জোড়াতালির আঞ্চলিক মহাসড়ক অবশেষে উন্নয়নের পথে

নাগরপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি: টাঙ্গাইল থেকে বরংগাইল, নাগরপুর-ধুবড়িয়া-দৌলতপুর-ঘিওর উপজেলা হয়ে মানিকগঞ্জ-আরিচা-ঢাকার মধ্যে নাগরপুর থেকে সরাসরি সল্পতম সময়ে নিরবিচ্ছিন্ন যোগাযোগ বাস্তবায়ন করতে যাচ্ছে সরকার।

 

জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) সভায় প্রায় ১ হাজার ৬৩৫ কোটি টাকা ব্যয়ে টাঙ্গাইল-নাগরপুর-ধুবড়িয়া-বরংগাইল সড়ক প্রশস্তকরণ ও বেইলী সেতুর পরিবর্তে নতুন সেতু নির্মাণের প্রকল্প অনুমোদন হয়েছে। ফলে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে নাগরপুরের আঞ্চলিক এই মহাসড়কটি বৃহত্তর ময়মনসিংহ ও ঢাকা বিভাগের মধ্যে নিরাপদ দ্রুততম যোগাযোগ ব্যবস্থা সাধিত হবে।

 

উত্তরবঙ্গ থেকে যমুনা সেতু হয়ে টাঙ্গাইল-ঢাকা যেতে সময় ও দূরত্ব কম লাগায় খুবই অল্প সময়ে জনপ্রিয়তা লাভ করেছে এই টাঙ্গাইল-আরিচা ভায়া নাগরপুর আঞ্চলিক মহাসড়কটি। ছোট-বড় সকল ধরণের হালকা-ভারী যানবাহন ব্যাপক চলাচল করায় সড়কের স্থায়ীত্ব ক্রমশ কমে যাচ্ছে।

 

দীর্ঘ সময় পর পর জোড়াতালির সংস্কারের ফলে সড়কটির উন্নয়ন স্থায়ী টেকসই হচ্ছে না। ৫৮ দশমিক ৫০ কিলোমিটার আঞ্চলিক এই মহাসড়কটি উন্নয়ন বাস্তবায়নের মাধ্যমে নিরবচ্ছিন্ন যানজটমুক্ত ও নিরাপদ যোগাযোগ ব্যবস্থা তৈরি হবে ও জনগণের সার্বিক আর্থ-সামাজিক অবস্থার উন্নতির ঘটবে।

 

এদিকে উন্নয়ন প্রকল্পটি অনুমোদন হওয়ায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুক ও সরাসরি বিভিন্ন আলোচনায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও টাঙ্গাইল ৬ (নাগরপুর – দেলদুয়ার) আসনের সংসদ সদস্য আহসানুল ইসলাম টিটু এমপি কে নাগরপুর উপজেলার সর্বস্তরের জনসাধারণ প্রাণঢালা অভিনন্দন নিয়েছেন।

 

উপজেলার খোরশেদ মার্কেট এলাকার বাসিন্দা মুরাদ হোসেন আপন তার প্রতিক্রিয়ায় বলেন, আমি এই আঞ্চলিক মহাসড়ক দিয়ে প্রতিদিন যাতায়াত করি। নিরাপদ চলাচলে অনেক অসুবিধা হয় আমাদের। এই সড়কের উন্নয়নের প্রকল্প পাশ হওয়ায় আমরা এই আঞ্চলিক সড়ক সংলগ্ন এলাকাবাসীরা ব্যাপক আনন্দিত।

 

নাগরপুর টু বরংগাইল সড়কে চলাচলকারী সিএনজি চালক আনোয়ার মিয়া বলেন, আমি সহ আমরা সকল সিএনজি চালক এই আঞ্চলিক মহাসড়ক দিয়ে চলাচল করেই আমাদের জীবিকা নির্বাহ করি। প্রতিনিয়ত ঝুঁকির মধ্যে আমাদের পরিবহন নিয়ে চলতে হয়।

 

এই সড়ক দিয়ে অনেক বড় বড় যানবাহন চলাচল করে। বিধায় সড়কে অনেক চাপ থাকে। সুতরাং উন্নয়ন প্রকল্প পাশ হওয়ায় আমরা ব্যাপক খুশি এবং আশাকরি সুন্দর ভাবে এই উন্নয়ন প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হবে। এদিকে উক্ত প্রকল্পটি পাশ হওয়ায় উচ্ছাসিত নাগরপুর উপজেলা আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।

 

নাগরপুর উপজেলা আওয়ামী লীগ সাংগঠনিক সম্পাদক ও নবনির্বাচিত সলিমাবাদ ইউপি চেয়ারম্যান শাহীদুল ইসলাম খান অপু বলেন, আমাদের নাগরপুর উপজেলাবাসীর স্বপ্ন ছিলো এই আঞ্চলিক মহাসড়কের (নাগরপুর – বরংগাইল) দ্রুত উন্নয়ন হবে। সেই স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে অক্লান্ত পরিশ্রম করে গেছেন আমাদের মাননীয় এমপি জননেতা আহসানুল ইসলাম টিটু। এই প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হওয়ায় উপজেলা আওয়ামী লীগ এর পক্ষ থেকে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও আমাদের মাননীয় এমপি মহোদয়কে বিশেষ ধন্যবাদ জানাই।

 

উল্লেখ্য, আঞ্চলিক এই মহাসড়কের টাঙ্গাইল অংশের দৈর্ঘ্য ৪০ কি.মি. এবং মানিকগঞ্জ অংশের দৈর্ঘ্য ১৮.৫০ কি.মি.উন্নীতকরণ করা হবে। প্রকল্প বাস্তবায়নের ব্যয় ধরা হয়েছে ১ হাজার ৬৩৫.১০ কোটি টাকা। ২০২৪ সালের ৩০ জুনের মধ্যে এটি বাস্তবায়ন করবে সড়ক ও জনপথ (সওজ) অধিদফতর। উক্ত প্রকল্পের মূল কার্যক্রমের আওতায় প্রথমত সড়কটি ১০ দশমিক ৩০ কিলোমিটারে উন্নীত করে পুণঃনির্মাণ করা হবে।

 

এছাড়া ঝুঁকিপূর্ণ বেইলি সেতু ও কালভার্টের পরিবর্তে নতুন করে ১৪টি সেতু ও ২১টি কালভার্ট নিমার্ণ করা হবে এবং ৭টি কালভার্ট সম্প্রসারণ করা হবে। এছাড়াও সড়কটিতে বিদ্যমান বাঁকসূমহ সমীকরণের মাধ্যমে সড়কের নিরাপত্তা ঝুঁকি কমানো হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *