রাজিব আহমেদ রাসেল, স্টাফ রিপোর্টার: যে দেশে প্রধানমন্ত্রী নারী, বিরোধী দলীয় নেত্রী নারী, স্পীকার নারী এবং আমি এমপি নারী। শেখ হাসিনার আমলে নারীদের ওপর অত্যাচার কোন ভাবেই সহ্য করা হবেনা বলে জানিয়েছেন সিরাজগঞ্জ-৬ (শাহজাদপুর) আসনের সংসদ সদস্য ও বাংলাদেশ আ:লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বহী কমিটির সদস্য প্রফেসর মেরিনা জাহান কবিতা।
গতকাল বুধবার (২ ফেব্রুয়ারি) শাহজাদপুরের বাঘাবাড়িতে গিয়ে সাংবাদিক ও গ্রামের নারীদের উদ্দেশ্যে এই কথা গুলো তিনি বলেন।
এসময় তার সাথে উপস্থিত ছিলেন, শাহজাদপুর থানার অফিসার ইনচার্জ শাহিদ মাহমুদ খান, রুপবাটি ইউনিয়নের নব-নির্বাচিত চেয়ারম্যান আব্দুল মজিদ মোল্লা, উপজেলা আ:লীগের কোষাধ্যক্ষ আব্দুস ছালাম ব্যাপারী, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবকলীগের সভাপতি মাহবুবে ওয়াহিদ শেখ কাজল, ফারুক হাসান কাহার প্রমূখ।
জানা যায়, গত ১৯ জানুয়ারি সকালে শাহজাদপুর উপজেলার রুপবাটি ইউনিয়নের বাঘাবাড়ি গ্রামের মোল্লা গ্রুপ ও ঐক্যজোট গ্রুপের মাঝে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে মোল্লা গ্রুপের ইউনুস মোল্লার ছেলে ইয়ারমিন (৩৫) নিহত হয়। এর পর থেকেই গ্রেফতার আতঙ্কে ঐক্যজোট গ্রুপের কয়েকশো মানুষ গ্রাম ছাড়া রয়েছেন।
এমপি মেরিনা জাহান কবিতা বুধবার দুপুরে সংঘাতপূর্ণ বাঘাবাড়ি গ্রামের দুই পক্ষের বাসীন্দাদের সাথেই কথা বলেন। তিনি মৃত ইয়ারমিনের বাড়িতে গিয়ে তার পরিবারের সদস্যদের সান্তনা দেন। পরে ঐক্যজোট পক্ষের নারীদের সাথে মতবিনিময় করেন তিনি।
এসময় তারা এমপি মেরিনা জাহান কবিতাকে জানায়, স্থানীয় কোকিল মোল্লার ছেলে আমিরুলের অত্যাচারে এই গ্রামে নারীদের সন্মান নিয়ে বসবাস করা কঠিন হয়ে পরেছে। দীর্ঘদিন যাবৎ এই মোল্লা বংশের আমিরুল প্রতিনিয়ত নারীদের শ্লীলতাহানী ও ধর্ষণের মতো ঘটনা ঘটিয়ে চলেছে। পাক হানাদার বাহিনীর মতো নারীদের উপর বর্বরতা চালাচ্ছে সে। আমিরুলের ভয়ে এই গ্রামের নারীরা দিনের বেলায় ঘরের দরজা খুলে ঘুমাতে ভয় পায়।
তারা আরও জানায়, স্বামীকে গাছের সাথে বেধে রেখে স্ত্রীকে ধর্ষণের মতো ঘটনা ঘটিয়েছে অভিযুক্ত আমিরুল। এমনকি একজন নারীর উপর কয়েকদফায় বর্বরতা চালানো হয়েছে। এই বিষয়ে তার অভিভাবকদের ও বংশের মানুষের কাছে অভিযোগ দিলে তারা আমিরুলের বিচার করেনা বরং অভিযোগকারীর উপর অত্যাচার নিপীরন করে।
এসময় একজন বৃদ্ধা জানায়, আমার ছেলে গাড়ির ড্রাইভার হওয়ার কারণে মাঝে মধ্যেই বাড়িতে অনুপস্থিত থাকে। তার অনুপস্থিতিতে আমিরুল আমার বাড়ির ৩টি ঘরের দরজা বাইরে থেকে আটকিয়ে আমার ছেলের বৌয়ের ঘরে ঢোকে। এসময় সে আমার ছেলের বৌয়ের সাথে বেয়াদবি করে ও আমার শিশু নাতনীকে চুলের মুঠি ধরে নির্যাতন করে। আমার পুত্রবধু চিৎকার করলেও বাইরে থেকে দরজা আটকানো থাকায় আমরা এগিয়ে যেতে পারিনা।
স্থানীয় নারী বাসীন্দারা আরও জানায়, ইতিপূর্বে আমিরুলের বিরুদ্ধে থানায় অনেক অভিযোগ দেওয়া হয়েছে কিন্তু কোন প্রতিকার হয়নি। তাই গ্রামের মানুষ মেয়ে ও বৌদের ইজ্জত সন্মান বাঁচাতে একতাবদ্ধ হয়ে আমিরুলকে প্রতিহত করার জন্য ঐক্যজোট গঠন করে।
এই বিষয়ে শাহজাদপুর আসনের এমপি প্রফেসর মেরিনা জাহান কবিতা বলেন, এটা কোন রাজনৈতিক সংঘাত নয়। ব্যাক্তিগত ক্ষোভ থেকে দুই পক্ষের সংঘাতের মাধ্যমে এক জনের প্রাণহানীর ঘটনা ঘটেছে, আমি এই মৃত্যুর ঘটনায় ব্যাথিত। আমি প্রশাসনকে নির্দেশনা দিয়েছি যেনো এই গ্রামের মানুষ বিশেষ করে নারীদের যেনো কোন সমস্যা না হয়। নারীদের সর্বোচ্চ নিরাপত্বা নিশ্চিত করা জন্য থানার ওসি ও স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানকে নির্দেশ দিয়েছি।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি আরও বলেন, এই এলাকায় শান্তি শৃংখলা ফিরিয়ে আনার জন্য আমি প্রয়োজনীয় ব্যাবস্থা গ্রহণ করবো। যেই দেশে প্রধানমন্ত্রী নারী, বিরোধী দলীয় নেত্রী নারী, স্পীকার নারী ও আমি এই এলাকার এমপি একজন নারী সেখানে নারীদের উপর অত্যাচার সহ্য করা হবেনা। আমি আবার এক মাস পর এই এলাকায় এসে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করবো।
