ঢাকা- পৌষের এই শেষ সময়ে হঠাৎ করে উষ্ণতা বেড়ে গিয়েছিল। চার দিন ধরে প্রতিদিন তাপমাত্রা পাল্লা দিয়ে বাড়তে শুরু করেছিল। তবে পৌষ মাসের ওই ব্যতিক্রম আবহাওয়ার অবসান হতে চলেছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস বলছে, মঙ্গলবার থেকে দেশের বেশির ভাগ এলাকায় তাপমাত্রা আবারও কমতে শুরু করবে। কারণ, আকাশে জড়ো হওয়া মেঘ বৃষ্টি ঝরাতে পারে। থেমে থেমে ওই ঝিরিঝিরি বৃষ্টি দুই–তিন দিন চলতে পারে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস বলছে, মঙ্গলবার থেকে ঢাকা, ময়মনসিংহ, রাজশাহী ও খুলনা বিভাগ এবং কুমিল্লা ও নোয়াখালী এলাকায় থেমে থেমে বৃষ্টি হতে পারে। বৃষ্টি শুরু হওয়ার ফলে দেশের বেশির ভাগ এলাকার দিনের তাপমাত্রা ১ থেকে ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস কমতে পারে।
এরপর ধারাবাহিকভাবে তাপমাত্রা কমে আবারও শীতের অনুভূতি ফিরে আসতে পারে। বৃষ্টি থেমে যাওয়ার পর দিন ও রাতের তাপমাত্রা দ্রুত কমে আবারও শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে।
অধিদফতরের আবহাওয়াবিদ মো. শাহিনুল ইসলাম বলেন, ‘আজ এবং কাল হালকা ও গুঁড়িগুঁড়ি বৃষ্টির সম্ভাবনা আছে। এই দুইদিন রোদ কম থাকবে। কিছুটা রোদ, কিছুটা মেঘলা আবার কিছুটা বৃষ্টি এরকমভাবে চলতে পারে। এরপর একদিনের জন্য আবহাওয়া ভালো থাকতে পারে। তারপর আবারও মেঘের সঙ্গে হালকা বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। আগামী ১৬ এবং ১৭ জানুয়ারির পর শীত বাড়তে পারে।’
তিনি বলেন, ‘বৃষ্টি শেষ হওয়ার পরে তাপমাত্রা কমতে শুরু করবে। তাপমাত্রা কমলে রাজশাহী, শ্রীমঙ্গল, নওগাঁ, পাবনা, যশোর ও চুয়াডাঙ্গার উপর দিয়ে শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।’
এর আগে, গত ২ জানুয়ারি চলতি মাসের পূর্বাভাস দিতে মিটিংয়ে বসে আবহাওয়া অধিদফতরের বিশেষজ্ঞ কমিটি। ঐ সভা থেকে জানুয়ারি মাসের পূর্বাভাসে বলা হয়, বছরের সবচেয়ে শীতলতম মাস জানুয়ারিতে সর্বোচ্চ তিনটি শৈত্যপ্রবাহ আসতে পারে। এর মধ্যে একটি তীব্র আকার ধারণ করতে পারে এবং জানুয়ারি মাসে ঢাকায় স্বাভাবিকের চেয়ে কম বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা আছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, শৈত্যপ্রবাহগুলোর মধ্যে একটি তীব্র (৪ থেকে ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস) হতে পারে। এ মাসে দিনের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে কিছুটা কম থাকতে পারে। এছাড়া জানুয়ারি মাসে দেশের উত্তর, উত্তর-পূর্বাঞ্চল, উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল ও মধ্যাঞ্চলে এবং নদ-নদী অববাহিকায় মাঝারি বা ঘন কুয়াশা এবং অন্যত্র হালকা বা মাঝারি কুয়াশা পড়তে পারে। ঘন কুয়াশা পরিস্থিতি কখনো কখনো দুপুর পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে।
