নজর২৪, বরিশাল- বিশ্বের সব মুসলিম উম্মাহর শান্তি, মুক্তি ও উন্নতি কামনা এবং বিশ্বের বিভিন্ন রাষ্ট্রে মুসলিমদের ওপর নির্যাতনের অবসান ও দেশবাসীর কল্যাণ কামনা করে আখেরী মুনাজাতের মধ্য দিয়ে বরিশালে চরমোনাই দরবার শরীফের বার্ষিক ওয়াজ মাহফিল শেষ হয়েছে।
সোমবার সকাল সাড়ে ৮টা শুরু হওয়া প্রায় আধাঘণ্টা স্থায়ী আখেরী মোনাজাত পরিচালনা করেন চরমোনাইর পীর মুফতি সৈয়দ রেজাউল করীম। মোনাজাতে তিনি বলেছেন, ‘দেশে স্থায়ী শান্তি আনতে হলে সর্বস্তরে ইসলামকে বিজয়ী করতে হবে।’
এ দিন লাখ লাখ মুসল্লির আমিন আমিন ধ্বনিতে মাহফিল এলাকায় এক অভূতপূর্ব দৃশ্যের অবতারণা হয়। মাহফিলের মাঠ উপচে আশপাশের বাড়ির বাগান, আঙ্গিনা, নদীর পাড়সহ বিস্তির্ণ এলাকাজুড়ে লাখ লাখ মুসল্লি মোনাজাতে অংশগ্রহণ করেন।
মোনাজাতের আগে ফজরের নামাজের পর শেষ বয়ানে চরমোনাই পীর বলেন, ‘দেশে আজ চরম ক্রন্তিকাল অতিক্রম করছে। স্থায়ী শান্তি আনতে হলে সর্বস্তরে ইসলামকে বিজয়ী করতে হবে।’
চলমান ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে সারাদেশে ইসলামী আন্দোলন হাতপাখা প্রতীকের প্রার্থীকে বিজয়ী করার আহ্বান জানান তিনি। দেশের সকল স্তরের নির্বাচনে ইসলাম বিরোধী শক্তিকে পেছনে ফেলে ইসলামের পক্ষে গণজাগরন সৃষ্টি করার জন্য অনুসারীদের প্রতি আহ্বান জানান চরমোনাই পীর।
সমাপনী অধিবেশনের বয়ানে পীর সাহেব চরমোনাই মাহফিল বাস্তবায়নে সম্পৃক্ত সবার প্রতি ধন্যবাদ জানান। আখেরি মোনাজাতে অংশ নেওয়া প্রশাসনিক, রাজনৈতিক ব্যক্তিরা, সম্মানিত ওলামায়ে কেরাম এবং গণমাধ্যমকর্মীদের মোবারকবাদ জানান পীর সাহেব চরমোনাই।
আখেরি মোনাজাতে পীর সাহেব চরমোনাই ভারত, কাশ্মীর, মিয়ানমার, ফিলিস্তিন, সিরিয়াসহ বিশ্বের নির্যাতিত মুসলমানদের নিরাপত্তা ও সমগ্র মুসলিম উম্মাহর শান্তি কামনা করেন।
চরমোনাই মাহফিলের অস্থায়ী হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, চরমোনাই মাহফিলে আগত মুসল্লিদের মধ্য থেকে গত শুক্রবার বাকেরগঞ্জের মো. আবু হানিফ হাওলাদার (৬৯), মাদারীপুরের মামুন (৪৭), শনিবার চাঁদপুরের তাজুল ইসলাম গাজী (৬২) এবং রোববার পিরোজপুরের কাশেম আলী (৭৫) ইন্তেকাল করেন। তাদের মরদেহ জানাজা শেষে নিজ নিজ এলাকায় পাঠানো হয়।
