মোংলা বন্দরের পশুর চ্যানেল দিয়ে অবৈধভাবে পণ্য পরিবহন

শেখ রাসেল, বাগেরহাট প্রতিনিধি: সার্ভে সনদ নেই, তারপরও মোংলা বন্দরের পশুর চ্যানেল দিয়ে অবৈধভাবে পণ্য পরিবহন করে চলছে অহরহ নৌ যান। হচ্ছে দূর্ঘটনার শিকারও।

 

সর্বশেষ সোমবার রাতে এ চ্যানেলের হারবাড়িয়া এলাকায় বিদেশি জাহাজের সঙ্গে ধাক্কা লেগে ডুবে গেছে কয়লা বোঝাই একটি বাল্কহেড। এভাবে চলতি বছরের ১১ মাসেই পাঁচটি নৌ যান ডুবির ঘটনা ঘটেছে। দূর্ঘটনার শিকার এসব নৌ যান চলাচলের জন্য নৌ পরিবহন অধিদপ্তরের কোন সার্ভে সনদ ছিলনা।

 

মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের হারবার মাষ্টার ও সচিব কমান্ডার শেখ ফখর উদ্দিন বাংলা ট্রিবিউনকে এই তথ্য জানিয়ে বলেন, সোমবার ডুবে যাওয়া ফারদিন-১ নামে বাল্কহেডটিরও সার্ভে সনদসহ আমদানি হওয়া পণ্য পরিবহনের অনুমতি ছিলনা।

 

বেআইনীভাবে চলা দূর্ঘটনার শিকার এই বাল্কহেডটিকে ১৫ দিনের মধ্যে উঠাতে এর মালিককে চিঠি দেওয়া হয়েছে। বন্দরের নিরাপদ নৌ চ্যানেলের স্বার্থে জরুরিভিত্তিতে এই নির্দেশ দেওয়া হয় বলেও জানান তিনি।

 

পিরোজপুরের স্বরুপকাঠী এলাকার বাসিন্দা এম ভি ফারদিন-১ এর মালিক ফজলুল হক খোকন বাংলা ট্রিবিউনের কাছে এই সত্যতা স্বীকার করে বলেন, ইতোমধ্যে নৌযানটি উত্তোলন করতে কাজ শুরু করেছেন তিনি। ১৫ দিন সময় লাগবেনা দাবি করে তিনি আরও বলেন এক সপ্তাহের মধ্যেই এটি উঠাতে সক্ষম হবেন।

 

খোকন বলেন এই বাল্কহেডটি মানিক নামে এক ব্যক্তিকে চাটর্ডে ভাড়া দিয়েছিলেন। কিন্তু এটিতো বালু টানার বোট কিভাবে কয়লা পরিবহন হচ্ছিল সেটি তিনি বুঝতে পারছেনা বলেও এই প্রতিবেদককে জানান তিনি।

 

হারবার মাষ্টার কমান্ডার শেখ ফখর উদ্দিন বলেন, মোংলা বন্দর চ্যানেলে চলতি বছরে মোট পাঁচটি নৌ যান ডুবির ঘটনা ঘটে। গত ২৭ ফেব্রুয়ারি ৭৫০ মেট্রিক টন কয়লা নিয়ে এম ভি বিবি-১১৪৮, ৩০ মার্চ ৫১০ মেট্রিক টন কয়লা নিয়ে এমভি ইফসিয়া মাহিন, ৮ অক্টোবর ১২০০ মেট্রিক টন পাথর নিয়ে এম ভি বিউটি অব লোহাগড়া-২, একই দিনে ৮৫২ মেট্রিক টন ড্যাপ সার নিয়ে এম ভি দেশ বন্ধু এবং সর্বশেষ ৩৭০ মেট্রিক টন নিয়ে কয়লা নিয়ে গত সোমবার (১৫ নভেম্বর) রাতে হাড়বাড়িয়া এলাকায় ডুবে যায় ফারদিন-১ নামে একটি বাল্ডহেড। এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত পাঁচজনের প্রানহানির ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে দুই জনের মরদেহ মঙ্গলবার (১৬ নভেম্বর) রাতে উদ্ধার হয়।

 

এদিকে বিভিন্ন সময়ে দূর্ঘটনার সম্মুখিন হয়েছে যেসব নৌযান তার কোনটিরই সার্ভে সনদ ছিলনা বলে মোংলা বন্দরের হারবার বিভাগ নিশ্চিত করেছে।

 

এ প্রসঙ্গে নৌ পরিবহন অধিদপ্তরের (ডিজি শিপিং) পরিচালক বদরুল হাসান লিটন বলেন, পণ্য পরিবহনের জন্য বিভিন্ন নৌ যানের সার্ভে ওরেজিষ্ট্রেশন আমরা দিয়ে থাকি, কিন্তু যেসব নৌ যান সার্ভে সনদ না নিয়ে নদীতে চলাচল করে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থার নেওয়া দায়িত্ব শুধু আমাদের একার নয়।

 

তিনি দাবি করেন, পুলিশ, কোস্টগার্ড, বন্দর কর্তৃপক্ষ ও বিআই ডাবলুটিএ অবৈধভাবে চলা নৌ যানের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে মেরিন কোর্টে মামলা দিবে। আর সার্ভে সনদ না থাকা নৌ যানের বিরুদ্ধে ৩৩ ধারায় ব্যবস্থা নেওয়ার কথা আছে বলেও জানান তিনি। কিন্তু এসব সংস্থার দায়িত্ব অবহেলা আছে কিনা সে বিষয়ে তিনি মন্তব্য করতে রাজী হননি।

 

এদিকে সোমবার মোংলা বন্দরের পশুর নদীর হারবাড়িয়া এলাকায় বানিজ্যিক জাহাজের ধাক্কায় কয়লাবাহি বাল্কহেড জাহাজ ডুবির ঘটনায় তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষ। কর্তৃপক্ষের সহকারী হারবার মাষ্টার আমিনুর রহমানকে প্রধান করে এ তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির অন্য দুই সদস্য হচ্ছেন মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের সিনিয়র পাইলট রিয়াজুর রহমান ও নির্বাহী প্রকৌশলী (নৌ নির্মান) অনুপ চক্রবর্ত্তি।

 

আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে এ কমিটিকে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। এর আগে মঙ্গলবার (১৬ নভেম্বর) রাতে ডুবে যাওয়া বাল্কহেড জাহাজ এর মধ্যে থেকে জাহাজের চালক মহিউদ্দিন ও নূর ইসলাম নামের দুই জনের মরাদেহ উদ্ধার করেছে কোস্টগার্ড।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *