নজর২৪ ডেস্ক- সারা দেশের তাপমাত্রা আবারও কমতে শুরু করেছে। রাজধানীসহ দেশের বড় শহরগুলোতেও শীত বাড়তে শুরু করেছে। বিশেষ করে ভোরে ও সন্ধ্যায় শীত অনুভূত হচ্ছে বেশি। ঘরের বাইরে বের হলে গরম কাপড় চাপাতে হচ্ছে গায়ে।
তবে আবহাওয়া অধিদপ্তরের হিসাব শুনলে এখন হয়তো অনেকে একটু অবাকই হবেন। আবহাওয়া অধিদপ্তর বলছে, গত পাঁচ বছরে ঢাকায় শৈত্যপ্রবাহ হয়েছে মাত্র একবার। আর আশপাশের এলাকা থেকে মূল ঢাকায় তাপমাত্রা থাকছে তিন থেকে চার ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি। অর্থাৎ সাভার বা টাঙ্গাইলের তুলনায় ঢাকায় শীত পড়ছে কম।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের হিসাবে শীতকালে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে নামলে সেটি শৈত্যপ্রবাহ। গত সোমবার ঢাকার পাশের জেলা টাঙ্গাইলের তাপমাত্রা নেমেছিল শৈত্যপ্রবাহের কাছাকাছি, ১০ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস। সেখানে ঢাকার তাপমাত্রা ছিল ১৪ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। তবে তাতেই রাজধানীবাসী শীতের আমেজ পেয়েছে।
গত ৩০ বছরে ঢাকার আবহাওয়ার গড় তাপমাত্রার রেকর্ড বলছে, ডিসেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে ঢাকার গড় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১২ থেকে ১৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস হওয়ার কথা। কিন্তু গত ৬ বছরে ঢাকার গড় তাপমাত্রা নিলে তা কোনোভাবেই ১৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে নামেনি। ব্যতিক্রম ২০১৮ সালের ৮ জানুয়ারি। ওই দিন তাপমাত্রা ৯ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস হয়।
এ ব্যাপারে আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ বজলুর রশীদ সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ডিসেম্বর-জানুয়ারিতে ঢাকার আশপাশের জেলাগুলোতে শৈত্যপ্রবাহ চলাকালীন ঢাকার তাপমাত্রা বেশির ভাগ সময় ১২ থেকে ১৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে থাকছে। এমনকি সারা দেশে শৈত্যপ্রবাহ চললেও ঢাকা ও চট্টগ্রাম শহরে শৈত্যপ্রবাহ থাকছে না।
এর বড় কারণ ঢাকার অতিরিক্ত জনসংখ্যা, ভবন-অবকাঠামো ও যানবাহনের কারণে সৃষ্টি হওয়া বাড়তি তাপমাত্রা। এখানে সব সময় দেশের অন্য যেকোনো গ্রামীণ এলাকার চেয়ে তাপমাত্রা তিন থেকে চার ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি থাকছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের হিসাবে বাংলাদেশে ডিসেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সময়কে শীতকাল ধরা হয়। এ সময়ে ঢাকার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১২ থেকে ১৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস থাকার কথা। চট্টগ্রামে ১৩ থেকে ১৬ ডিগ্রি। দেশের বেশির ভাগ এলাকায় শীতকালে ৬ থেকে ১০টি শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যায়। পাঁচ বছরে ঢাকায় মাত্র একবার শৈত্যপ্রবাহ বয়ে গেছে। শীতকালে ঢাকার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১৫ থেকে ১৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস থাকছে।
