নজর২৪ ডেস্ক- নারায়ণগঞ্জ সিটি নির্বাচনে স্বতন্ত্র মেয়র পদপ্রার্থী তৈমূর আলম খন্দকার মনে করেন, নির্বাচনি প্রচারণার মধ্যে বিএনপি কৌশলগত কারণে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নিলেও দলের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা তাকে সমর্থন দিয়ে যাচ্ছেন।
নারায়ণগঞ্জ সিটিতে ভোটের দুই দিন আগে বৃহস্পতিবার (১৩ জানুয়ারি) সকালে সংবাদমাধ্যমকে দেয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন তৈমূর আলম খন্দকার।
তিনি বলেন, দল আমার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছে, এটি একটি রাজনৈতিক কৌশল। দলের সম্মতির বাইরে আমি নির্বাচনে আসিনি। দলের সঙ্গে দলের কেন্দ্রীয় ও জেলা পর্যায়ের নেতা-কর্মীরা আছেন। তারা প্রচারণায় অংশ নিচ্ছেন। দল দুই টুকরা হলেও আমার সঙ্গে সম্পর্ক সব সময় একই থাকবে, এটা কখনও নষ্ট হবে না।
তৈমূর বলেন, নারায়ণগঞ্জ হয়ে গেছে আলাল-দুলালের শহর। আলাল একদিকে গেলে দুলাল উল্টাপথে চলে। এমপি যদি একদিকে যায়, উল্টা দিকে যায় মেয়র। একই দলের হয়েও তাদের মধ্যে কোনো সমন্বয় নেই। জনসেবায় কোনো পারসোনাল ইগোর জায়গা নেই, কিন্তু তাদের পারসোনাল ইগোর কারণে নারায়ণগঞ্জবাসী ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। গত ১৮ বছর ধরে নারায়ণগঞ্জে এই অবস্থা চলছে। মানুষ এখন এই অবস্থা থেকে পরিত্রাণ চায়। সেই সঙ্গে সারা জীবন আমি জনগণের জন্য কাজ করে এসেছি, আমি জনগণের নেতা, মানুষ এখন আমাকে চায়।
তিনি বলেন, আমি মনে করি, এবার ভোটকেন্দ্রে সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ থাকবে এবং মানুষ ভোট দেবে। তবে প্রশাসন কিছুটা ব্যাঘাত ঘটানোর চেষ্টা করছে। আজকেও আমার বাড়ির সামনে ১৫ জন পুলিশ ছিল। পুলিশ যদি এমন করে তাহলে কর্মীরা আমার বাসায় আসতে পারছে না। আমার একাধিক কর্মী আটক হয়েছে। বিএনপির সব নেতা-কর্মীর নামেই মামলা আছে। এত দিন ধরে নাই, এখন ধরছে। এর কারণ তো স্পষ্ট।
বিএনপির প্রভাবশালী এ নেতা বলেন, আমি প্রধানমন্ত্রীর কাছে সবিনয় নিবেদন করছি, নির্বাচনটা যেন অবাধ ও সুষ্ঠু করতে সব পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। এই নির্বাচন সুষ্ঠু না হলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন প্রধানমন্ত্রী নিজেই, তখন মানুষের আস্থা নষ্ট হবে। তা ছাড়া ভোটকেন্দ্র দখলের কোনো চেষ্টা হলে তা রুখে দিতে আমরা প্রস্তুত আছি। এরপরও যদি সুষ্ঠু ভোট না হয় তখন সরকার বুঝবে আন্দোলন কাকে বলে।
