নজর২৪, ঢাকা- তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রীর পদ হারানো ডা. মুরাদ হাসানের করা বিভিন্ন আপত্তিকর মন্তব্য মেনে নিতে পারেননি অনেকেই। তবে সর্বশেষ যে লাইভে মুরাদ হাসান বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের মেয়ে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী এবং ছাত্রলীগ নেত্রীদের নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করেন, সেই অনুষ্ঠানের উপস্থাপক ছিলেন নাহিদ। তার পুরো নাম নাহিদ করিম হেলাল।
‘নাহিদ রেইন্স পিকচারস’ নামে তার একটি ফেসবুক পেজ রয়েছে। ওই পেজটিতে ‘অসুস্থ খালেদা, বিকৃত বিএনপির নেতাকর্মী’ শিরোনামে লাইভ সম্প্রচারে তথ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. মুরাদ হাসানকে যুক্ত করেন নাহিদ।
মুরাদ হাসান প্রতিমন্ত্রী ও দলীয় পদ হারানোর পর সেই লাইভের উপস্থাপক নাহিদকে নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে। অভিযোগ উঠেছে, মুরাদ হাসানকে আপত্তিকর মন্তব্য থেকে বিরত না রেখে নাহিদ উল্টো আরও উসকানি দেন।
অভিযোগ রয়েছে, নাহিদ ওই সাক্ষাৎকারে মুরাদ হাসানকে অশালীন মন্তব্য করার জন্য উসকানিমূলক একাধিক প্রশ্নও করেছেন। এসব অভিযোগের ভিত্তিতে নাহিদের বিষয়ে খোঁজ-খবর নিচ্ছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ।
মঙ্গলবার (৭ ডিসেম্বর) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ডিবির যুগ্ম-কমিশনার হারুন অর রশিদ। তিনি বলেন, ‘আমরা তার বিষয়ে খোঁজ-খবর নিচ্ছি। বিভিন্ন অভিযোগ বিষয়ে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।’
একাধিক সূত্রে জানা যায়, নাহিদের বাড়ি চট্টগ্রামে। তিনি বহুদিন ধরে এভাবে বিভিন্ন রাজনৈতিক ব্যক্তিদের নিয়ে ঠাট্টা-বিদ্রুপ করে আসছেন।
তারেক রহমানের মেয়ের উদ্দেশে অশালীন ও বর্ণবাদী মন্তব্য ঘিরে যখন মুরাদ হাসানের তীব্র সমালোচনা চলছিল বিভিন্ন মহলে, তখনই ফাঁস হয় একটি অডিও রেকর্ড। ওই রেকর্ডে চিত্রনায়ক ইমন ও চিত্রনায়িকা মাহিয়া মাহির সঙ্গে অত্যন্ত অশালীন ও অশ্রাব্য ভাষায় কথা বলতে শোনা যায় তাকে। এ নিয়ে ব্যাপক সমালোচনার পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মুরাদ হাসানকে মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগের নির্দেশ দেন। আজ মঙ্গলবার দুপুরে চট্টগ্রাম থেকে ই-মেইলে পদত্যাগপত্র পাঠান মুরাদ হাসান।
