রংপুর জুড়ে শনাক্ত ৪১২, কোথাও কোন বিধিনিষেধ নেই

সাইফুল ইসলাম মুকুল, রংপুর ব্যুরো: রংপুর বিভাগে গত ২৪ ঘণ্টায় করোনা সংক্রমিত ৪১২ জন শনাক্ত হয়েছে। এ সময় করোনা আক্রান্ত কোনো রোগীর মৃত্যু হয়নি। ২৪ ঘণ্টায় শনাক্তের হার দাঁড়িয়েছে ৩৮ দশমিক ৯৮ শতাংশে। এর আগের দিন বুধবার ৪৫৬ জন শনাক্ত হয়েছিল। ওই দিন শনাক্তের হার ছিল ৪৬ দশমিক শূন্য ১ শতাংশ।

বৃহস্পতিবার বিকেলে রংপুর বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদফতর থেকে পাঠানো প্রতিবেদনে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য) ডা. আবু মো. জাকিরুল ইসলাম।

স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় ১ হাজার ৫৭ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়। এতে বিভাগের আট জেলার মধ্যে রংপুরের ১৩৪, দিনাজপুরে ৭৬, নীলফামারীর ৫৪, ঠাকুরগাঁওয়ে ৪৮, গাইবান্ধায় ২৮, লালমনিরহাট ২৭, কুড়িগ্রামের ২৪ ও পঞ্চগড়ের ২১ জন করোনা পজিটিভ হিসেবে শনাক্ত হয়েছে।

গত ২৪ ঘণ্টায় বিভাগে করোনা থেকে সুস্থ হয়েছেন ১৪২ জন। বর্তমানে বিভাগে করোনা আক্রান্ত গুরুত্বর ১০২ জনকে হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। এর মধ্যে সংকটাপন্ন ১৪ রোগীকে আইসিইউ-তে রাখা হয়েছে। বাকিদের বাসায় রেখে চিকিৎসা চলছে। পুরো বিভাগজুড়ে এখন পর্যন্ত করোনা আক্রান্ত হয়ে অসুস্থ রয়েছেন ৫ হাজার ৪৫২ জন রোগী।

পরিচালক আরও জানান, রংপুর বিভাগে করোনায় সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত ও মৃত্যু হয়েছে দিনাজপুরে। এ জেলায় সর্বোচ্চ আক্রান্ত ১৬ হাজার ১৩৫ এবং ৩৩৪ জন মারা গেছেন। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ২৯৫ জনের মৃত্যু হয়েছে বিভাগীয় জেলা রংপুরে। এ জেলায় আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৩ হাজার ৯৪৩-তে।

এ ছাড়া জেলা হিসেবে সবচেয়ে কম ৬৩ জন মারা গেছে গাইবান্ধায়। এ জেলায় করোনা শনাক্ত হয়েছে ৫ হাজার ২৩১ জনের। ঠাকুরগাঁওয়ে মৃত্যু ২৫৬ ও শনাক্ত ৮ হাজার ৩২০, নীলফামারীতে মৃত্যু ৮৯ ও শনাক্ত ৫ হাজার ৫২, পঞ্চগড়ে মৃত্যু ৮১ ও শনাক্ত ৪ হাজার ১৪৪, কুড়িগ্রামে মৃত্যু ৬৯ ও শনাক্ত ৪ হাজার ৮৩২ এবং লালমনিরহাট জেলায় মৃত্যু ৭০ ও আক্রান্ত ৩ হাজার ২৮ জন।

তিনি জানান, ২০২০ সালের মার্চে করোনা মহামারি শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত বিভাগে মোট ৩ লাখ ২২ হাজার ১৭৪ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। এর মধ্যে ৬০ হাজার ৬৮৫ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। আট জেলায় মৃত্যু হয়েছে ১ হাজার ২৫৭ জনের। এখন পর্যন্ত বিভাগে সুস্থ হয়েছেন ৫৫ হাজার ২৩৩ জন।

এদিকে, স্বাস্থ্য অধিদফতর থেকে রংপুর বিভাগের দিনাজপুর, পঞ্চগড় ও লালমনিরহাট জেলাকে অধিক ঝুঁকিপূর্ণ বা রেড জোন বলা হয়েছে। এ ছাড়া ইয়েলো জোন বা মধ্যম ঝুঁকিতে রয়েছে রংপুর, কুড়িগ্রাম ও ঠাকুরগাঁও জেলা। কাগজে-কলমে সরকারি নির্দেশনা থাকলেও বাস্তবে বিধিনিষেধ প্রতিপালনে কোনো তৎপরতা না থাকায় ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে ভারতঘেঁষা এই বিভাগ।

সরেজমিনে দেখা গেছে, করোনা সংক্রমণ রোধে সরকারি নির্দেশনা অর্থাৎ বিধিনিষেধ অনুযায়ী কোথাও কার্যক্রম চলছে না। বাধ্যতামূলক মাস্ক পরার কথা থাকলেও হাটবাজার, পরিবহন, হোটেল-রেস্তোরাঁসহ সরকারি-বেসরকারি অফিস-আদালত সবখানেই তা উপেক্ষিত হচ্ছে। স্বাস্থ্যগত সুরক্ষার নীতি অমান্য করে সভা-সমাবেশ, উৎসবসহ সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় কার্যক্রমও অব্যাহত রয়েছে।

রংপুর বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. আবু মো. জাকিরুল ইসলাম বলেন, গণটিকাসহ বিভিন্ন বয়সী মানুষকে টিকার আওতায় আনার ফলে সংক্রমণ ও মৃত্যুর হার আগের চেয়ে কমে আসছে। বর্তমানে নতুন ভ্যারিয়েন্ট ওমিক্রন এবং করোনার ঊর্ধ্বমুখী পরিস্থিতিতে যেভাবে স্বাস্থ্যবিধি উপেক্ষিত হচ্ছে, তা উদ্বেগজনক।

তবে জেলা করোনা প্রতিরোধ কমিটির পক্ষ থেকে জনগণকে সচেতন করতে মুখে মাস্ক পরার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। সেই সঙ্গে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিনা মূল্যে মাস্ক সরবরাহ করা অব্যাহত আছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *