নজর২৪ ডেস্ক- সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার অসুস্থতা বেড়েছে। মায়ের এই পরিস্থিতিতে তার ছেলে ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান লন্ডন থেকে দেশে ফিরবেন কিনা তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে গুঞ্জন চলছে।
তবে তারেক রহমানের শিগগিরই দেশে ফেরার কোনও প্রস্তুতি বা তৎপরতা নেই বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। আর যুক্তরাজ্য বিএনপির নেতাদের কেউ কেউ বলছেন, তিনি দ্রুত দেশে ফিরতে পারেন। খবর- বাংলা ট্রিবিউনের
সূত্র জানায়, তারেক রহমানের হালনাগাদ বাংলাদেশি পাসপোর্ট না থাকায় তাকে লন্ডন থেকে বাংলাদেশে ফিরতে হলে দ্রুত ট্রাভেল ডকুমেন্ট অথবা ব্রিটিশ পাসপোর্টের ক্ষেত্রে লন্ডনস্থ বাংলাদেশ হাইকমিশনে ‘নো ভিসা রিকোয়ার্ড’ সিলমোহরের জন্য আবেদন করতে হবে। কিন্তু এ ব্যাপারে তারেক রহমানের পক্ষ থেকে লন্ডনস্থ বাংলাদেশ হাইকমিশনে কোনও আবেদন করা হয়নি।
লন্ডনস্থ বাংলাদেশ হাইকমিশনের প্রেস মিনিস্টার আশিকুন নবী চৌধুরী স্থানীয় সময় শনিবার সন্ধ্যায় জানান, তারেক রহমানের আবেদন সংক্রান্ত কোনও তথ্য লন্ডনস্থ বাংলাদেশ হাইকমিশনের কাছে নেই।
যদিও যুক্তরাজ্য বিএনপির শীর্ষ নেতারা গত কয়েক বছর ধরেই বলছেন, তারেক রহমানের দেশে ফেরার প্রস্তুতি চলছে।
এ ব্যাপারে শনিবার রাতে কথা হয় লন্ডনে তারেক রহমানের ঘনিষ্টজন ও যুক্তরাজ্য বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কয়সর এম আহমেদের সঙ্গে। তিনি জানান, তারেক রহমান দ্রুতই দেশে ফিরবেন। কিন্তু কবে নাগাদ দেশে ফিরবেন—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘তারেক রহমান দেশে ফেরার আগে আপনারা জানতে পারবেন।’
যুক্তরাজ্য বিএনপির সভাপতি এম এ মালিক বলেন, ‘তারেক রহমান দ্রুতই দেশে ফিরতে চান। উনার দেশে ফেরার প্রস্তুতি চলছে।’ তবে কী ধরনের প্রস্তুতি চলছে তা জানতে চাইলে তিনি স্পষ্ট করে কিছু বলতে পারেননি।
তারেক রহমান স্ত্রী ডা. জোবাইদা রহমান ও কন্যা জাইমা রহমানকে নিয়ে লন্ডনের কিংস্টন এলাকার একটি ভাড়া বাড়িতে বসবাস করছেন। পাশের একটি বাড়িতে থাকেন তার ছোট ভাই মরহুম আরাফাত রহমান কোকোর স্ত্রী সৈয়দা শর্মিলা রহমান সিথি ও তার দুই কন্যা।
উল্লেখ্য, ২০০৭ সালের সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে গ্রেপ্তারের পরের বছর প্যারোলে মুক্তি পেয়ে চিকিৎসার জন্য যুক্তরাজ্যে যান তারেক রহমান। কথা ছিল চিকিৎসা শেষে তিনি দেশে ফিরবেন।
তবে দুর্নীতিসহ নানা মামলার আসামি তারেককে আদালতে হাজির হওয়ার একাধিক নির্দেশ তিনি উপেক্ষা করেছেন। এর মধ্যে চারটি মামলাতে সাজাও হয়ে গেছে।
২১ আগস্ট গ্রে নে ড হামলা মামলায় ২০১৮ সালের ১০ অক্টোবর বিচারিক আদালতের রায়ে যে ৪৯ জনের সাজা দেয়া হয়, তাতে তারেক পান যাবজ্জীবন কারাদণ্ড। তিনি আরও তিনটি মামলায় মোট ১৯ বছরের কারাদণ্ড প্রাপ্ত। পাশাপাশি জরিমানা হয়েছে ২২ কোটি টাকার বেশি।
