বঙ্গবন্ধুর ছবি ভাঙচুর: ৪৬ বছর পর এমপি ফিরোজের বিরুদ্ধে মামলা

নজর২৪ ডেস্ক- জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি ভাঙচুর করার ৪৬ বছর পর জাতীয় সংসদের সাবেক চিফ হুইপ ও বাউফল উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও পটুয়াখালী-২ আসনের সংসদ সদস্য আ স ম ফিরোজের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।

 

বাউফল ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের শ্রম বিষয়ক সম্পাদক জাহিদুল হক আজ মঙ্গলবার বাদি হয়ে পটুয়াখালী সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এ মামলা করেন।

 

আদালতের বিচারক মো. জামাল হোসেন আগামী ১৯ ডিসেম্বর আদেশের জন্য তারিখ নির্ধারণ করেছেন।

 

বাদির আইনজীবী জাহিদুল ইসলাম মামলার বিষয়টি সাংবাদিকদের নিশ্চিত করেছেন।

 

বাদি জাহিদুল হক দ্য বলেন, ‘সম্প্রতি আ স ম ফিরোজ বাউফলের দলীয় কার্যালয়ে নেতা-কর্মীদের উদ্দেশ্যে ১৯৭৫ সালের ওই ঘটনা উল্লেখ করেন এবং বলেন এতে তার কিছুই হয়নি। ওই ঘটনার তথ্য উপাত্ত সংগ্রহ করে এ মামলা করা হলো।’

 

মামলার সাক্ষী করা হয়েছে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও বরিশাল জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক খান আলতাফ হোসেন ভুলু, বাউফল উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক জসিম উদ্দিন ফরাজীসহ ১০ জনকে।

 

মামলার এজাহারে বলা হয়, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির জনক শেখ মুজিবুর রহমান সপরিবারে নিহত হওয়ার পর বরিশালে পেশকার বাড়ির সামনে দিয়ে তৎকালীন ছাত্রলীগের একটি মিছিল বের হয়। মিছিলে আ স ম ফিরোজের নেতৃত্বে হামলা করা হয় এবং অশ্বিনী কুমার টাউন হলের উত্তর পাশে আওয়ামী লীগ অফিসে ঢুকে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি ভাঙচুর করা হয়। ওই দিনই বরিশাল জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে ঢুকেও জাতির জনকের ছবি ভাঙচুর করা হয়।

 

এ প্রসঙ্গে সংসদ সদস্য আ স ম ফিরোজের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমি বাউফলে ৪২ বছর ধরে সুনামের সঙ্গে রাজনীতি করছি। জনগণের ভালোবাসায় আমি ৭ বার সংসদ সদস্য হয়েছি। জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ হয়েছি। আমার স্বচ্ছ রাজনীতি দেখে দল আমাকে মূল্যায়ন করছে। এটি পরশ্রীকাতরতা ছাড়া আর কিছুই নয়।’

 

তাকে হেয়প্রতিপন্ন ও মানহানি করতে মিথ্যা ও বানোয়াট তথ্য দিয়ে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ মামলা করেছেন বলে দাবি করেন আ স ম ফিরোজ।

 

উল্লেখ্য, বীর মুক্তিযোদ্ধা আ স ম ফিরোজ বরিশালে পড়াশোনা করার সময় রাজনীতিতে জড়ান। তিনি ১৯৭৯ সালে জিয়াউর রহমানের সেনা শাসনের বিরুদ্ধে নৌকা প্রতীক নিয়ে পটুয়াখালী-৬ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

 

দেশের দ্বিতীয় সেই সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ থেকে কেবল ৩৯ জন নির্বাচিত হতে পেরেছিলেন।

 

১৯৮৬ সালে ফিরোজ স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে আবার সংসদ সদস্য হন পটুয়াখালী-২ আসন থেকে। পরে নিজ দল আওয়ামী লীগেই ফিরে আসেন।

 

১৯৯১ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত আওয়ামী লীগ এই আসনে প্রতিবারই ফিরোজের হাতে নৌকা তুলে দেয়। এর মধ্যে কেবল ২০০১ সালে একবারই তিনি বিএনপির কাছে হেরে যান। বাকি প্রতিটি নির্বাচনেই জয় পান তিনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *