আন্তর্জাতিক ডেস্ক- স্বামী এবং কন্যাকে এক বছরের মধ্যে হারিয়ে কার্যত দিশেহারা হয়ে গিয়েছিলেন এক বৃদ্ধা। সেই সময় দেবদূতের মতো তাঁর পাশে এসে দাঁড়ান এক রিকশাচালক। সেই বৃদ্ধাকে আগলে রাখেন তিনি। তাঁর যাবতীয় দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নেন রিকশাচালক।
তার প্রতিদান হিসাবে নিজের জীবনের গচ্ছিত সব সম্পত্তি রিকশাচালক এবং তাঁর পরিবারের হাতে তুলে দেন সেই বৃদ্ধা মহিলা। এই ঘটনা এবার ভাইরাল সোশ্যাল মিডিয়ায়। আর তা ভাইরাল হতেই নেটিজেনদের মন ছুঁয়ে গেছে।
একটি সর্বভারতীয় সংবাদ মাধ্যমকে দেওয়া একান্ত এক সাক্ষাৎকারে ৬৩ বছর বয়সী মিনতি পট্টনায়েক জানিয়েছেন, “আমার স্বামী এবং একমাত্র মেয়ে এক বছরের মধ্যেই মারা যান, আমি তখন বুঝতে পারি না আমার কী করা উচিত, কীভাবে বেঁচে থাকব, সেটাই আমার কাছে বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছিল।
তারপরই সাক্ষাৎ ভগবান রূপে থেকেই ‘বুধা শ্যামল’ এবং তাঁর পরিবার আমার পাশে এসে দাঁড়ায়। তাঁদের জন্য আজ আমি বেঁচে রয়েছি। তাঁরা যেভাবে আমাকে আগলে রেখেছে, বিপদে আপদে আমার পাশে এসে দাঁড়িয়েছে তার কোনও তুলনা হয় না। তাঁরাই আজ আমার জীবনের একমাত্র সম্বল। তারা একটানা ২৫ বছর নিঃস্বার্থভাবে আমাকে দেখভাল করেছে, তাই আজ আমি আমার বাড়ি, গয়না-সহ সকল সম্পত্তি তাঁদের নামে উইল করতে চলেছি’।
তিনি আরও বলেন, “তাঁদের সেবার কাছে এই সামান্য ধনসম্পত্তি কিছু না, আমি চাই আগামিদিনে ওরা ভাল থাকুক”।
এদিকে এমন খবর ভাইরাল হতেই বৃদ্ধার উদার মানসিকতার জন্য তাঁকে কুর্নিশ জানিয়েছেন নেটিজেনরা। একই সঙ্গে রিকশাওয়ালার মহানুভবতারও প্রশংসা করেছেন।
সম্প্রতি ভারতীয় সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়, ৬৩ বছর বয়সী মিনতি পাটনায়েক কট্টকের সুতাহাট এলাকার বাসিন্দা। তিনি তাঁর তিনতলা ভবন, সোনার গয়না ও তাঁর সমস্ত সম্পদ খুশি হয়ে ওই রিকশাচালককে দিয়ে গেছেন, যার মূল্য এক কোটি রুপির বেশি (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় এক কোটি ১৫ লাখ টাকা)।
