নজর২৪ ডেস্ক- নারীর প্রতি অবমাননাকর ও বর্ণবাদী মন্তব্য এবং অশালীন ফোনালাপের জেরে মন্ত্রিত্ব হারিয়েছেন ডা. মুরাদ হাসান। তার আচরণের তীব্র সমালোচনা চলছে দেশজুড়ে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকেও সদ্য সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রীর বিভিন্ন পোস্টে কমেন্ট করেও তীব্র প্রতিক্রিয়া জানাচ্ছেন নেটিজেনরা।
এমন পরিস্থিতিতে ক্ষমতাসীন দলের সাংসদ মুরাদ হাসান বিদেশে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তিনি আজ বৃহস্পতিবার রাতে কানাডায় যাওয়ার জন্য টিকিট কেটেছেন। গতকাল বুধবার তিনি একটি টিকিট কাটেন বলে সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইনস সূত্রে জানা গেছে।
সদ্য সাবেক এই প্রতিমন্ত্রীর দপ্তরের একটি সূত্র জানিয়েছে, প্রতিমন্ত্রী থাকা অবস্থায় মুরাদ হাসানের যে লাল পাসপোর্ট (বিশেষ পাসপোর্ট) ছিল, সেটি পদত্যাগের দিন গত মঙ্গলবার তাঁর কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে মুরাদ হাসানের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।
এদিকে মুরাদ হাসানের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এ ছাড়া অনলাইন প্ল্যাটফর্মসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মুরাদ হাসানের অশ্লীল-কুরুচিপূর্ণ বক্তব্যের ৩৮৭টি লিংক চিহ্নিত করেছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)।
অশালীন, শিষ্টাচারবহির্ভূত ও নারীর প্রতি চরম অবমাননাকর বক্তব্য দিয়ে মন্ত্রিত্ব হারান মুরাদ হাসান। গতকাল তাঁর নাম তথ্য মন্ত্রণালয়ের নামফলক থেকেও মুছে ফেলা হয়েছে। এ ছাড়া মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের ওয়েবসাইটে থাকা প্রতিমন্ত্রীর তালিকা থেকেও তাঁর নামটি বাদ দেওয়া হয়েছে। তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটেও তাঁর নাম নেই।
গতকাল মুরাদ হাসানের এমপি পদ চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় রিট করা হয়। সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ইউনুছ আলী আকন্দ আবেদনকারী হয়ে রিটটি করেন। পরে তিনি বলেন, আগামী সপ্তাহে রিটের ওপর শুনানি হতে পারে।
