সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা হ’ত্যা মামলায় কারাগারে থাকা টেকনাফের আলোচিত ওসি প্রদীপ কুমার দাশের ফাঁ সির আদেশ দিয়েছেন আদালত। বর্তমানে তিনি কক্সবাজার জেলা কারাগারের কনডেম সেলে। প্রদীপকে গ্রেফতারের পর থেকেই কোনো হদিস মিলছে না তার স্ত্রী চুমকি কারণের।
প্রায় চার কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে দুদকের দায়ের করা মামলার প্রধান আসামি চুমকি। এ মামলায় দ্বিতীয় আসামি প্রদীপ। ঘটনার পরপরই আত্মগোপনে চলে যান চুমকি। তিনি যেন দেশত্যাগ করতে না পারেন সেজন্য ব্যবস্থা নিতে পুলিশ সদর দপ্তরে চিঠিও দেয় দুদক। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো হদিস মিলছে না চুমকির।
সোমবার (৩১ জানুয়ারি) অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান হ’ত্যা মামলার রায় ঘোষণা করেন আদালত। রায়ে টেকনাফ থানার বরখাস্ত ওসি প্রদীপ কুমার ও বরখাস্ত পরিদর্শক লিয়াকত আলীর মৃ ত্যু দণ্ড দেওয়া হয়। এদিন অন্য আসামিদের আত্মীয়স্বজন আদালতে উপস্থিত থাকলেও ছিলেন না প্রদীপের স্ত্রী চুমকি।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রদীপপত্নী দেশে কোথাও লুকিয়ে আছেন, নাকি পালিয়ে বিদেশে গেছেন তা বলছেন না স্বজনরা। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীও চুমকির অবস্থানের সঠিক কোনো তথ্য স্পষ্ট করতে পারছে না।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একাধিক কর্মকর্তা জানান, প্রদীপের স্ত্রীকে গ্রেফতারের পরোয়ানা তাদের কাছে এসেছে। তাকে খোঁজা হচ্ছে। বিভিন্ন সংস্থার কাছেও পরোয়ানা পাঠানো হয়েছে। দেশে থাকলে তাকে অবশ্যই গ্রেফতার হতে হবে।
বিভিন্ন সূত্রমতে, প্রদীপ গ্রেফতার হওয়ার পর চুমকি প্রথমে চট্টগ্রাম শহরের সদরঘাটে এক স্বজনের বাসায় কিছুদিন আত্মগোপনে ছিলেন। এরপর থেকে তার আর হদিস মিলছে না। অনেকে ধারণা করছেন, তিনি সীমান্ত পাড়ি দিয়ে ভারতে পালিয়েছেন।
২০২০ সালের ২৩ আগস্ট দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়, চট্টগ্রাম-২ এর তৎকালীন সহকারী পরিচালক মো. রিয়াজ উদ্দিন বাদী হয়ে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে মামলা করেন।
মামলায় প্রদীপের সঙ্গে তার স্ত্রী চুমকিকেও আসামি করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে তিন কোটি ৯৫ লাখ ৫ হাজার ৬৩৫ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন, সম্পদের তথ্য গোপন ও মানি লন্ডারিংয়ের অভিযোগ আনেন তদন্ত কর্মকর্তা। রিয়াজ উদ্দিন জানান, প্রদীপ ঘুস-দুর্নীতির মাধ্যমে উপার্জিত অর্থ স্ত্রীর নামে হস্তান্তর ও স্থানান্তর করেছেন।
