প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানালেন বিএনপি নেতারা

নজর২৪ ডেস্ক- বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া, তার নাতনি জাইমা রহমানকে নিয়ে কুরুচিপূর্ণ বক্তব্য দেয়ার পর ফাঁস হওয়া ফোনালাপে নারীর প্রতি অবমাননাকর মন্তব্য করা তথ্য প্রতিমন্ত্রী মুরাদ হাসানকে পদত্যাগের নির্দেশ দেয়ায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন বিএনপির নেতারা। খবর- নিউজবাংলার

 

মুরাদের পদত্যাগের দাবি তোলার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সরকারপ্রধান এই নির্দেশ দেয়ার পর গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস ও সেলিমা রহমান।

 

আব্বাস বলেন, ‘আমি আপনার থেকে প্রথম শুনলাম (মুরাদের পদত্যাগের নির্দেশ)। যদি এটি হয়ে থাকে, তাহলে এটি সঠিক কাজ হয়েছে। যদি এই সিদ্ধান্ত তিনি (প্রধানমন্ত্রী) নিয়ে থাকেন, তাহলে আমি বলব বহুদিন পর উনি একটি সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। আমি ওনাকে আমার ব্যক্তিগত জায়গা থেকে ধন্যবাদ জানাই।’

 

তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী একজন নারী, ওনার নিজেরও সন্তান আছে। আমাদেরও সন্তান আছে। আমরা রাজনীতি করি, মাঠেঘাটে মার খাই। কিন্তু আমাদের রাজনীতির বলি কেন আমাদের সন্তানরা হবে?’

 

বিএনপি নেতা বলেন ‘শুধু আমাদের কথা কেন, এই যে নারী নেত্রীরা এটা নিয়ে সমালোচনা করছেন। সাংবাদিকতার জায়গা থেকে বলুন, যে শব্দ তিনি (মুরাদ) ব্যবহার করেছেন, যে অশ্রাব্য কথা তিনি বলেছেন, সেটা গ্রহণযোগ্য কি না?’

 

মির্জা আব্বাস এও মনে করেন, মুরাদকে পদত্যাগের জন্য নির্দেশ না দিয়ে তাকে বরখাস্ত করতে পারতেন প্রধানমন্ত্রী। তাহলে তিনি আরও খুশি হতেন বলে জানিয়েছেন বিএনপি নেতা।

 

বিএনপির স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য সেলিমা রহমান এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘ওনার (প্রধানমন্ত্রী) বিবেচনাবোধে ধরেছে, তা থেকে তিনি এটা করেছেন, এ জন্য আমরা খুশি। তাই কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি।’

 

তিনি বলেন, ‘যে অশ্রাব্য ভাষা এই প্রতিমন্ত্রী ব্যবহার করেছেন, সেটি গ্রহণযোগ্য নয়। রাজনীতি আমিও করি, আমিও একজন নারী, উনিও (প্রধানমন্ত্রী) একজন নারী। আমরা রাজনীতি করব, কিন্তু আমাদের সন্তানরা তো রাজনীতি করে না। আর রাজনীতি করলেই বা কী, রাজনীতির একটা ভাষা আছে। সমালোচনা করার একটা ভাষা আছে। কিন্তু তিনি (মুরাদ) যে ভাষা ব্যবহার করেছেন, সেটি পুরো দেশের জন্য একটি কলঙ্কময়।‘

 

দলটির স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য নজরুল ইসলাম খানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘ওনাকে (মুরাদ) আরও আগেই পদত্যাগ করিয়ে শাস্তির ব্যবস্থা করা উচিত ছিল। এখন সেটা হয়েছে, ঠিক আছে, কিন্তু শাস্তির কী হবে?’

 

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গেও কথা বলার চেষ্টা করা হয়। তিনি ফোন ধরে প্রশ্ন শুনে বলেন, ‘আমি এই মাত্র ঘরে ফিরেছি। আপনি ৫ মিনিট পরে ফোন দিন।’ তবে ৫ মিনিট পর কল করলে বিএনপি নেতা আর ফোন ধরেননি।

 

উল্লেখ্য, গত ১ ডিসেম্বর রাতে ‘অসুস্থ খালেদা, বিকৃত বিএনপির নেতাকর্মী’ শিরোনামে এক ফেসবুক লাইভে যুক্ত হন মুরাদ হাসান। লাইভটির সঞ্চালক ছিলেন নাহিদ রেইনস নামে এক ইউটিউবার ও ফেসবুকার।

 

লাইভে বিএনপির রাজনীতির সমালোচনার একপর্যায়ে দণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামি এবং দলটির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কন্যা জাইমা রহমানকে নিয়ে তিনি বিভিন্ন মন্তব্য করেন। এ ছাড়া বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার জন্ম ও পরিবারের সদস্যদের নিয়েও কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী।

 

প্রতিমন্ত্রীর এসব মন্তব্যকে ‘কুরুচিপূর্ণ’, ‘অশালীন’ ও ‘মর্যাদাহানিকর’ বলে নিন্দা জানিয়েছেন বিএনপি, জেন্ডার বিশেষজ্ঞ ও নারী অধিকারকর্মীরাসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।

আরও পড়ুন