সিনহা হ’ত্যা: নিজেকে নির্দোষ ও নিরীহ দাবি করলেন ওসি প্রদীপ

নজর২৪, কক্সবাজার: অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান হত্যা মামলায় ৩৪২ ধারায় নিজের স্বপক্ষে আদালতে লিখিত বক্তব্য (সাফাই সাক্ষী) দিয়েছেন বরখাস্ত ওসি প্রদীপসহ ১৪ জন ওসি প্রদীপেআসামি। ওসি প্রদীপ তার বক্তব্যে নিজেকে নির্দোষ, নিরাপরাধ ও নিরীহ বলে দাবি করেছেন।

 

প্রদীপ লিখেছেন, এ মামলায় সাক্ষীদের অধিকাংশই মাদক মামলার আসামি, যাদের জবানবন্দি ছিল একই রকম ও তদন্ত কর্মকর্তার শেখানো বুলি ছিল মাত্র।

 

তিনি দাবি করেন, মেজর সিনহার সহকর্মী সিফাত ও শিপ্রার সঙ্গে তাঁর কখনো দেখা হয়নি বা পরিচয় ছিল না। এ ছাড়া হ ত্যাকাণ্ডের আগে ও পরে এই মামলার আসামিদের কারও সঙ্গে তাঁর কথা হয়নি। ১২ পৃষ্ঠার লিখিত বক্তব্যে প্রদীপ নিজেকে নির্দোষ, নিরপরাধ ও নিরীহ দাবি করে বলেন, এ ঘটনায় তাঁর জড়িত না থাকার যৌক্তিক প্রমাণ তাঁর কাছে আছে।

 

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ও কক্সবাজার জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) ফরিদুল আলম জানান, বরখাস্ত ওসি প্রদীপসহ আসামিরা কার্যবিধি ৩৪২ ধারায় আদালতে লিখিত বক্তব্য তুলে ধরেছেন। তিনি বলেন, মঙ্গল ও বুধবার আসামিদের বক্তব্য যাচাই বাছাই করবেন আদালত।

 

সোমবার (০৬ ডিসেম্বর) সকাল সোয়া ১০টায় কক্সবাজার জেলা ও দায়রা জজ মোহাম্মদ ইসমাইলের আদালতে এ মামলার কার্যক্রম শুরু হয়। কার্যবিধির ৩৪২ ধারায় আসামিরা নিজেদের বক্তব্য উপস্থাপন করেন।

 

এর আগে অষ্টম দফায় এ মামলার বাদী শারমিন শাহরিয়ার ফেরদৌস ও তদন্তকারী কর্মকর্তাসহ ৬৫ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়েছে। আগামী ৮ ডিসেম্বর পর্যন্ত এ মামলার দিন ধার্য রয়েছে।

 

প্রসঙ্গত, গত বছরের ৩১ জুলাই কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ সড়কের বাহারছড়া শামলাপুর পুলিশের তল্লাশিচৌকিতে পুলিশের গু লি তে নিহত হন সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান। এ ঘটনায় নিহত সিনহার বোন শারমিন শাহরিয়ার ফেরদৌস বাদী হয়ে বাহারছড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের তৎকালীন ইনচার্জ পরিদর্শক লিয়াকত আলী ও টেকনাফ থানার ওসি প্রদীপ কুমার দাশসহ নয় পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করেন।

 

মামলাটি তদন্তের পর র‍্যাব-১৫ এর সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মোহাম্মদ খায়রুল ইসলাম গত বছরের ১৩ ডিসেম্বর ১৫ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দেন। অভিযোগপত্রে সিনহা হত্যাকাণ্ডকে একটি ‘পরিকল্পিত ঘটনা’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়। বর্তমানে মামলার ১৫ আসামি কারাগারে রয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *