শাহজাদপুরে ফসলি জমির মাটি যাচ্ছে ইটভাটায়, সাংবাদিককে হুমকি

রাজিব আহমেদ রাসেল, স্টাফ রিপোর্টার: শাহজাদপুর উপজেলার নরিনা ইউনিয়নের নাববিলা গ্রামের চড়া থেকে ফসলি জমির টপ সয়েল কেটে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে বিভিন্ন ইটভাটায়। এ নিয়ে সংবাদ প্রকাশ হলেও প্রশাসনের কোন পদক্ষেপ এখনও চোখে পড়েনি।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, নারিনা ইউনিয়নের নাববিলা গ্রামের একটি বিস্তীর্ণ কৃষি জমিতে সারি সারি ট্রাক ভর্তি করে মাটি নিয়ে যাওয়া হচ্ছে বিভিন্ন ইটভাটায়। এই মাটির উৎসের জন্য কিছুদুর গেলে চোখে পড়ে ১০-১৫ জন শ্রমিক বিশাল একটি কৃষি জমির বুক বিদীর্ণ করে মাটি কাটছে।

শ্রামিকদের কাছ থেকে জানা যায়, প্রায় ১০ বিঘা আয়তনের এই জমির মাটি কাটা হচ্ছে প্রায় ২ মাস যাবৎ। এবং এই মাটি কাটার সাথে জড়িত রয়েছে স্থানীয় মশিপুর সরিষাকোল ফাজিল মাদ্রাসার শিক্ষক মোঃ নজরুল ইসলাম। কোথায় যাচ্ছে এ মাটি এমন প্রশ্নের জবাবে তারা মশিপুর সরিষাকোল ফাজিল মাদ্রাসার শিক্ষক নজরুল ইসলাম এর সাথে কথা বলতে বলেন।

এ বিষযে মাদ্রাসার শিক্ষক মোঃ নজরুল এর সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, আপনারা এভাবে বিরক্ত করলে আমি গাড়াদহ ইউনিয়নের চেয়ারম্যানকে নিয়ে এমপি’র কাছে যেতে বাধ্য হবো।

মিঠুন বসাক নামের একজন সাংবাদিককে দেখে নেওয়ার বিষয়ে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি জানান, আমি এমপি’র এলাকার মানুষ এবং আমি জামায়াতে ইসলামীর গাড়াদহ ইউনিয়নের আমির আমাকে বিরক্ত করলে পরবর্তীতে অবশ্যই দেখে নেবো।

এ বিষয়ে ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা আমিরুল ইসলাম কোন বক্তব্য দিতে রাজি নয়।

কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, এতে জমির উর্বরতা শক্তি নষ্ট হবে। বীজ রোপণের পর এই অংশ থেকেই ফসল প্রয়োজনীয় খাদ্য উপাদান গ্রহণ করে বড় হয়, এটাকে টপ সয়েল বলে। এই টপ সয়েল একবার কেটে নিলে সে জমিতে আর প্রাণ থাকে না।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার শাহ মোঃ শামসুজ্জোহা বলেন, ফসলি জমির মাটি কাটা গুরুতর অপরাধ। দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *