মো: নজরুল ইসলাম, ঝালকাঠি: ঝালকাঠি সরকারী হরচন্দ্র বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক ফরিদ হোসেনের বিরুদ্ধে স্কুল তহবিলের ৮২ হাজার টাকা লোপাটের অভিযোগ উঠেছে। ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি জেলা প্রশাসকের অজ্ঞাতে এ অর্থ লোপাটের ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগে জানাগেছে।
ঘটনা উর্ধতন কর্তৃপক্ষের কাছে জানাজানির পর প্রধান শিক্ষিক (ভারপ্রাপ্ত) কে তদন্ত করে প্রতিবেদন প্রদানের নির্দেশ দেয়া হয়। তবে অজ্ঞাত কারনে ৭মাসেও তিনি রিপোর্ট প্রদান করেনি। গত ২৬ জানুয়ারী বরিশাল আঞ্চলিক উপপরিচালক মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা দপ্তরে খোজ
নিয়ে এতথ্য জানাগেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানাগেছে, এ বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক পদশূন্য থাকায় সহকারী শিক্ষক আবু সাইদ মোঃ ফরিদ কিছু দিন ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকের দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে সহকারী প্রধান শিক্ষিক হোসনে আরা আরজু কে (ভারপ্রাপ্ত) প্রধান শিক্ষিক পদে নিয়োগ পেলে বিগত ৫ এপ্রিল ২০২১ তারিখ দায়িত্ব গ্রহন করেন।
তবে দায়িত্ব হস্তান্তর সত্বেও শিক্ষক ফরিদ সোনালী ব্যাংক স্থানীয় শাখায় স্কুলের কারেন্ট হিসাব নং ১০০২৬০৫৫২ থেকে গত ১২ এপ্রিল ২৫হাজার, ৭ এপ্রিল হিসাব নং-১০০২৮৬৫২৮ থেকে ১২ হাজার, ১১ এপ্রিল সেভিংস হিসাব নং- ১০০২৬০৬২২ থেকে ২০হাজার ও একই তারিখ সেভিংস হিসাব নং-১০০২২৮৬৮১ থেকে আরো ২৫ হাজার সহ মোট ৮২ হাজার টাকা উত্তোলন করেন। এঘটনা বিদ্যালয়ে শিক্ষক ও অভিভাবক মহলে জানাজানি হলে তোলপাড় সৃষ্টি হয়।
মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা দপ্তরের সূত্রে জানায়, এবিষয়ে অভিযোগ পেয়ে বরিশাল আঞ্চলিক উপ-পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) মোঃ আনোয়ার হোসেন গত ১৪ জুন ২০২১ তারিখ ৩৭.০২.১০০০.০০০.১১.৯৯.২১/৪০৬ নং স্মারকে তদন্ত পূর্বক প্রতিবেদন প্রদানের জন্য ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক কে নির্দেশ দেন। তিনি গত ১৬আগষ্ট তিনি শিক্ষক ফরিদের লিখিত জবানবন্দি গ্রহন করে আঞ্চলিক উপপরিচালকের নিকট পাঠায়।
শিক্ষক ফরিদ জবানবন্দিতে উত্থাপিত অভিযোগ বানোয়াট ও উদ্দেশ্য প্রনোদিত উল্লেখ করেন। এছাড়া গত ১৪ এপ্রিল ২০২১ তারিখ প্রধান শিক্ষিক পদে দায়িত্ব বুজিয়ে দেন বলে দাবী করেন। অথচ দায়িত্বভার অর্পন পত্রে দেখা গেছে, বরিশাল আঞ্চলিক উপপরিচালক কার্যালয়ের ২৯ মার্চ ২০২১ তারিখে নং- ৩৭.০২.১০০০.০০০.২.২১.২৫৪ স্মারক পত্র মোতাবেক গত ৫ এপ্রিল প্রধান শিক্ষিক (ভারপ্রাপ্ত) আরজু দায়িত্ব গ্রহন করেন।
এ অবস্থায় আঞ্চলিক উপপরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) মোঃ আনোয়ার হোসেন বিগত ৪ নভেম্বর ও ১৩ ডিসেম্বর পৃথক দুটি স্মারক পত্রে ‘বিগত ১৬আগষ্ট প্রেরীত প্রতিবেদনে ‘তদন্ত কর্মকর্তার সুষ্পষ্ট মতামত নেই’ মর্মে উল্লেখ করেন। প্রধান শিক্ষিক (ভারপ্রাপ্ত) আরজুর কাছে দায়িত্ব হস্তান্তরের পর শিক্ষক ফরিদ চেকের মাধ্যমে কোন অর্থ উত্তোলন করেছে কিনা সে বিষয়ে সুষ্পষ্ট মতামতসহ তদন্ত প্রতিবেদন প্রেরনের জন্য তাকে নির্দেশ দেন।
এনিয়ে কয়েক শিক্ষক নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, সহকারী প্রধান শিক্ষিক হোসনে আরা আরজু অত্র বিদ্যালয়ের (ভারপ্রাপ্ত) প্রধান শিক্ষিক পদে ৫ এপ্রিল দায়িত্ব নেয়ার পর থেকে গত অদ্য ২৭ জানুয়ারী পর্যন্ত ৩০দিনও কর্মস্থলে হাজির হয়নি। এসময় অলিখিত ভাবে শিক্ষক ফরিদই প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করে আসছেন।
এ ব্যাপারে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা হোসনে আরা আরজুকে ২৬ জানুয়ারী বুধবার একাধিক বার বিদ্যালয়ে গিয়েও পাওয়া যায়নি। পরবর্তীতে তার ব্যবহৃত সেল(০১৭১৫৪৭৩৪৫২) ফোনে কয়েকবার ফোন ও ক্ষুদে বার্তা প্রেরন করলেও তিনি রিসিভ করেনি।
