নজর২৪ ডেস্ক- কাজী হায়াতের ‘বর্তমান’ সিনেমা দিয়ে ১৯৯৮ সালে রুপালি পর্দায় পা রাখেন রাইমা ইসলাম শিমু। এরপর একে একে কাজ করেছেন ২৩টির মতো সিনেমায়। নাম লিখেছেন নাটকেও। হয়তো নিজেকে আরও ভালোভাবে মেলে ধরার সুযোগ ছিল তার। কিন্তু অকালেই চলে যেতে হলো এই অভিনেত্রীকে। স্বামীর হাতে নি র্ম ম হ ত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন তিনি।
তদন্তকারীরা বলছেন, পারিবারিক কলহের জেরে স্বামী সাখাওয়াত আলী নোবেলই শিমুকে হ ত্যা করেন। রবিবার সকালে নিজের ফ্ল্যাটেই এই হ ত্যাকাণ্ড ঘটে। এরপর শিমুর লাশ সরাতে গিয়ে বিপাকে পড়েন নোবেল। এক পর্যায়ে ফোন দিয়ে ডেকে আনেন বাল্যবন্ধু আব্দুল্লাহ ফরহাদকে। এরপর দুইজন মিলে লাশ গুমের পরিকল্পনা করতে থাকেন।
শেষ পর্যন্ত বাইরে থেকে দুইটি বস্তা আনেন। সেই বস্তায় শিমুর লাশ ভরে তা গাড়িতে তুলেন। এরপর রোববার দিনভরই লাশ ফেলতে গাড়ি নিয়ে ঘুরতে থাকেন তারা। শেষ পর্যন্ত রোববার রাতে লাশ ভরা বস্তাটি কেরাণীগঞ্জের আলীপুর ব্রিজের পাশে ফেলতে পারেন। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে এসব তথ্য দিয়েছেন নোবেল ও ফরহাদ।
চিত্রনায়িকা শিমুকে হ ত্যাকাণ্ডের ঘটনায় এরই মধ্যে পুলিশ এই দুইজনকে গ্রেপ্তার রিমান্ডে নিয়েছে। তারা কেরাণীগঞ্জ মডেল থানা পুলিশের হেফাজতে রয়েছেন।
পুলিশ বলছে, বাসা থেকে লাশ বের করতেও নাটক করেছিলেন নোবেল। নিরাপত্তা কর্মীকে গেট থেকে সরাতে তাকে নাস্তা কিনতে পাঠিয়েছিলেন। ওই সুযোগে বস্তায় ভরা লাশটি দুই বন্ধু মিলে গাড়ির পেছনে তুলে ফেলেন।
ওই দুইজনকে জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্য তুলে ধরে কেরাণীগঞ্জ মডেল থানার ওসি আবদুস ছালাম বলেন, ’শিমুর লাশ লম্বালম্বি করে দুটি পাটের বস্তায় ভরে প্লাস্টিকের সুতা দিয়ে সেলাই করা হয়। এরপর নোবেল তার ব্যক্তিগত গাড়ির পেছনের আসনে লাশের বস্তাটি রাখেন।’
‘প্রথমে তারা গাড়িটি নিয়ে মিরপুরের দিকে গিয়েছিলেন। কিন্তু সেখানে লাশ ফেলার উপযুক্ত পরিবেশ না পেয়ে তারা আবার বাসায় ফেরেন। তখনও শিমুর মরদেহ ভরা বস্তাটি গাড়িতেই ছিল। রোববার সন্ধ্যায় আবার তারা লাশ গুম করতে বের হন’-বলছিলেন ওসি আবদুস সালাম।
ফরহাদ পুলিশকে বলেছেন, সন্ধ্যার দিকে তারা গাড়িটি চালিয়ে মোহাম্মদপুরের দিকে যান। এরপর বছিলা ব্রিজ এলাকা ঘুরতে থাকেন। রাত সাড়ে ৯টার দিকে আলীপুর ব্রিজের কাছে গিয়ে বস্তাটি ফেলে চলে আসেন।
কেরাণীগঞ্জ মডেল থানার ওসি বলেন, লাশ ফেলে দুইজনে ফিরে শিমুর সন্ধান চেয়ে আবার কলাবাগান থানায় জিডি করেন। এই জিডির বাদি হন নোবেল। তারা নিখুতভাবে কাজটি করে স্বাভাবিক আচরণ করছিলেন। কিন্তু যে সুতা দিয়ে বস্তা সেলাই করা হয়েছিল, সেই সুতার বান্ডেল পাওয়া যায় গাড়িটিতে। এতে ধরা পড়েন ওই দুইজন।
‘লাশ ফেলে গাড়িটি ধোয়া হয়েছিল। এরপর তাতে ব্লিচিং পাউডার দেওয়া হয়। তাতে সন্দেহ আরও বাড়ে। যা হিসেব মেলাতে পুলিশের আরো সহজ হয়’ বলেন ওসি।
