নৌকার প্রার্থীর বিরুদ্ধে মনোনয়নপত্র জমা দিলেন তার দুই স্ত্রী

নজর২৪, পাবনা- পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলার খানমরিচ ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যান প্রার্থীর বিরুদ্ধে তার দুই স্ত্রী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। চতুর্থ ধাপে ২৬ ডিসেম্বর অনুষ্ঠেয় এ নির্বাচনে বৃহস্পতিবার মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন ছিল।

 

উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, খানমরিচ ইউপিতে চেয়ারম্যান পদে মোট পাঁচজন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি নুরুন নবী। তার বিপক্ষে মনোনয়ন জমা দেওয়া প্রথম স্ত্রী ফেরদৌসী বেগম এবং দ্বিতীয় স্ত্রী নাসিমা খাতুন।

 

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, খানমরিচ ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি নুরুন নবী দুলাল স্থানীয় একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ছিলেন। চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করতে তিনি ছয় মাস আগে ১২ বছর চাকরি থাকতেও অবসর নেন। এ অবস্থায় তফসিল ঘোষণার পর তিনি ও তার দুই স্ত্রী মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন। পাশাপাশি তিনি আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পাওয়ার জন্য জোর প্রচেষ্টা চালান।

 

পরে গত রোববার (২১ নভেম্বর) আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পান তিনি। আজ বৃহস্পতিবার তিনি দলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে উপজেলা নির্বাচন অফিসে মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। এর কিছুক্ষণ পর তার দুই স্ত্রীও মনোনয়নপত্র দাখিল করেন।

 

জানা গেছে, আওয়ামী লীগের প্রার্থী নুরুন নবী এলাকায় বেশ জনপ্রিয় বলে চাকরি ছেড়ে চেয়ারম্যান প্রার্থী হয়েছেন। কিন্তু দলীয় মনোনয়ন ও কাগজপত্র যাচাই-বাছাই নিয়ে সংশয় থাকায় তিনি দুই স্ত্রীকে দিয়ে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করিয়েছেন।

 

তবে এলাকায় গুঞ্জন রয়েছে, স্বামীর সঙ্গে মনোমালিন্য ও দুই সতিনের মধ্যে সুসম্পর্কের ঘাটতির কারণে ফেরদৌসী বেগম ও নাসিমা খাতুন মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন।

 

এ বিষয়ে আওয়ামী লীগের প্রার্থী নুরুন নবী দুলাল বলেন, বিশেষ কিছু কারণে দুই স্ত্রীসহ নিজেও মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছি। যাতে পরিবারের কেউ একজন চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করতে পারি। আমি অনেক চিন্তাশীল মানুষ বলেই ভেবেচিন্তে কাজটি করেছি।

 

ভাঙ্গুড়া উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা রুখশানা পারভিন বলেন, মনোনয়নপত্র জমাদানের শেষ দিনে খান মরিচ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগের দলীয় প্রার্থীসহ পাঁচজন মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। তাদের মধ্যে দুইজন নারী রয়েছেন। শুনেছি তারা নাকি আওয়ামী লীগের প্রার্থীর স্ত্রী। মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে যদি তারা নির্বাচন করতে চান তাহলে তখন হবে স্বামীর প্রতিদ্বন্দ্বী দুই স্ত্রী। যাচাই-বাছাই ও প্রতীক বরাদ্ধ পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *