বাঁধনের সিনেমার কঠোর সমালোচনা করলেন তসলিমা নাসরিন

বিনোদন ডেস্ক- বাংলাদেশের প্রথম সিনেমা হিসেবে কান চলচ্চিত্র উৎসবের মূল প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়া সিনেমা ‘রেহানা মরিয়ম নূর’। ছবিটি আরও বেশকিছু চলচ্চিত্র উৎসবে প্রশংসা পেয়েছে। চলছে দেশের সিনেমা হলেও।

 

চারদিক থেকে যখন সিনেমাটি নিয়ে ইতিবাচক রিভিউ ও প্রচার ভেসে আসছে তখন এর সমালোচনা করলেন ভারতে বসবাসরত বাংলাদেশি বিতর্কিত লেখিকা তসলিমা নাসরিন।

 

তিনি আজ রোববার (২১ নভেম্বর) তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে স্ট্যাটাস দিয়ে ছবিটির প্রধান নারী চরিত্রের সমালোচনা করেছেন।

 

তসলিমা লেখেন, ‘প্রথম কানে গিয়েছে বাংলাদেশের কোনো ছবি, খুব স্বাভাবিক যে সে ছবিটি দেখার আগ্রহ খুব হবে আমার। ছবিটি দেখার সৌভাগ্য হলো কাল রাতে। রেহানা মারিয়াম নূর। ছবিটির প্রধান চরিত্রে আমার মনে হয়নি আছেন কোনো সৎ বা উদার কোনো মানুষ। প্রথম থেকেই তিনি রগচটা, রুক্ষ, স্বার্থপর, একগুঁয়ে, আত্মকেন্দ্রিক।

 

ধার্মিক রেহানাকে যদি নারীবাদী হিসেবে দেখানোর চেষ্টা হয়, তাহলে ভুল। নারীবাদীদের সংবেদনশীল হতে হয়। যত না সংবেদনশীল তিনি, তার চেয়ে বেশি প্রতিশোধপরায়ণ। তার জন্য কোনো শ্রদ্ধা বা সহানুভূতি জন্মায় না।

 

ছবিটি ডেনিশ ডগমা ফিল্মের মতো হাত-ক্যামেরায় শুট করা। কিন্তু বারবারই জনমানবহীন হাসপাতালের একই করিডোর, একই ঘোলা ঘর। কোনো আউটডোর নেই। কোনো আকাশ বাতাস নেই। শ্বাস নেওয়ার জায়গা নেই।

 

ছবিটি ছবি না হয়ে কোনো ডার্ক নাটক হলে ভালো হতো। সিনেমার বড় পর্দায় না দেখিয়ে মঞ্চে দেখালে মানাতো।’

 

উল্লেখ্য, আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ সাদ পরিচালিত এই ছবিটি এশিয়া প্যাসিফিক স্ক্রিন অ্যাওয়ার্ডস (অ্যাপসা) দ্বিতীয় সেরা ছবি হয়েছে। আর এতে অভিনয় করে সেরা অভিনেত্রীর স্বীকৃতি পান আজমেরী হক বাঁধন। এ ছাড়া হংকং এশিয়ান ফিল্ম ফেস্টিভালে জিতেছে নিউ ট্যালেন্ট অ্যাওয়ার্ড।

 

উল্লেখ্য, একটি বেসরকারি মেডিকেল কলেজের সহকারী অধ্যাপক রেহানা মরিয়ম নূরকে কেন্দ্র করে ‘রেহানা মরিয়ম নূর’ সিনেমার গল্প। কর্মস্থলে ও পরিবারে তাল মেলাতে গিয়ে হিমশিম খেতে হয় তাকে। কারণ, শিক্ষক, চিকিৎসক, বোন, কন্যা ও মা হিসেবে জটিল জীবনযাপন করেন তিনি।

 

১ ঘণ্টা ৪৭ মিনিট ব্যাপ্তির ছবিটিতে আরও অভিনয় করেছেন সাবেরী আলম, আফিয়া জাহিন জায়মা, আফিয়া তাবাসসুম বর্ণ, কাজী সামি হাসান, ইয়াছির আল হক, জোপারি লুই, ফারজানা বীথি, জাহেদ চৌধুরী মিঠু, খুশিয়ারা খুশবু অনি, অভ্রদিত চৌধুরী।

 

পোটোকল ও মেট্রো ভিডিও’র ব্যানারে ছবিটি প্রযোজনা করেছেন সিঙ্গাপুরের প্রযোজক জেরেমি চুয়া।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *