আমি চাই আমাকে চাপে ফেলুক: মেহজাবিন

বিনোদন ডেস্ক- বর্তমান সময়ে টিভি নাটকে জনপ্রিয় অভিনেত্রীর নাম মেহজাবিন চৌধুরী। অভিনয় দিয়ে মন কেড়েছেন কোটি দর্শকের। তার অভিনয়ে মুগ্ধ হননি এমন মানুষের সংখ্যা খুবই কম। অভিনয় দিয়ে জনপ্রিয়তায় আকাশচুম্বী জায়গা করে নিয়েছেন এ অভিনেত্রী।

তার অভিনয় এবং নাটকের জন্য সবসময় আলোচনায় থাকেন তিনি। আগামী ভালোবাসা দিবসের কাজ ও অন্যান্য প্রসঙ্গে সম্প্রতি এক জাতীয় দৈনিকের সঙ্গে কথা বলেছেন তিনি। সাক্ষাৎকারের কিছু অংশ তুলে ধরা হলো-

প্রশ্ন: শুনছি বেশির ভাগ অভিনয়শিল্পী ভালোবাসা দিবসের কাজ নিয়ে ব্যস্ত। আপনার কী অবস্থা?

মেহজাবিন: ভালোবাসা দিবসের পুরোনো কয়েকটি নাটক প্রচারিত হবে শুনেছি। নতুন কয়েকটি কাজ করা যায় কি না দেখছি এবং ভাবছি। দেখা যাক, শেষ পর্যন্ত কী হয়।

প্রশ্ন: সম্প্রতি মেরিল–প্রথম আলো তারকা জরিপ এবং সমালোচক—দুই বিভাগে পুরস্কার পেলেন। আপনার অনুভূতি জানতে চাই।

মেহজাবিন: আমার কাছে তো এর চেয়ে ভালো অনুভূতি হতেই পারে না। আগে দুবার তারকা জরিপে দর্শকের ভালোবাসা পেয়েছি। অভিনয় অঙ্গনের গুণী ব্যক্তি, অভিনয়ের জন্য যাঁদের আইডল মানি, তাঁরা যখন কাজ বিচার করেন, পছন্দ করেন, নম্বর দেন—সেটা তো অনেক বড় পাওয়া। তাঁদের চোখে অভিনেত্রী হিসেবে সেরা হওয়াটা ডিফিকাল্ট।

তাঁরা যে আমাকে পুরস্কারটা দিয়েছেন, এটাই অনেক বড় অর্জন। মনে মনে আমার নিজেরও ইচ্ছা ছিল, যেহেতু দুই বিভাগে প্রথমবার মনোনয়ন পেলাম, ইশ্‌, পুরস্কার যেন পাই। আর কবে দুই বিভাগে নমিনেশন পাই কি না পাই…।

প্রশ্ন: এ ধরনের পুরস্কার পরের কাজের ক্ষেত্রে কেমন প্রভাব ফেলে?

মেহজাবিন: অ্যাওয়ার্ড পাচ্ছি বা কাজ করছি তো খুব বেশি দিন হচ্ছে না। ভালো কাজের ইচ্ছাটা সব সময় ছিল। সামনে কাজ কেমন করতে পারব, তা তো জানি না, তারপরও ভালো কাজ করার ইচ্ছা থাকবে। কারণ, আমি গুড কম্পিটিশনকে সব সময় অ্যাপ্রিশিয়েট করি। কারণ, এই কম্পিটিশনই যদি না থাকে জীবনে, তাহলে ভালো করার প্রচেষ্টা চলে যাবে।

আমি রিলাক্স আসলে চাই না। সব সময় চাই, আমার স্ক্রিপ্ট রাইটার ও ডিরেক্টররা আমাকে চাপে ফেলুক। এমনকি ভালো অভিনয় করে আমার কো–আর্টিস্টরা আমাকে চাপে ফেলুক। দর্শকেরাও আমাকে চাপে ফেলুক। আমি ওই চাপটা নিতে চাই, যাতে আমার ভেতর থেকে আরেকটু ভালো কিছু বের হয়ে আসে।

প্রশ্ন: এই যে এত বছর ধরে কাজ করছেন, কোন ডিরেক্টররা আপনাকে বেশি চা রেখেছেন?

মেহজাবিন: সব সময় সব পরিচালকই চাপে রেখেছেন। তবে নাম যদি নিতেই হয়, তিনজনের নাম নিতে চাই। আশফাক নিপুণ—তাঁর প্রতিটি কাজই আমার জন্য চ্যালেঞ্জিং। প্রতিটি চরিত্র নতুন মনে হয়। ভিকি জাহেদ—তাঁর প্রতিটি গল্প পড়ে আমি মুগ্ধ হই। প্রতিবার নিজেকে প্রশ্ন করি, আমি এটা পারব তো? আরেকজন মিজানুর রহমান আরিয়ান—আমার অভিনয় ক্যারিয়ারে তাঁর অন্য রকম অবদান আছে। লম্বা গ্যাপের পর আমাদের কাজ ছিল বড় ছেলে। এই নাটক আমাকে দেশের আনাচকানাচে পৌঁছে দিয়েছে। এমন কোনো মানুষ খুঁজে পাইনি, যিনি বড় ছেলে দেখেননি।

প্রশ্ন: কোন অভিনয়শিল্পীরা আপনাকে চ্যালেঞ্জের মধ্যে রাখেন?

মেহজাবিন: অনেক শিল্পী আছেন। একেবারে শুরুর দিকে আমাকে নাটকে অভিনয়ের ব্যাপারে সবচেয়ে বেশি ইন্সপায়ার করেছেন সজল ভাইয়া। তিনি যদি ওই সময়ে আমাকে সাপোর্ট না করতেন, ইন্সপায়ার না করতেন, তাহলে হয়তো অভিনয়ে নিয়মিত হতাম না। অভিনয়ে আমাকে নিয়মিত করার পেছনে তাঁর বড় একটি অবদান আছে। সজল ভাইয়া তখন সুপারস্টার, কিন্তু তিনি ডাউন টু আর্থ কাজ করতে না গেলে বুঝতে পারতাম না।

অভিনয়ের ভিন্নধর্মী চরিত্রে কাজ করার ক্ষেত্রে ইন্সপায়ার করেছেন নিশো ভাইয়া (আফরান নিশো)। আমার অভিনয় ইমপ্রুভমেন্টের পেছনে তাঁর অবদান অনেক। কাজ বাছাই থেকে শুরু করে অভিনয়–কৌশল এবং খুঁটিনাটি বিষয় শেখানোর ক্ষেত্রে অপূর্ব ভাইয়া। তাঁর কাছেও অনেক কিছু শিখেছি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *