নজর২৪, ঢাকা- টাঙ্গাইলের সন্তোষে মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর কবরে শ্রদ্ধা নিবেদনে যাওয়ার পথে গণঅধিকার পরিষদের আহ্বায়ক ড. রেজা কিবরিয়া ও সদস্যসচিব নুরুল হক নূরসহ দলটির নেতা-কর্মীদের ওপর হামলা চালিয়েছেন মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (মাভাবিপ্রবি) শাখা ছাত্রলীগ নেতা-কর্মীরা। এ সময় গণঅধিকার পরিষদের বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে ফেসবুক লাইভে এসে অভিযোগ করেছেন রেজা কিবরিয়া।
বুধবার (১৭ নভেম্বর) দুপুর পৌনে ১২টার দিকে এ হামলার ঘটনা ঘটে।
এ বিষয়ে রেজা কিবরিয়া ফেসবুক লাইভে বলেন, ‘আমরা আজকে আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের আসল রূপ দেখলাম। একজনের মাজারে আমরা ফুল দিতে গেছি, সেখানে তারা…পুলিশ কিছু করতে পারেনি। প্রায় ১০-১৫ পুলিশ ছিল। যখন ছাত্রলীগ আমাদের আক্রমণ করেছে তারা সরে গেছে। হয়তো তারা ভয়ে সরে গেছে, না হয় তাদের কোনো ইনস্ট্রাকশন আছে। আমি জানি না। তারা ঠিক প্রটেকশন দিতে পারেনি।
‘এখন আশা করি, তারা এ ব্যাপারে সক্রিয় হবে। প্রটেকশন দেবে। আমাদের অনেক ছেলে আহত হয়েছে এবং ছাত্রলীগের যারা এটার পেছনে আছে তাদের যেন দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেয়া হয়। এই দাবিটা আমরা করি। এখন আমরা থানায় যাচ্ছি।’
এদিকে জেলা ছাত্রলীগ ও যুবলীগ সমন্বিতভাবে এই হামলা চালিয়েছে অভিযোগ করে নুর গণমাধ্যমকে বলেন, ‘মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর ৪৫তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে তার মাজারে শ্রদ্ধা নিবেদন করতে গিয়েছিলাম। সেসময় আমার সঙ্গে দলের নেতা-কর্মীরাও ছিলেন। হঠাৎ আমাদের ওপর জেলা ছাত্রলীগ ও যুবলীগের সদস্যরা অত র্কি ত হা মলা চালায়।’
‘আমাদের লক্ষ্য করে গু লি চালানো হয়েছে। আমার মাথায় ইট-পাটকেল পড়েছে। কতজন আহত হয়েছেন ঠিক বলতে পারছি না’, যোগ করেন তিনি।
নুর আরও বলেন, ‘পুলিশ আমাকে উদ্ধার করে টাঙ্গাইলের কাগমারী ফাঁড়িতে নিয়ে এসেছে। আমি এখন পুলিশের নিরাপত্তায় আছি।’
এ বিষয়ে মাভাবিপ্রবির ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক নিবিড় পাল বলেন, ভাসানীর মাজারে দলমত-নির্বিশেষে শ্রদ্ধা জানাতে গিয়েছিলাম আমরা। নুর ও তার লোকজন শ্রদ্ধানিবেদন শেষে সরকারবিরোধী বক্তব্য ও অরাজকতা করছিল। এ সময় তাদের এসব বিষয়ে নিষেধ করা হলে তারা ছাত্রলীগের ওপর চড়াও হয়ে হামলা চালায়।
তিনি আরও বলেনর, তারা এমনভাবে ব্যানার তৈরি করেছে তাতে লাঠিসোটা দিয়ে তৈরি করা। পরে দুপক্ষের মধ্যে হা মলার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় রানা নামের এক ছাত্রলীগ নেতা আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
এ বিষয়ে টাঙ্গাইলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) সরওয়ার হোসেন জানান, গণঅধিকার পরিষদের নেতারা মওলানা ভাসানীর মাজারে কাছাকাছি পৌঁছানোর পর হা মলার ঘটনা ঘটে। এক পর্যায়ে ড. কিবরিয়া ও নুরসহ গণঅধিকার পরিষদের নেতাকর্মীদের পুলিশি নিরাপত্তায় ঘটনাস্থল থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়। এ সময় আমাদের দু-তিনজন সদস্য আহত হয়েছেন। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে।
