নিলামে ২ কোটি ৯০ লাখ ৫৫ হাজার টাকায় বিক্রি হয়েছে আলোচিত ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ইভ্যালির সাতটি গাড়ি।
রাজধানীর ধানমন্ডি ১৪ নম্বর সড়কে ভিক্টোরিয়া কনভেনশন সেন্টারে বৃহস্পতিবার বেলা সোয়া ১১টার দিকে এ প্রক্রিয়া শুরু হয়। নিলাম প্রক্রিয়া শেষ হয় বেলা আড়াইটার দিকে।
নিলামে ইভ্যালির সাত গাড়ি কিনলেন যারা
ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ইভ্যালির রেঞ্জ রোবার গাড়িটি বিক্রি হয়েছে ১ কোটি ৮১ লাখ ৫০ হাজার টাকায়। নিলামে এ গাড়ির দর হাঁকিয়েছেন ১৫ জন। এর মধ্যে ১ কোটি ৮১ লাখ ৫০ হাজার টাকা সর্বোচ্চ দর হাঁকিয়ে গাড়িটি কিনে নেন ইঞ্জিনিয়ার হাবিবুর রহমান নামে এক ব্যক্তি। নিলামের শুরুতে গাড়িটির ন্যূনতম নিলাম দর এক কোটি ৬০ লাখ টাকা ধরা হয়েছিল।
ইভ্যালির টয়োটা প্রিউস প্রাইভেট কারটি বিক্রি হয়েছে ১৭ লাখ ৩০ হাজার টাকায়। মোহাম্মদ রিপন ইসলাম নামের এক ক্রেতা এ দর দিয়ে গাড়িটি কেনেন।
ইভ্যালির টয়োটা সিএইচআর মডেলের গাড়িটির সর্বোচ্চ দাম উঠেছে ২৩ লাখ ৮০ হাজার। প্রশান্ত ভৌমিক নামের এক ক্রেতা এ দর হাঁকিয়ে গাড়িটি কেনেন। গাড়িটির ভিত্তি মূল্য ছিল ১৮ লাখ টাকা।
টয়োটা এক্সিও মডেলের গাড়িটি বিক্রি হয়েছে ১৫ লাখ ৩৫ হাজার টাকায়। আবুল হাসনাত রাসেল নামে এক ক্রেতা গাড়িটি নিলামে সর্বোচ্চ এ দর হাঁকিয়ে কিনেছেন। নিলামে গাড়িটির ভিত্তি মূল্য ছিল ৯ লাখ ১৮ হাজার টাকা।
টয়োটা এক্সিও মডেলের দ্বিতীয় গাড়িটির নিলামে সর্বোচ্চ দর উঠেছে ১৫ লাখ টাকা। নিলামে গাড়িটির ভিত্তিমূল্য ছিল ৯ লাখ ১৮ হাজার টাকা। গাড়িটি সর্বোচ্চ মূল্য ১৫ লাখ টাকা দিয়ে কিনেছেন প্রশান্ত ভৌমিক। নিলামের মাধ্যমে দুটি গাড়ি কেনেন তিনি।
ইভ্যালির হোন্ডা ভেসেল গাড়িটির নিলামে সর্বোচ্চ দর উঠেছে ১৭ লাখ ৬০ হাজার টাকা। নিলামের একমাত্র নারী ক্রেতা কানিজ ফাতিমা ১৭ লাখ ৬০ হাজার টাকা দর হাঁকিয়ে গাড়িটি কিনেছে। নিলামে গাড়িটির ভিত্তিমূল্য ছিল ১৬ লাখ টাকা।
নিলামে সর্বশেষ উঠে ইভ্যালির টয়োটা ব্র্যান্ডের মাইক্রোবাসটি। নিলামে মাইক্রোবাসটির সর্বোচ্চ মূল্য উঠে ২০ লাখ টাকা। এ দর হাঁকিয়ে মোহাম্মদ রিয়াজ উদ্দিন নামে এক ক্রেতা গাড়িটি কিনেছেন। নিলামে গাড়িটির ভিত্তিমূল্য ছিল ১২ লাখ টাকা।
নিলাম শেষে ইভ্যালির পরিচালনা পরিষদ বোর্ডের চেয়ারম্যান ও সাবেক বিচারপতি এ এইচ এম শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক বলেন, নিলাম খুব সুন্দর হয়েছে। আমরা গাড়ির যে মূল্য পেয়েছি তাতে খুশি। আমরা নিলামে সাতটি গাড়ি মোট ২ কোটি ৯০ লাখ ৫৫ হাজার টাকায় বিক্রি করেছি।
নিলামের সার্বিক বিষয়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করলেও সাড়ে ১৭ শতাংশ ভ্যাটের জন্য নিলামে গাড়ি কেনা একাধিক মালিক কিছুটা অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তারা বলেন, শোরুম থেকে গাড়িগুলো কিনলে অতিরিক্ত এ ভ্যাট দিতে হতো না। নির্ধারিত মূল্যের মধ্যে ভ্যাটের টাকা চলে আসত। কিন্তু এখানে নিলামের নির্ধারিত দাম পরিশোধের পরও অতিরিক্ত সাড়ে ১৭ শতাংশ ভ্যাট দিতে হবে। তবে এ টাকাটা যেহেতু ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহকদের কাছে যাবে সেক্ষেত্রে তারা এটাকে ইতিবাচক হিসেবেই দেখছেন।
গাড়ি বিক্রির টাকা পাওনাদারদের ফেরত দেওয়া হবে
ইভ্যালির গাড়ি বিক্রির টাকা পাওনাদারদের ফেরত দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির পরিচালনা পর্ষদ বোর্ডের চেয়ারম্যান ও বিচারপতি এ এইচ এম শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক।
তিনি বলেন, আমরা শুরু থেকেই চেষ্টা করছি ইভ্যালির পুঁজি বাড়াতে। কারণ পুঁজি বাড়লে পাওনাদারদের ফেরত দিতে পারবো। গাড়ি বিক্রির অর্থ ইভ্যালির আ্যকাউন্টে যাবে। ভবিষ্যতেও যেগুলো বিক্রি করা হবে তার একটাই উদ্দেশ্য পুঁজি বাড়ানো। গাড়ি বিক্রির টাকাও পাওনাদারদের ফেরত দেওয়া হবে।
বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক বলেন, ইভ্যালির পাওনাদারদের সংখ্যা অনেক বেশি। তবে অডিট করার আগ পর্যন্ত আমরা সঠিক সংখ্যাটা বলতে পারছি না। গাড়ি বিক্রির অর্থ ইভ্যালির অ্যাকাউন্টে যাবে।
এই গাড়িগুলো ইভ্যালির কাজে ব্যবহৃত হতো না জানিয়ে তিনি বলেন, গাড়িগুলো ইভ্যালির উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা নিজেদের কাজে ব্যবহার করতেন। কিছু লোক ইভ্যালির কিছু গাড়ি আটকে রেখেছেন, যা আইনের ভাষায় চুরি। আমরা আগামী রোববার পর্যন্ত অপেক্ষা করবো। এরপর গাড়িগুলো ফেরত না দিলে পুলিশি অভিযানের মাধ্যমে তাদের গ্রেফতার করা হবে। তাদের গাড়ি উদ্ধার করে ভবিষ্যতেও নিলাম প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিক্রি করা হবে।
কতগুলো গাড়ি এখনো বাইরে রয়েছে জানতে চাইলে ইভ্যালির পরিচালনা পর্ষদ বোর্ডের চেয়ারম্যান বলেন, চারটি গাড়ির এখন পর্যন্ত আমরা সন্ধান পেয়েছি। তবে এর বাইরে আরও কয়েকটি গাড়ি রয়েছে। আগামী রোববারের পরে হাতকড়া দিয়ে তাদের (যারা ইভ্যালির গাড়ি ব্যবহার করছেন) নিয়ে আসা হবে। কারণ অন্যের গাড়ি আটকে রাখা হলো চুরি। আমরা তাদের বিরুদ্ধে চুরির মামলা করবো।
‘এখনো বাইরে যে গাড়িগুলো রয়েছে সেগুলো ইভ্যালির সাবেক এমডি রাসেল দিয়েছিলেন। আমরা তাদের ঠিকানা পেয়েছি। তারা গাড়ি লুকিয়ে রেখে বাঁচতে পারবেন না। তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
ইভ্যালির সার্ভারের বিষয়ে তিনি বলেন, অ্যামাজনের সঙ্গে সমঝোতা করে সার্ভারটি খুলতে হবে। কিংবা অন্য যেকোনো প্রক্রিয়ায় এটি আমরা খুলবো।
