রাজবাড়ীতে পেঁয়াজ চাষে ব্যস্ত কৃষক

রাকিবুল ইসলাম রাফি, রাজবাড়ী প্রতিনিধি: রাজবাড়ীতে পেঁয়াজ চাষে ব্যস্ত সময় পার করছে কৃষকরা। এখন জমিতে দল বেঁধে পেঁয়াজের চাষ করছে রাজবাড়ীর চাষিরা। তবে দেশীয় পেঁয়াজের চেয়ে হাইব্রিড জাতের কিং পেঁয়াজ বেশি লাগানো হচ্ছে।

 

চাষিরা বলছেন অল্প খরচে ভালো ফলন হওয়ায় এই হাইব্রিড জাতের কিং পেঁয়াজ লাগানো হচ্ছে। রাজবাড়ীর পেঁয়াজের সুনাম দীর্ঘদিনের। দেশের মোট চাহিদার ১৪ শতাংশ পেঁয়াজ উৎপাদন হয় এই জেলায়। মুড়িকাটা ও হালি জাতের পেঁয়াজ চাষ করেন এখানকার চাষিরা।

 

জানা যায়, রাজবাড়ী দল বেঁধে একসাথে জমিতে পেঁয়াজের চারা রোপন করছেন চাষিরা। এবার পেঁয়াজের দাম হওয়ায় রাজবাড়ীতে পেঁয়াজ চাষে আগ্রহ বৃদ্ধি পেয়েছে চাষিদের। অন্য সব ফসলের পাশাপাশি পেঁয়াজ চাষের প্রতি গুরুত্ব দিচ্ছেন চাষিরা।

 

সদর উপজেলার হৃদয় নামের এক শিক্ষার্থী জানান, এখন স্কুল বন্ধ রয়েছে। তাই অন্যের জমিতে পেঁয়াজ লাগাতে এসেছে। চারশত টাকা হাজিরাতে সে পেঁয়াজ লাগাতে এসেছে। এই টাকা দিয়ে সে বই খাতা সহ নিজের চাহিদা মতো জিনিস কিনবে।

 

পাংশা উপজেলার পশ্চিম প্রেমটিয়া গ্রামের কৃষক বিপ্লব হোসেন বলেন, ‘গত বছর আমি ১৮৬ শতাংশ জমিতে পেঁয়াজ চাষ করেছিলাম। কিন্তু এ বছরে পেঁয়াজের মোটামুটি দাম থাকায় ২৫০ শতাংশ জমিতে পেঁয়াজ লাগাচ্ছি। শ্রমিক ঠিকমতো না পাওয়ায় অন্য জেলার শ্রমিকদের দিয়েও পেঁয়াজ লাগাচ্ছি।’

 

কৃষক শাহজাহান জানান, এবার পেঁয়াজের দাম ভালো হয়েছে। তাই এবারে একটু বেশি করে পেঁয়াজ চাষ করেছি।

 

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, রাজবাড়ীতে দুই ধরনের পেঁয়াজ আবাদ হয়। মুড়িকাটা ও হালি। গতবছর জেলায় ৩১ হাজার ৬৬৫ হেক্টর জমিতে পেঁয়াজের আবাদ হয়েছে। এরমধ্যে হালি পেঁয়াজ ২৬ হাজার ১৬৫ হেক্টর এবং মুড়িকাটা পেঁয়াজ ৫ হাজার ৫৫০ হেক্টর জমিতে। লক্ষ‌্যমাত্রা ছিলো ৪ লক্ষ ২ হাজার মেট্রিক টন। এবছর লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাওয়ার আশা কৃষি বিভাগের।

 

রাজবাড়ী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক এস.এম.শহীদ নূর আকবর বলেন, ‘পেঁয়াজ চাষে উদ্বুদ্ধ করতে চাষিদের বিভিন্ন পরামর্শ দেওয়া হয়। একইসঙ্গে কৃষকদের সহজ শর্তে ঋণও দেওয়া হয়। এই পেঁয়াজটা মার্চ এপ্রিল দিকে চাষিরা তুলতে পারবেন। এমনকি বাম্পার ফলন হবে বলেও আশা করছেন কৃষি বিভাগ। বাংলাদেশের যে পাঁচটি জেলায় পেঁয়াজের বেশি উৎপাদন হয় তার মধ্যে রাজবাড়ী তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে। আবহাওয়া ভালো থাকলে এবার রাজবাড়ীর পেঁয়াজ দিয়ে দেশের বড় একটি চাহিদা মেটানো যাবে বলে মনে করছি।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *