতে হবে না। একই সঙ্গে সংশ্নিষ্ট ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলার আবেদনপত্রে বাংলাদেশ ব্যাংকে হস্তান্তরের বিষয়টি চিহ্নিত করতে হবে। মৃত ব্যক্তির জমানো অর্থ ফেরত পাওয়ার জন্য মৃত্যু সনদ জমা দিতে হবে। এক্ষেত্রে নমিনি মনোনয়ন করা না থাকলে উত্তরাধিকার সনদ অনুযায়ী উপযুক্ত উত্তরাধিকারী সংশ্নিষ্ট ব্যাংকে আবেদন করবেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *