আরেক ছাত্রলীগ নেতার মা’দক সেবনের ছবি ভাইরাল

নজর২৪, নারায়ণগঞ্জ- নারায়ণগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগের এক নেতার মাদক সেবনের ছবি ভাইরাল হওয়ার রেশ না কাটতেই এবার মহানগর ছাত্রলীগ নেতার মাদক সেবনের ছবি ছড়িয়ে পড়েছে। এতে ছাত্রলীগ নেতাদের নিয়ে নানা ধরনের সমলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

 

স্থানীয় ও ছাত্রলীগ নেতাদের সূত্রে জানা গেছে, ফতুল্লার চাঁদমারী এলাকার মীর্জা তোফা আহম্মেদ তোলারাম কলেজের অনার্সের শিক্ষার্থী। ২০১৯ সালের জুলাইয়ে মহানগর ছাত্রলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে অর্থ সম্পাদকের পদ পান তোফা। তার বিরুদ্ধে তোলারাম কলেজে বিভিন্ন শিক্ষার্থীকে মারধর, চাষাঢ়া রেল স্টেশনে প্রকাশ্যে মাদক সেবন ও বিক্রির অ’ভিযোগ রয়েছে।

 

এছাড়াও কলেজ ক্যাম্পাসের আশপাশে মাদক বিক্রি ও চাষাঢ়া প্লাটফর্মে ছিন’তাইকারীদের মদদ দেয়ারও অ’ভিযোগ রয়েছে এ নেতার বিরুদ্ধে। এর আগে জেলা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মিরাজের মাদক সেবনের ছবি গণমাধ্যমে প্রকাশ পায়।

 

এদিকে ছাত্রলীগ নেতা তোফা আহম্মেদকে আগামী ৩ দিনের মধ্যে মাদকসেবী কি না ডোপ টেস্টের মাধ্যমে তার প্রমাণ দিতে বলা হয়েছে। এ বিষয়ে তোফার বাবা মায়ের লিখিত দরখাস্তও চেয়েছে ছাত্রলীগ। ডোপ টেস্টের সার্টিফিকেট না দেওয়া পর্যন্ত মহানগর ছাত্রলীগের সকল কার্যক্রম থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

 

বৃহস্পতিবার নারায়ণগঞ্জ মহানগর ছাত্রলীগের সভাপতি হাবিবুর রহমান রিয়াদ ও সাধারণ সম্পাদক হাসনাত রহমান বিন্দুর স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এমন তথ্য জানানো হয়।

 

বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, ‘বাংলাদেশ ছাত্রলীগ, নারায়ণগঞ্জ মহানগর শাখার অর্থ বিষয়ক সম্পাদক তোফা আহম্মেদের মাদক সেবনের ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়। সেই প্রেক্ষিতে তোফা আহম্মেদকে নোটিশ জারি করা হলো। আপনি মাদক সেবী কিনা আগামী ৩ দিনের মধ্যে ডোপ টেস্টের সার্টিফিকেট এবং উক্ত বিষয়ে আপনার বাবা মায়ের লিখিত দরখাস্ত নারায়ণগঞ্জ মহানগর ছাত্রলীগের দপ্তর সেলে জমা দিতে হবে।’

 

বিজ্ঞপ্তিতে আরো বলা হয়, ‘এই মর্মে বিষয়টি সমাধান কিংবা প্রমাণ না হওয়া পর্যন্ত তোফা আহম্মেদকে নারায়ণগঞ্জ মহানগর ছাত্রলীগের সকল কার্যক্রম থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেয়া হলো। ডোপ টেস্টসহ অন্যান্য কাগজপত্র হাতে পাওয়ার পরেই আমরা বাংলাদেশ ছাত্রলীগ, কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের মাধ্যমে ব্যবস্থা গ্রহণ করব।’

 

এ প্রসঙ্গে মহানগর ছাত্রলীগের সভাপতি হাবিবুর রহমান রিয়াদ বলেন, ‘ছাত্রলীগের যে কোনো কর্মীই হোক না কেন তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত করে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এটি একটি সতর্কবার্তা। একেএম শামীম ওসমান এবং অয়ন ওসমানের নেতৃত্বে নারায়ণগঞ্জে ছাত্রলীগের কার্যক্রম পরিচালনা হচ্ছে। ছাত্রলীগে কোনো মাদকসেবী ও সন্ত্রাসীর স্থান নাই।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *