৩ শিশু সন্তানের দুধের জন্য বৃত্তবানদের সাহায্য চান অসহায় বাবা!

পাবনা প্রতিনিধি- পরিবারে সন্তান জন্ম নিলে সবার মধ্যে বিরাজ করে আনন্দ উচ্ছাস। আবার কিছু পরিবারে সন্তান জন্ম হবার পরে দুঃশ্চিন্তা যেন নিত্য সঙ্গী হয়ে ওঠে। সদ্য জন্ম নেওয়া শিশুগুলোর দুধের জন্য যখন কোন বাবাকে অন্যের দারস্থ হতে হয় তখন সেই বাবাই উপলব্ধি করতে সক্ষম হয় কতটা মনক’ষ্ট নিয়ে এমন কাজ করছে সে।

 

গত ২২ সেপ্টেম্বর চাটমোহর উপজেলার ডিবিগ্রাম ইউনিয়নের দাঁথিয়া কয়রাপাড়া গ্রামের জাহাঙ্গীর আলম ও সাবিনা খাতুন দম্পতির ঘর আলো করে সিজারের মাধ্যমে এক সাথে তিন সন্তানের জ’ন্ম হয়। দরিদ্র দিন মজুর কৃষক দম্পতি প্রথম দিকে খুশি হলেও পরবর্তী সময়ে শিশু তিনটির চিকিৎসা খরচ এবং দুধ ক্রয় করতে গিয়ে রীতিমত হিমশিম খাচ্ছেন বাবা জাহাঙ্গীর আলম।

 

দিন মজুরী করে যে কয়টা টাকা আয় করছেন সেটা সহ আরো টাকা ধার দেনা করে প্রিয় সন্তানদের জন্য ক্রয় করছেন দুধ। এর উপর সংসারের অন্যান্য খরচ তো রয়েছেই। লোকলজ্জা ভুলে সন্তানদের আহারের জন্য হাত বাড়িয়েছেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের ও বৃত্তবানদের কাছে।

 

স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা আশ্বাস দিলেও মিলেনি কোন সুযোগ সুবিধা। তবে চাটমোহর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ আব্দুল হামিদ মাষ্টার শিশুগুলোর পিতা জাহাঙ্গীরকে উপজেলা পরিষদে ডেকে নিয়ে খাদ্য সামগ্রীর একটি বড় প্যাকেট ও নগত অর্থ সহায়তা করেছেন।

 

জাহাঙ্গীর আলম বলেন, অনেক কয়েক বছর পরে এক ছেলে সন্তানের আশা করে আল্লাহ আমাকে এক সাথে দুই ছেলে, এক মেয়ে দিয়েছেন। আমি একজন দিন মজুর মানুষ। আমার পক্ষে তিন তিনটি শিশু সন্তানের ভরন পোষন করা একেবারেই অসম্ভব হয়ে পড়েছে। আমার পরিবারও অসুস্থ। শিশু তিনটির প্রতিদিন প্রায় দুই প্যাকেট দুধ কিনতে হয়। এছাড়া জন্মের পর থেকে তাদের অসুখ বিসুখ তো লেগেই আছে। মানুষের কাছে হাত পাতা অত্যন্ত নিচু কাজ জেনেও একপ্রকার বাধ্য হয়ে মানুষের সাহায্য সহযোগীতা কামনা করছি।

 

এ বিষয়ে ডিবিগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. নবীর উদ্দিন মোল্লা বলেন, শিশু তিনটির পিতা জাহাঙ্গীর আলম আমাকে ফোন করে সাহায্যের জন্য বলেছে কিন্তু সে পরিষদে আসেনি। তবে এখন পরিষদ থেকে সাহায্য করার মতো তেমন কিছু নেই। সামনে সরকারি বিভিন্ন ভাতা কার্ড পরিষদে আসলে তাকে সেখান থেকে কিছু করা যেতে পারে।

 

এ বিষয়ে জানতে চাইলে চাটমোহর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সৈকত ইসলাম বলেন, আমার নিকট ইতিমধ্যে ঐ শিশু তিনটির পিতা সাহায্য প্রার্থনা করে একটি আবেদন করেছে। আবেদনটি পেয়েই আমি উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তাকে ডেকে মাতৃত্বকালিন একটি ভাতা কার্ড করে দেওয়ার নির্দেশ প্রদান করেছি। এছাড়া উপজেলা প্রশাসন থেকে যতটুকু সম্ভব তাকে সাহায্য করার প্রতিশ্রুতি প্রদান করেছি।

 

যদি কোন স্ব-হৃদয়বান ব্যক্তি শিশু তিনটিকে সাহায্য করতে চান তাহলে ০১৭৭০৩৫৮১৭১ (বিকাশ) এই নাম্বারে জাহাঙ্গীর আলমের সাথে কথা বলে আর্থিক সহায়তা করতে পারেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *